স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শুভেচ্ছা বৈঠকেই কর্মকর্তাদের কড়া বার্তা দিয়েছেন নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মন্ত্রণালয়ের বাইরে তাঁর নাম ও ছবিসংবলিত একটি ব্যানার টানানো নিয়ে এ সময় বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি।
সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আজ বুধবার সন্ধ্যায় শুভেচ্ছা বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ব্যানারটি কে টানিয়েছেন, তা জানতে চান মন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা যারা রাজনীতি করি, তাদের জন্য ব্যানার-ট্যানার থাকতে পারে। কিন্তু কর্মকর্তাদের পেশাদারত্ব বজায় রাখতে হবে। অফিসাররা অফিসারদের মতো থাকবেন, এ ধরনের কাজে জড়াবেন না।’
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সব স্তরের সচিব ও কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগরের পুলিশ কমিশনার ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজিও উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বৈঠকে মন্ত্রী পুলিশ বাহিনীর চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, কোনোভাবেই পুলিশের চেইন অব কমান্ড ভাঙা যাবে না। থানার ওসি যেন সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন না করেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, কোনো ধরনের তদবির বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে উপস্থিত এক পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, প্রথম বৈঠকেই মন্ত্রী মন্ত্রণালয় পরিচালনার ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
গত ১৭ বছরে পুলিশি কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, অতীত নিয়ে তিনি পেছনে ফিরতে চান না। তিনি নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এখন সামনে এগিয়ে গিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য। কাজের মূল্যায়নে তিনি বিশ্বাসী বলেও জানান।
সড়কে জনগণের ভোগান্তির বিষয়েও মন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, মানুষকে দুর্ভোগে ফেলে কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা যাবে না। প্রয়োজনে রাস্তার এক লেন চালু রেখে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। জনগণকে অযথা ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না।
কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিগতভাবে যার যার মত থাকতে পারে, কিন্তু দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তা যেন কোনোভাবেই প্রভাব না ফেলে। মনেরটা মনে রাখবেন, কাজ করবেন মানুষের জন্য।
কথায় কথায় সড়ক অবরোধ করে দাবি আদায়ের চেষ্টা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মব করে রাস্তা বন্ধ করার সুযোগ আর থাকবে না। অতীতে যা হয়েছে, তা হয়েছে। এখন থেকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করা যাবে না।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, দেশে দাবি আদায়ের নামে কোনো ধরনের ‘মব কালচার’ সহ্য করা হবে না। দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে, তবে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় উত্থাপন করতে হবে। মিছিল-সমাবেশ করা যাবে, গণতান্ত্রিক কর্মসূচি চলবে, কিন্তু মহাসড়ক অবরোধ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বরদাশত করা হবে না।
পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলতে সাধারণ মানুষ মূলত পুলিশকেই বোঝে। পুলিশকে জনগণের বন্ধু হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং অতীতে ক্ষুণ্ন হওয়া ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে কাজ করতে হবে। মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত রাখার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, একটি সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত মন্ত্রণালয় গড়ে তোলা হবে। বাহিনীর মধ্যে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইজিপিসহ পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বৈঠকে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাঁরা আগে দেখা করে গেছেন এবং অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আইজিপি পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
এর আগে বিকেলে মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হয় এবং গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সকালে সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নামফলক সরিয়ে নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামফলক স্থাপন করা হয়। মন্ত্রণালয়ের প্রবেশপথ, করিডর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোয়ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন করা হয়।