হোম > জাতীয়

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি ৯ জুন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ফাইল ছবি

সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানির জন্য আগামী ৯ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করে দেন। ওই দিন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ শুনানি হবে।

এর আগে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন চ্যালেঞ্জ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়। পরে তা গত ২০ এপ্রিল শুনানির জন্য ওঠে। তবে ওই দিন শুনানি হয়নি। রিটের পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

সাত আইনজীবীর রিটের পরিপ্রেক্ষিতে তিন মাসের মধ্যে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় করতে নির্দেশনা দিয়ে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। গত বছর ওই রায়ের আলোকে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করে অধ্যাদেশ জারি করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। পৃথক সচিবালয় গঠিত হওয়ার পর জনবল নিয়োগসহ ৯০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল করে।

১৯ মে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে ১৫ কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়েছে। তাঁদের আইন মন্ত্রণালয়ের যোগদানের তারিখ দেখানো হয়েছে ১০ এপ্রিল। যার আগের দিন জাতীয় সংসদে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়।

বারবার মুখ থুবড়ে পড়েছে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল। ১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে তা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়। ১৯৭৯ সালে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করার বিষয়টি যুক্ত করা হয়। ১৯৯৪ সালে বিচার বিভাগকে সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীন করতে রিট করেন জেলা জজ ও তৎকালীন জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মাসদার হোসেন। হাইকোর্ট ১৯৯৭ সালে ওই আবেদনের পক্ষে রায় দেন। এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে সরকার আপিল করে। ১৯৯৯ সালে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। সে সঙ্গে বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণসহ ১২ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আপিল বিভাগের নির্দেশনার আলোকে ২০০১ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য খসড়া আইন করা হয়েছিল, যা পাঠানো হয়েছিল কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছে। ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দিনগুলি ও আমার কথা’ বইয়ে বিষয়টি লিখেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান। তিনি লিখেছেন, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ৩ অক্টোবর উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় অনুমোদন শেষে বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণ আইন রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল অধ্যাদেশ আকারে জারি করার জন্য। ৩ অক্টোবর বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণের বিষয়টি আইনে পরিণত করার জন্য উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাও ডাকা হয়। কিন্তু ১২টার দিকে বেগম খালেদা জিয়া প্রধান উপদেষ্টাকে টেলিফোন করে বলেন, বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার বিষয়টি তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহারে রয়েছে। তাই বিষয়টি তাঁর সরকারের (বিএনপি) জন্য রেখে যাওয়ার অনুরোধ করেন এবং কথা দেন, তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন।

তবে বিএনপি সরকারের সময় বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক হয়নি। পরে ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে। পরবর্তী দেড় দশকের বেশি টানা ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু পৃথক সচিবালয় করা হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধস্তন আদালতের বিচারকদের পদোন্নতি ও বদলির ক্ষমতা এককভাবে সুপ্রিম কোর্টের হাতে নিতে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ করে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের ১০ জন আইনজীবী। আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মূলত রাষ্ট্রপতির ওপর এ দায়িত্ব ন্যস্ত থাকায় এতে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা যায়। এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।

রিটের পর রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ওই রুল নিষ্পত্তি করে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর রায় দেওয়া হয়। রায়ে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়। যাতে রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সুপ্রিম কোর্টের কাছে ন্যস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৩৯ ধারা অনুসারে ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বাতিল করা হলো। একইভাবে ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী আইনের ১৯ ধারার মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনও সাংঘর্ষিক বলে বাতিল করা হলো। এ ছাড়া সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী ও ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে ১৯৭২ সালের সংবিধানে ১১৬ অনুচ্ছেদ যেভাবে ছিল, সেভাবে সংবিধানে পুনর্বহাল হবে।

রায়ে বলা হয়, জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আছে, যাদের স্বাধীন পরিচয় রয়েছে। অথচ বিচার বিভাগের জন্য কোনো সচিবালয় গঠিত হয়নি। বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের স্বাধীন অঙ্গ। স্বাধীনভাবে কাজ করতে এবং সত্যিকার অর্থে রাষ্ট্রের অন্য দুটি অঙ্গ (আইনসভা ও নির্বাহী বিভাগ) থেকে বিচার বিভাগ পৃথক। পৃথক বিচার বিভাগ সাংবিধানিক অধিকার। হাইকোর্টের রায়ের পর বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত বছরের ৩০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়। এরপর ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যালয় উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

চলতি বছরের ৭ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ের ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। পরে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানানো হয় রাষ্ট্র পক্ষ থেকে। সে অনুযায়ী আপিল করা হলো।

ইউনূস সরকারের কর্মকাণ্ড তদন্তে কমিশন গঠনের রিট খারিজ

পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ায় সেনাসদস্যরা পর্যায়ক্রমে ব্যারাকে ফিরছেন: সেনাপ্রধান

সংসদের লাইব্রেরির জন্য গুমসংক্রান্ত বই কেনার সুপারিশ

বিদ্যুতে ঘাটতির বড় কারণ ক্যাপাসিটি চার্জ, পর্যালোচনায় রাজি বিইআরসি

ট্রাকচালক হোসেন হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাল

পল্লবীতে শিশু হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব জাইকার, সড়কমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত বন্ধ করা আমাদের মূল লক্ষ্য: সিইসি

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আগ্রহী আমিরাতের ডানাটা

সুপ্রিম কোর্ট স্বাধীন সচিবালয়ের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল