মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অতীতের মতো বর্তমানেও সরকার প্রবাসীদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
আজ শুক্রবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসী মোশাররফ হোসেনের মরদেহ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, নিহত মোশাররফ হোসেনের পরিবারের জন্য সরকারিভাবে সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং বিধি অনুযায়ী প্রাপ্য সব সুবিধা দেওয়া। এ ছাড়া তার দুই সন্তানের পড়ালেখার ব্যয় বহন করবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
আরিফুল হক বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষে যারা পুনরায় বিদেশে কাজে ফিরতে চাইবেন, তাদের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।
মরদেহ হস্তান্তরের সময় নিহতের পরিবারকে দাফন-কাফনের জন্য ৫০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে ঈদের পর পরিবারটিকে তিন লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
এ সময় উপস্থিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বলেন, নিহতের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট মিশনগুলো প্রবাসীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রয়োজন হলে প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতিও রয়েছে সরকারের।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবের আল-খারাজ এলাকায় ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত হন মোশাররফ হোসেন। তার মরদেহ সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে শুক্রবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়। নিহতের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর উপজেলার কীর্তনখোলা গ্রামে। তার বাবার নাম সূরজত আলী।
মরদেহ গ্রহণের সময় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।