হোম > জাতীয়

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক শুধু লেনদেনের নয়: ভারতীয় হাইকমিশনার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

‘পাওয়ার অ্যান্ড প্রুডেন্স: ম্যানেজিং গ্রেট-পাওয়ার কমপিটিশন উইদাউট কনফ্লিক্ট’ শীর্ষক অধিবেশনে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ছবি: আজকের পত্রিকা

ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, দুই দেশের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও আস্থাই এ সম্পর্ককে বিশেষ করে তুলেছে।

আজ শনিবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর ‘পাওয়ার অ্যান্ড প্রুডেন্স: ম্যানেজিং গ্রেট-পাওয়ার কমপিটিশন উইদাউট কনফ্লিক্ট’ শীর্ষক অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আমি ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছি। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে, তা আমি বুঝি। এই সম্পর্ক শুধু লেনদেনের সম্পর্ক নয়, এর চেয়েও অনেক বেশি কিছু। এই সাংস্কৃতিক বন্ধন অত্যন্ত গভীর ও শক্তিশালী।’

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ গণতান্ত্রিকভাবে তাদের সরকার নির্বাচন করেছে। বাংলাদেশ যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটি বাংলাদেশের সরকারের সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশকে কী করা উচিত, তা বলার অধিকার কারও নেই।’

হাইকমিশনার বলেন, ‘অন্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ওপর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নির্ভর করে না। বাংলাদেশ তার জনগণের স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে। প্রতিবেশী হিসেবে একে অপরের মর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখানোই দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি।’

দুই দেশের মধ্যে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা সংলাপ, আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ‘একটি পরিবারে যেমন নানা ধরনের সমস্যা বা মতপার্থক্য থাকে, দুই দেশের সম্পর্কেও তেমন বিষয় থাকতে পারে। গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। এসব বিষয় সংলাপ ও পরামর্শের মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। আর সংলাপের ভিত্তি হলো বিশ্বাস।’

ভারতীয় হাইকমিশনার আরও বলেন, ‘যখন কোনো দুর্যোগ বা সংকট আসে, তখন ভালো প্রতিবেশী হিসেবে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো দায়িত্ব। একই সঙ্গে কোনো প্রতিবেশীরই অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিতে হস্তক্ষেপ করার কারণ নেই।’

ভারত-বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে নজরুলগীতি এবং ভারতে রবীন্দ্রসংগীতের চর্চার মধ্যেও দুই দেশের গভীর সাংস্কৃতিক যোগসূত্র রয়েছে।’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই দেশের জাতীয় সংগীত রচনা করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দুই দেশের এ সম্পর্ক সত্যিই অনন্য।’

দুই দেশের সম্পর্ক সব সময় এগিয়ে চলার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে যে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা তিনি দেখতে পাচ্ছেন, তাতে তিনি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।