বেতন জটিলতায় পড়েছেন যুগ্ম জেলা জজ পদমর্যাদার ১৭ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা। দুই মাস বেতন না পাওয়ার পর তৃতীয় মাসেও জটিলতার আশঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা। দ্রুত বেতনসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন এই বিচারকেরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর আওতায় জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ওই সংস্থার আওতায় সারা দেশে গরিব-অসহায় মানুষদের বিনা মূল্যে আইনগত সহায়তা দেয় সরকার। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত ২৬ জানুয়ারি একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। যেখানে আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা পরিবর্তন করে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর নাম দেওয়া হয়।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে গত ৯ জুন একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ৬৪ জেলায় ৬৪টি, আট মহানগরে আটটি এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের জন্য দুটিসহ মোট ৭৪টি চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারের পদ সৃষ্টি করে। এসব পদে যুগ্ম জেলা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের নিয়োগের বিধান রাখা হয়।
পদ সৃষ্টির বিপরীতে গত ১ জুলাই ১০ জেলায় ও ৫ জুলাই সাত জেলায় মোট ১৭ জন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। প্রজ্ঞাপনের পর তাঁরা সংশ্লিষ্ট জেলায় চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে যোগ দেন। তবে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজে যোগ দিলেও তিন মাসের বেতন নিয়ে জটিলতায় পড়েছেন ১৭ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা।
বেতন জটিলতায় থাকা একাধিক বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকের পত্রিকাকে জানান, তাঁরা গত জুলাই ও আগস্ট মাসের বেতন পাননি। সেপ্টেম্বর মাসের বেতন পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আর বেতন না পেয়ে বাসাভাড়াসহ সংসার চালাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে তাঁদের। তাই দ্রুত তাঁদের বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন জটিলতায় থাকা বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা।
এদিকে আগে নিয়োগ পাওয়া ১৭ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা বেতন জটিলতায় থাকার মধ্যেই ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন করে ১৬ জনকে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারের পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। আর আগে নিয়োগ করা ব্যক্তিদের সমস্যা সমাধান না হওয়ায় নতুন করে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারাও হতাশায় রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রথমে ওই অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো প্রস্তুত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হয়। সেখানে ভেটিং শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ে কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে তা আবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এরপরই অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার আদেশ জারি হওয়ার কথা। তবে আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এসব ধাপ অতিক্রম না করে সরাসরি আদেশ জারি করা হয়েছে। যার কারণে অর্থ মন্ত্রণালয় চিফ লিগ্যাল এইড অফিসারদের পদ বেতনের জন্য অন্তর্ভুক্ত করার অনুমতি দেয়নি।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ সাড়া দেননি।
জানতে চাইলে জাতীয় আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন বলেন, ‘এই বিষয়ে আমরা কাজ করছি। আশা করছি, চার-পাঁচ দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।’