সৌদি আরবে আটকে পড়া বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে কর্মস্থলে ফেরানোর জন্য দ্বিপক্ষীয় আলোচনার চেষ্টা করছে সরকার। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই আলোচনা কিছুটা কঠিন বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) একটি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব কর্মীর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, তাঁদের ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে কর্মসংস্থানে ফেরানোর বিষয়ে সৌদি আরবসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। এর আগে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর বলেন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এ ধরনের বিষয়ে সাধারণত আন্তরিক থাকে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। সৌদি আরবও বর্তমানে সংকটের মধ্যে থাকায় আলোচনা চালানো কঠিন। তারপরও একটি সমাধান হবে বলে আশা করছেন তিনি।
রিয়াদে সাম্প্রতিক হামলায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হতাহত হওয়ার ঘটনায় সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ঘটনার পর থেকেই রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের খোঁজখবর নিয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা ও নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে আসছে।
নুরুল হক বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। এই দুর্যোগের সময়ে দেশটির কাছে সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি তাদের পাশে দাঁড়ানোও বাংলাদেশের নৈতিক দায়িত্ব। সরকার নিজস্ব উদ্যোগে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দিচ্ছে।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী কিছু কোম্পানি কর্মীদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে। এ ছাড়া জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মাধ্যমে নিবন্ধিত কোনো কর্মী বিদেশে নিহত হলে সরকারিভাবে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের বিদেশগামী শ্রমশক্তির প্রায় ৭৫ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যমুখী। তাঁদের অর্ধেকের বেশি সৌদি আরবে যান। যুদ্ধের কারণে গত কয়েক মাসে বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা কিছুটা কমলেও তা আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নুরুল হক বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের পুনর্গঠনকাজে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সেখানে বাংলাদেশি কর্মীরা অগ্রাধিকার পাবেন বলে সরকার আশা করছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার কাজও চলছে।
দেশে ফিরে আসা কর্মীদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পুনরেকত্রীকরণ প্রকল্পের আওতায় তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পূর্ব অভিজ্ঞতার সনদ মূল্যায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় সরকারিভাবে বিনা অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী পাঠানোসহ সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।