হোম > জাতীয়

দুর্গাপূজায় পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে: আইজিপি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে পুলিশ পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্বকালে এ কথা বলেন আইজিপি। এ বছর প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হচ্ছে।

আইজিপি বলেন, দুর্গাপূজা ঘিরে পুলিশ প্রাক্-পূজা, পূজা চলাকালে এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা-পরবর্তী তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশের পূজাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো মহল বা গোষ্ঠী যাতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। তিনি এ ক্ষেত্রে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আইজিপি দুর্গাপূজার আনন্দঘন পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিবছরের ন্যায় এবারও দুর্গাপূজা নিরাপদে আনন্দঘন পরিবেশে উদ্‌যাপিত হবে।

সভায় অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, এসআরইউর অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম, এসআরবি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজি) মো. আহসান হাবীব পলাশ, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজি জি এম আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সায়েদুর রহমান, রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ভারপ্রাপ্ত) ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান, হাইওয়ে রেঞ্জের অতিরিক্ত আইজি ফারুক আহমেদ, এসবিপ্রধান (অতিরিক্ত আইজি) মো. কামরুল আহসান, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন মজুমদার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিও ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, ট্রাস্টি ও ভাইস চেয়ারম্যান কল্যাণ ফ্রন্ট জয়দেব রায়, পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রূপণ চন্দ্র দাস, ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষক দল পূজা ফ্রন্টের যুগ্ম আহ্বায়ক অলোক বসু, রমনা কালীমন্দিরের সদস্যসচিব শ্রী মিঠুন কুমার দাস, রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের ম্যানেজার স্বামী দেবধ্যানানন্দ, মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ ও সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস সাধন, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, কল্যাণ ফ্রন্টের যুগ্ম মহাসচিব সঞ্জয় গুপ্ত, পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্টের বিপ্লব কুমার পাল প্রমুখ এবং ঢাকাস্থ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার ও নৌ পুলিশের পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়াল সভায় যুক্ত ছিলেন।

সভায় উপস্থিত নেতারা দুর্গাপূজা উপলক্ষে গৃহীত নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে সরকার ও পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট, অপপ্রচার, গুজব বা ছবি আপলোড করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বিভিন্ন ধর্মের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা এবং নিয়মিত পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের জন্যও পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে, সে জন্য পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। পূজা চলাকালে সিসিটিভি সক্রিয় রাখা, পূজামণ্ডপ ও বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলো, স্ট্যান্ড বাই জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা, প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

দুর্গাপূজা চলাকালে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও অন্যান্য পুলিশ ইউনিটে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু থাকবে।