কক্সবাজারে জমির নামজারি করে দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ হিসেবে ৯ শতক জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উপসচিবের দায়িত্বে থাকা পঙ্কজ বড়ুয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে পঙ্কজ বড়ুয়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ একান্ত সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আদালতের ডিক্রির ভিত্তিতে ৩০ শতক জমির নামজারি করতে গিয়ে ঘুষের দাবির মুখে জমির মালিক বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের স্বজনদের নামে ওই জমি রেজিস্ট্রি করে দেন।
আজ মঙ্গলবার দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত অন্য চারজন হলেন কক্সবাজার সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সাবেক উপসহকারী কর্মকর্তা সৈয়দ নূর, তাঁর শ্যালক ইফতেখারুল হাসান, সাবেক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবুল হোসেনের শ্যালক মফিজুর রহমান এবং পঙ্কজ বড়ুয়ার দাদিশাশুড়ি দীপিকা বড়ুয়া।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিলের মাধ্যমে জমির মালিক তিনজনের স্বজনদের নামে ৩ শতক করে মোট ৯ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। এর মধ্যে মফিজুর রহমান, ইফতেখারুল হাসান ও দীপিকা বড়ুয়ার নামে ওই জমি লিখে দেওয়া হয়। দীপিকা বড়ুয়া পঙ্কজ বড়ুয়ার দাদিশাশুড়ি।
দুদক জানিয়েছে, বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উপসচিবের দায়িত্বে থাকা পঙ্কজ বড়ুয়া তৎকালীন সময়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তখন তিনি অন্যান্যদের সঙ্গে নিজের দাদিশাশুড়ি দীপিকা বড়ুয়ার নামে জমির মালিকের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে ৩ শতক জমি লিখে নেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে চাইলে পঙ্কজ বড়ুয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না।’ দুদক বলছে, যার নামে জমি লিখে নেওয়া হয়েছে, সেই দীপিকা বড়ুয়া পঙ্কজ বড়ুয়ার দাদিশাশুড়ি। তবে পঙ্কজ বড়ুয়া দীপিকা বড়ুয়াকে নিজের দাদিশাশুড়ি বলে স্বীকার করেননি।
দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬২ ও ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় মামলার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
তবে অভিযোগসংশ্লিষ্ট সাবেক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবুল হোসেন ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর মারা যাওয়ায় তাঁকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।