সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬-এর দরপত্র জমার সময়সীমা চার মাস বাড়িয়েছে সরকার। আগে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়া যেত। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়া যাবে।
মঙ্গলবার রাতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬ নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা হয়েছে। কোম্পানিগুলোর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬-এর ডেটা সেলস প্যাকেজ সহজলভ্য করা হয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, ৩০ নভেম্বর ২০২৬-এর পরিবর্তে ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত বিড জমা দেওয়া যাবে। সময় বৃদ্ধি ও ডেটা প্যাকেজ সহজলভ্য হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর বিডিং রাউন্ডে অংশগ্রহণের আগ্রহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রের ১৫টি এবং অগভীর সমুদ্রের ১১টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ডলার।
নির্দিষ্ট কোনো ব্লক অথবা পুরো অফশোর এলাকার জন্য দরপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, টার্কিশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল করপোরেশনসহ তিনটি কোম্পানি ইতিমধ্যে দরপত্র কিনেছে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ২০২৪ সালের মার্চে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। তখন মার্কিন কোম্পানি এক্সনমোবিলসহ সাতটি আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা কোম্পানি দরপত্র কিনেছিল।
বারবার সময় বাড়ানোর পরও শেষ মুহূর্তে কোনো কোম্পানি দরপত্র জমা না দেওয়ায় ওই বিডিং রাউন্ড বাতিল হয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর আগ্রহ না থাকার কারণ উদ্ঘাটনে কমিটি করা হয়। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গভীর সমুদ্র থেকে স্থলভাগ পর্যন্ত পাইপলাইনের খরচ এবং ডব্লিউপিপিএফ ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ করাসহ কয়েকটি সংশোধনী আনা হয়।
এ ছাড়া গ্যাসের দাম ব্রেন্ট ক্রুডের ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে গভীর সমুদ্রে ১১ শতাংশ এবং অগভীর সমুদ্রে সাড়ে ১০ শতাংশ করা হয়। মডেল পিএসসি-২০১৯-এ অগভীর সমুদ্রে ব্রেন্ট ক্রুডের ৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং গভীর সমুদ্রে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ ছিল।