হোম > জাতীয়

সরকার এই অর্থবছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায়: মীর শাহে আলম

বাসস, ঢাকা  

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: বাসস

স্থানীয় সরকার নির্বাচন চলতি অর্থবছরের মধ্যে শেষ হোক, সরকার এমনটা চায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ‘সরকারের চাওয়া এই অর্থবছরের মধ্যে নির্বাচন কমিশন যেন নির্বাচনগুলো শেষ করে। তবে শুরু কবে সেটা নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে। আর আমি যদি শুরুটা বলে দেই, এটা নির্বাচন কমিশনের জন্য বিব্রতকর হবে।’

আজ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানসমূহে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান প্রতিমন্ত্রী।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের তো দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি। নির্বাচনের সময় হলে বলা যাবে যে প্রতিক্রিয়াটা কী হচ্ছে।

সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন এবং জেলা পরিষদ এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের জন্য স্থানীয় সরকার ৩৭০ কোটি টাকা ছাড় করেছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, রাস্তাঘাট, ড্রেন, কালভার্টের মতো সৌরবিদ্যুৎও সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ, তাই এই খাতে ব্যয় করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তিন হাজার ইউনিয়ন পরিষদে আমরা বরাদ্দ দিয়েছি ১২০ কোটি টাকা। প্রতি ইউনিয়নে ৩ লাখ ৫০ হাজার করে দিয়েছি। ৫.৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব একটা আয় আছে। হাট-বাজার থেকে তারা ৫ শতাংশ আয় এবং ভূমি রেজিস্ট্রেশন থেকেও তারা ১ শতাংশ পায়। আপনারা আমাদের টাকার সঙ্গে আপনাদের রাজস্ব যোগ করে ডাবল বিদ্যুৎ উৎপাদন করবেন। নিজেরা ব্যবহার করবেন এবং জাতীয় গ্রিডে দেবেন।’

তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদে ১২০ কোটি টাকা, সিটি করপোরেশনগুলোকে ৭৫ কোটি টাকা, উপজেলা পরিষদে ৯৯ কোটি টাকা, পৌরসভাতে দিয়েছি ৬৪ কোটি টাকা, জেলা পরিষদে ১২ কোটি দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন এবং জেলা পরিষদের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের জন্য দেওয়া হয়েছে ৩৭০ কোটি টাকা।’

অর্থ ছাড়ের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ‘যে টাকা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় করা হচ্ছে এটা আবার সামলে ওঠা যাবে। নিজেদের ব্যবহারের পর উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ১০ টাকা ৫০ পয়সা হিসেবে সরকারের কাছে বিক্রি করলে আগামী ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে ব্যয়কৃত অর্থ উঠে আসবে। পরবর্তী ২০ বছর পর্যন্ত যে গ্যারান্টি-ওয়ারেন্টি থাকবে, এই সময়গুলোতে আমরা রাজস্ব হিসেবে অতিরিক্ত যে আয় তা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো পাবে। সরকারি টাকার পাশাপাশি তাদের সবারই নিজস্ব ইনকামের একটি ব্যবস্থা আছে। খেয়াঘাট, হাট-বাজার, পৌরসভার মধ্যে পরিবহন যাতায়াতে ট্যাক্স রয়েছে। এ রকম বিভিন্ন খাত থেকে, ট্রেড লাইসেন্স থেকে, হোল্ডিং থেকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো ট্যাক্স আদায় করে। তাদের রাজস্ব আহরণের ব্যাপারে নীতিমালা আছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এই রাজস্ব আহরণের সঙ্গে পুনর্ব্যবহারযোগ্য (নবায়নযোগ্য) জ্বালানি থেকে আয়ের পথ করে দেওয়া হচ্ছে। এই বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নিজেরাও ব্যবহার করল এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরকারের কাছে, বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে বিক্রি করলে নিজস্ব রাজস্ব আয় হবে।