জুলাই জাতীয় সনদ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার চার মাস পর অবশেষে এই সনদে সই করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে এনসিপির পক্ষে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন এই সনদে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ, কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন। এনসিপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলের যুগ্ম সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম মূসা, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, মনিরা শারমিন ও জাবেদ রাসিন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এনসিপির এই সনদে স্বাক্ষর করবে বলেই জাতির বিশ্বাস ছিল, আজকে সেই বিশ্বাস পূর্ণতা পেলো, জুলাই জাতীয় সনদ পূর্ণতা পেলো। এনসিপিকে ধন্যবাদ এই মহতি কাজে অংশগ্রহণের জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই দলিল যেন নতুন বাংলাদেশকে মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে গড়তে প্রতিটি পদে পদক্ষেপ রাখে তার জন্য প্রতি মুহূর্তে সচেতন থাকতে হবে। আগামীকাল নতুন সংসদের সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। সকলের সামনের দিনগুলোতে শুভ হোক।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আগামীকাল শপথ গ্রহণ করবেন। আমরা একই সঙ্গে দুটো শপথ গ্রহণ করতে যাচ্ছি। আমাদের ওপর দেশের মানুষ যে আস্থা রেখেছে আমরা তা বাস্তবায়ন করবো। জুলাই সনদে সবার শেষ স্বাক্ষর করলেও এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আমরা ছিলাম সর্বোচ্চ তৎপর।’
গত বছরের ১৭ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা জুলাই জাতীয় সনদে আনুষ্ঠানিকভাবে সই করেন। তবে ওই সময় এনসিপি এই সনদে সই করেনি। কয়েকটি দাবি পূরণ না হওয়ায় দলের নেতারা স্বাক্ষর অনুষ্ঠানেও যাননি। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে ছিল—জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের খসড়া স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগেই প্রকাশ করা, সনদের বাস্তবায়ন আদেশ প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে জারি হওয়া, জনগণ গণভোটে সনদের পক্ষে রায় দিলে নোট অব ডিসেন্টের (ভিন্নমত) কার্যকারিতা না থাকা, গণভোটের রায় অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদের ওপর প্রদত্ত গাঠনিক ক্ষমতাবলে সংবিধান সংস্কার করা এবং সংস্কার করা সংবিধানের নাম ‘বাংলাদেশ সংবিধান, ২০২৬’ করা।