হোম > জাতীয়

মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক: দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা ও বিদ্যুতে অগ্রাধিকার

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা

সচিবালয়ে বিএনপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার পবিত্র রমজান উপলক্ষে প্রাথমিকভাবে তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে। এগুলো হলো দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।

নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টাদের নিয়ে গতকাল বুধবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এসব অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বেলা ৩টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে এই বৈঠক হয়।

মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নির্বাচনের আগে বিএনপির দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনাও নেবে সরকার। এ লক্ষ্যে সব মন্ত্রণালয়ের কাছে পরিকল্পনা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি সবার আগে কীভাবে ফ্যামিলি কার্ড মানুষের হাতে তুলে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে সচিবদের নির্দেশনা দেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা বিএনপি গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠন করে। দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ে যান। বেলা ৩টায় ১ নম্বর ভবনে মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টাদের নিয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে তিনি মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক করেন।

বৈঠকের পর তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার হচ্ছে পবিত্র রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে মানুষের সহনীয় রাখা এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা।

বিশেষ করে তারাবি ও ইফতারের সময়। এগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা কর্মপরিকল্পনা দু-এক দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের কিছু অনুশাসন দিয়েছেন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার ১৮০ দিনের একটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করছে। সেটি পরে জানানো হবে। সরকারের অগ্রাধিকার বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা ও সরবরাহ ঠিক রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা রয়েছে। এগুলো হলো অগ্রাধিকার।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, জনগণের জন্য প্রতিটি মন্ত্রণালয় কীভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। বিএনপি মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলো মনে রেখে মন্ত্রণালয়গুলোকে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

সরকারের অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে শিগগির প্রধানমন্ত্রী ১৮০ দিনের রোডম্যাপ উপস্থাপন করবেন বলে জানান অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, নির্বাচনকালে যে অঙ্গীকারগুলো করা হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখনই শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিষয়ে মন্ত্রিসভার সদস্যদের কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাকি জানান, ১৮০ দিনের পরিকল্পনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে আলোচনা তুলেছেন। খুব দ্রুত সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

ফ্যামিলি কার্ডে জোর

মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সচিবদের বলেছেন, জনগণ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী রায় দিয়েছেন। সুতরাং সংবিধান ও আইন-বিধি অনুযায়ী ওই নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সচিবেরা আন্তরিক হবেন, সেই আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সবাইকে আমরা বলেছি, কে, কার কী অ্যাফিলিয়েশন (সম্পৃক্ততা) আছে, সেটি আমরা দেখব না। আমরা মেধার ভিত্তিতে সবাইকে যাচাই করব।’

বৈঠকের পর ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ জানান, বিএনপির ইশতেহার যেন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পূরণ হয়, সে জন্য সব সচিবের মেধাকে কাজে লাগিয়ে পেশাদারদের সঙ্গে কাজ করা এবং দেশের জন্য ভালো হয়, এমন বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন সচিব আজকের পত্রিকাকে বলেন, সবার আগে ফ্যামিলি কার্ড কীভাবে দ্রুত মানুষের হাতে তুলে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে সচিবদের পদক্ষেপ নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া কৃষক কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ড কীভাবে দেওয়া যায়, সে বিষয়েও পরিকল্পনা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, ‘সরকারের যে কমিটমেন্ট, বিশেষ করে নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জনসভায় যে বিষয়গুলো বলেছেন—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, সেগুলো কীভাবে অবিলম্বে কিছু দৃশ্যমান কাজ করা যায়, সেই বিষয়গুলো নিয়ে তিনি আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সচিবালয়ে আগমন উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। নবনির্মিত ১ নম্বর ভবনের চারপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। এই ভবনে অফিস থাকা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয়পত্র যাচাই করে আর্চওয়ে পার হয়ে ভবনে ঢুকতে হয়েছে।

যানজট এড়াতে মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে সচিবালয়ে

সরকারি গাড়ির পরিবর্তে নিজের গাড়িতেই চলাফেরা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বুধবার বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন এ কথা জানান। যানজট এড়াতে প্রধানমন্ত্রী এখন থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বদলে সচিবালয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজের গাড়ি, নিজের চালক ও নিজের ক্রয় করা জ্বালানি ব্যবহার করবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না।’

দায়িত্ব নেওয়ার পর গতকাল প্রথম কর্মদিবসে সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শেরেবাংলা নগরে বাবা-মায়ের সমাধিস্থল ও সচিবালয়ে নিজের গাড়িতেই চলাচল করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

রুমন বলেন, ‘যানজটের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাঁর গাড়িবহরে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে ফেলা হয়েছে। এত দিন বহরে ১৩-১৪টি গাড়ি থাকত। আজ সেটা কমিয়ে ৪টি করা হয়েছে।’

বিএনপির মিডিয়া সেলের এ সদস্য আরও জানান, শপথ নেওয়ার পর প্রথম দিনের কর্মসূচিতে পতাকাবিহীন গাড়ি ব্যবহার করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান অথবা বিদেশি অতিথিদের সফরের সময় তাঁর গাড়িতে পতাকা ব্যবহার করা হবে।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এখন থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠক সচিবালয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক হলে সব মন্ত্রীর সচিবালয় থেকে আসতে একটা জট সৃষ্টি হয়। ভিআইপি চলাচলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির মুখে পড়ে। সেসব কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী বেশির ভাগ সময় সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে সড়কের দুই ধারে পোশাকধারী পুলিশের অবস্থানের যে নিয়ম, তা-ও বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

গতকাল সকালে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গুলশানের বাসা থেকে নিজের গাড়িতে চড়ে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান প্রধানমন্ত্রী। সাভার থেকে তিনি শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত বাবা-মা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। দুই জায়গাতেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যরা ছিলেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে গিয়ে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে অংশ নেন।

আয়ুষ্কাল ফুরানো যান স্ক্র্যাপ করলে অন্য গাড়ির নিবন্ধন

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব হলেন আব্দুর রহমান সানি

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হলেন আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব হলেন আতিকুর রহমান রুমন

উন্নয়নের মহাসড়কে না হাঁটলে বুঝতেই পারবেন না, আমরা কত পিছিয়ে আছি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সকল সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর বিএনপি সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দলমত, ধর্ম, দর্শন যার যার, রাষ্ট্র সবার: প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির কোনো এমপি প্লট নেবেন না, এটি মহানবীর ‘ন্যায়পরায়ণতার’ আদর্শ: প্রধানমন্ত্রী

রমজানে নিরবচ্ছিন্ন পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী