সরকারি চাকরির নিয়োগ ও পরীক্ষায় রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ৪৯তম বিসিএসসহ সব নিয়োগে বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ, দণ্ড বা আইনি জটিলতা থাকলে আইন ও বিধি অনুযায়ী তা যাচাই করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
৪৯তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারি কর্ম কমিশন ৬৬৮ জনকে সুপারিশ করেছিল। তাঁদের মধ্যে তিনজন চূড়ান্ত সনদ জমা দিতে পারেননি এবং আটজন মেডিকেল পরীক্ষায় উপস্থিত হননি। ফলে ৬৫৭ জনের মধ্যে ৬১১ জনের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে। অন্য ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন জারির জন্য আগামী সোমবার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সময় অ্যাপিয়ার্ড সার্টিফিকেট দিয়ে আবেদন করা গেলেও চূড়ান্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রভিশনাল সার্টিফিকেটসহ প্রয়োজনীয় সনদ জমা দিতে হয়। যাঁরা সনদ জমা দিতে পারেননি, তাঁদের বিষয়টি নিয়োগপ্রক্রিয়ার বাধ্যতামূলক শর্তের সঙ্গে সম্পর্কিত।
মেডিকেল পরীক্ষায় উপস্থিত হওয়াও নিয়োগের বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পুলিশ যাচাইকেও নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এমন বিতর্ক তৈরি করা ঠিক নয়।
বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্যই আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে বলে মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, কোনো পরীক্ষা বা নিয়োগে সে কারণে কারও প্রতি বৈষম্য করা হবে না।
৪৯তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপনে নাম না আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রার্থীর আত্মহত্যার হুমকির প্রসঙ্গও তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করেছেন। ওই প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাচাইসহ নিয়োগের সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত নয়।
কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলে পুলিশ যাচাইয়ের মাধ্যমে তা পরীক্ষা করা হবে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের দণ্ড বা আইনি জটিলতা থাকলে বিধি অনুযায়ী নিয়োগপ্রক্রিয়ায় তার প্রভাব পড়তে পারে। অন্যথায় পরবর্তী সময়ে সরকারি নিয়োগ প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ে কারও প্রতি কোনো বৈষম্য করা হবে না। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির জন্য শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত না করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ৪৯তম বিসিএসের (বিশেষ) চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে ৫৭ জন প্রার্থী বাদ পড়েন। তবে কী কারণে তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তা জানা যায়নি।