দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিন মন্ত্রণালয়ে এসেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) বলেছেন, তৎকালীন মেজর ও পরে রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
এ দিন মন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস সংরক্ষণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আজ বুধবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়ে এসব কথা বলেন নবনির্বাচিত মন্ত্রী। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের প্রেরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়েছে।
স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত হয়নি—এমন মন্তব্য করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে এলে তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান ও আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট (ইবিআর) ও ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের (ইপিআর) সদস্যরা মুক্তিবাহিনী গঠন করেন, যার ফলে বীরত্বের সঙ্গে জীবন বাজি রেখে লড়াই করে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় লাভ করে।
মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত, যেখানে তরুণ সমাজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। তিনি একাত্তরের রণাঙ্গনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, সে সময় বাঙালিরা বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হয়েও অসীম সাহসিকতায় স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিপুলসংখ্যক ছাত্র-যুবক ও সাধারণ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছে। পাকিস্তানি বাহিনী একটি জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়েছিল আর জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখেই তাদের পরাজয় ঘটে।
মন্ত্রী কর্মকর্তাদের সময়ানুবর্তিতা, পেশাগত নিষ্ঠা ও সেবামুখী মনোভাব নিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সেবা করাই সবার প্রধান দায়িত্ব বলেও জানান তিনি। সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।