হোম > জাতীয়

আইনশৃঙ্খলা

বিলুপ্ত নয়, আরও সক্রিয় করা হচ্ছে র‍্যাবকে

শাহরিয়ার হাসান, ঢাকা 

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্তির দাবি উঠেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের করা গুম কমিশনও র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল। তবে বর্তমান বিএনপি সরকার র‍্যাবকে বিলুপ্ত নয়, বরং সুনির্দিষ্ট আইনের আওতায় বাহিনীটিকে আরও সক্রিয়, জবাবদিহিমূলক ও কাঠামোগতভাবে পুনর্গঠন করে অপরাধ দমনে কাজে লাগাতে চায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এসব জানা গেছে। সূত্র বলছে, এলিট ফোর্স র‍্যাবকে শক্তিশালী করতে ইতিমধ্যে নানান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

র‍্যাবের জন্য নতুন সরঞ্জাম কিনতে বরাদ্দ, আলাদা প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপনের বিষয়েও আলোচনায় রয়েছে। র‍্যাবের জন্য প্রায় ১২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬৩টি গাড়ি কেনারও অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

একই সঙ্গে র‍্যাবের অপারেশনাল কার্যক্রমে নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আলাদা আইনের খসড়া করা হয়েছে। সরকার চায়, একটি সুনির্দিষ্ট আইনের আওতায় র‍্যাব পরিচালিত হবে।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি এলিট ফোর্স প্রয়োজন রয়েছে। এত দিন র‍্যাবের কোনো স্বতন্ত্র আইন ছিল না। যেমন ইচ্ছা তেমন চলেছে। এখন আমরা র‍্যাবকে আইনের আওতায় আনতে চাই। এ বিষয়ে একটি খসড়াও তৈরি করা হয়েছে।’

বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ আটটি বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে র‍্যাব গঠিত হয়। সংঘবদ্ধ অপরাধ ও জঙ্গিবাদ দমনে দ্রুত অভিযানের কারণে শুরুতে র‍্যাব প্রশংসিত হয়। বর্তমানে সারা দেশে র‍্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন রয়েছে। অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তা র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পর ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে র‍্যাবের বিরুদ্ধে। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো বাহিনীটির কর্মকাণ্ড নিয়ে ধারাবাহিকভাবে উদ্বেগ জানাতে থাকে। বিশেষ করে ২০১১-২০১৬ সালের মধ্যে কয়েকটি আলোচিত গুমের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে র‍্যাব তীব্র সমালোচিত হয়।

পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা র‍্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনেও ধারাবাহিকভাবে বাহিনীটির বিরুদ্ধে উদ্বেগ জানানো হয়। সবশেষ ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব ও এর কয়েকজন সাবেক ও তৎকালীন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই সময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ওই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিল, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনে র‍্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে র‍্যাব বিলুপ্তির আলোচনা আরও জোরালো হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি তুলেছিল নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত গুম কমিশন র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে র‍্যাবের দৃশ্যমান অভিযান কমিয়ে পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটের সঙ্গে যৌথ অভিযান বাড়ানো হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপির সরকার। সূত্র বলেছে, বর্তমান সরকার র‍্যাবকে আরও কার্যকর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, পুলিশ বাহিনীর দক্ষতা বাড়াতে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে দুটি নতুন প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর একটি হবে পুলিশের জন্য, অন্যটি র‍্যাবের জন্য। একই সঙ্গে র‍্যাবের জন্য ১৬৩টি গাড়ি কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এসব গাড়ি কিনতে ব্যয় হবে প্রায় ১২২ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, র‍্যাবের জন্য নতুন আইনের খসড়ায় সংবিধান, বিদ্যমান ফৌজদারি আইন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টি রাখা হয়েছে। প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রম, নিয়োগ, পদায়ন, শৃঙ্খলা ও তদারকি—সবই এই আইনের আওতায় পরিচালিত হবে। পাশাপাশি গ্রেপ্তার, তদন্ত ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ক্ষমতাও সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে।

র‍্যাবের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি বিশেষায়িত এলিট ফোর্সের প্রয়োজন রয়েছে।

জানতে চাইলে র‍্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ বলেন, ‘র‍্যাব বিলুপ্তি বা পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত সরকারের বিষয়। এ ক্ষেত্রে বাহিনীটির নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই, র‍্যাব একটি পেশাদার, মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সংস্থা হিসেবে গড়ে উঠুক। ভবিষ্যতে র‍্যাব অত্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারবে।’

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত গুম কমিশনের সিনিয়র সদস্য ছিলেন মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন। দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, সরকার যদি র‍্যাব বহাল রাখতে চায়, তাহলে নতুনভাবে কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে পরিচালনা করা উচিত। তাঁর মতে, র‍্যাবে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সংমিশ্রণ থাকা সমীচীন নয়। এই তিন বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহার করে শুধু পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে র‍্যাব পরিচালনা করা যেতে পারে। তিনি বলেন, আইন ও বিধিমালার আওতায় পরিচালিত একটি পেশাদার ইউনিটই জনগণের আস্থা অর্জনে বেশি কার্যকর হবে।

দেশে এমএফএস অ্যাকাউন্ট ২৪ কোটি, লেনদেন দেড় ট্রিলিয়নের বেশি

ঈদযাত্রায় মোবাইল কোর্ট বাড়ছে ৬৯টি, অতিরিক্ত ভাড়ায় কঠোর নজরদারি: সেতুমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর কাছে মামলার শিকার ২৮২ সাংবাদিকের তালিকা দিল সম্পাদক পরিষদ

মেঘনার ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রকল্প, দ্রুত জরুরি কাজ শুরু: পানিসম্পদমন্ত্রী

গণমাধ্যম কমিশন গঠনে ‘পরামর্শক কমিটি’ করার সিদ্ধান্ত

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাতারের শ্রমমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

ফোর-জি নেটওয়ার্কের আওতায় দেশের ৯৯% মানুষ

ইউনূস সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ডের তদন্ত চেয়ে রিট, আদেশ বৃহস্পতিবার

বিসিবির নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবেন না হাইকোর্ট

চালকের অদক্ষতা ও ত্রুটিপূর্ণ যানেই বেশি সড়ক দুর্ঘটনা: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী