‘সংস্কার’ যা হওয়ার হয়ে গেছে, এখন সংবিধান ‘সংশোধন’ বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। সংবিধান ‘সংস্কার’ নাকি ‘সংশোধন’ দুই ধরনের দাবির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, ‘সংস্কারটা হয়ে গেছে, যা হওয়ার তা হয়েছে। এখন হবে সংশোধন। সংবিধান সংশোধনই হবে, আমরা সেটাই করব।’
আজ শনিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ।
সংবিধান সংশোধনীর জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাবের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘সব দল এমনকি স্বতন্ত্রদের নিয়ে আমরা কাজটা করব। সে জন্য আমরা বিশেষ কমিটির প্রস্তাব করেছি। কিছু নাম আমাদের আছে। তারা (বিরোধী দল) যখন নাম দেবে, তখন আমরা একত্র হয়ে সংবিধান সংশোধন করব। আমরা সকলকে নিয়ে চলতে চাই। আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, ইচ্ছে করলেই করতে পারি, কিন্তু করব না।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, ‘বিরোধী দল যদি বিশেষ কমিটিতে নাম না দেয়—এমন প্রশ্ন করেন কেন? বিরোধী দল নাম দেবেই। কেন দেবে? আমি আত্মবিশ্বাসী কেন? কারণ, সংবিধান সংশোধন ছাড়া কোনো পথ নেই।’
জুলাই সনদের সংবিধান সম্পর্কিত বিষয়গুলো সংবিধানে যুক্ত করার বিষয়ে সকলে একমত উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘এ জন্য সংবিধান সংশোধন করা লাগবে। সংবিধান সংশোধনের বিকল্প আর কিছুই নেই।’
অপর প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, ‘সংবিধানের প্রস্তাবনা পরিবর্তনযোগ্য নয়। মৌলিক অধিকারের ধারাগুলো পরিবর্তনযোগ্য নয়। এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো ধারা সংশোধন করা হলে, যেটুকু সংবিধান সংশোধন করবেন, তা আপনাআপনি বাতিল হয়ে যাবে, এ রকম আইন আছে। সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আইন করা যাবে না। তারপরও সংসদ যদি কোনো কিছু করে ফেলে, সে ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট হচ্ছেন সংবিধানের “কাস্টডি”। এরশাদের সময়ে সব বিভাগে হাইকোর্ট স্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু তা বাতিল করে দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট।’
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ বলেন, ‘গণভোটে ৭২ শতাংশ মানুষ “হ্যাঁ” ভোট দিয়েছে। আমাদের লোকেরা ৫২ শতাংশ ভোট পেয়েছে। তারা তো এটার পক্ষে (গণভোট) ভোট দিয়েছে। আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন জুলাই জাতীয় সনদ দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন সহকারে বাস্তবায়ন করা হবে। আমরা এটা বাস্তবায়ন করব। জামায়াতের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য হচ্ছে—তারাও বাস্তবায়ন চায়, আমরাও চাই। তারা আদেশটা বাস্তবায়ন করতে চায়। আমরা সনদটা বাস্তবায়ন করতে চাই।’