চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হওয়ায় বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী, আইনজ্ঞ ও বিচারক নাভানেথেম নাভি পিল্লাইকে অভিনন্দন জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিনন্দন বার্তা দিয়েছে সংস্থাটি।
আসক মনে করে, নাভি পিল্লাইয়ের এই অর্জন তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবনের স্বীকৃতির পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারকর্মী ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। সংঘাত ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে এই স্বীকৃতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনামলে নিপীড়িত মানুষের অধিকার রক্ষায় আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন নাভি পিল্লাই। পরবর্তী সময়ে তিনি রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সভাপতি; আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক এবং ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রুয়ান্ডার গণহত্যার বিচারকাজে তাঁর ভূমিকা যৌন সহিংসতার শিকার ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নাভি পিল্লাই ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার দায়ের করা গণহত্যা সনদ লঙ্ঘনের মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে বিশেষভাবে নিযুক্ত বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা এবং গুরুতর অপরাধের দায়মুক্তির অবসানে তার এই ভূমিকা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) নাভি পিল্লাইকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তার অবদানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।
আসক মনে করে, টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সংঘাতের অবসানের পাশাপাশি ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রই আন্তর্জাতিক আইনের ঊর্ধ্বে নয়-এই নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন মানবাধিকার সুরক্ষা ও ন্যায়ভিত্তিক শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম শর্ত।