জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৭৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগে নিষিদ্ধ যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির নেতা মো. শাহাবুদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী নাজিয়া হাসান ডালিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ সোমবার দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাজিয়া হাসান ডালিয়ার নামে মোট ১ কোটি ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩২২ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের মূল্য ৮৩ লাখ ৯২ হাজার ৩৫৮ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১৭ লাখ ৬৩ হাজার ৯৬৪ টাকা।
দুদকের হিসাবে, এসব সম্পদের বিপরীতে নাজিয়া হাসান ডালিয়ার গ্রহণযোগ্য আয় ৬৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। তাঁর পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ২৮ লাখ ৬৯ হাজার ৮৩৯ টাকা। এসব ব্যয় বাদ দিয়ে তাঁর নিট আয় বা সঞ্চয় দাঁড়ায় ২৪ লাখ ৯২ হাজার ৮৮৫ টাকা। কিন্তু তাঁর নামে পাওয়া সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩২২ টাকা। ফলে গ্রহণযোগ্য আয় ও সঞ্চয়ের সঙ্গে সম্পদের হিসাবে ৭৬ লাখ ৬৩ হাজার ৪৩৭ টাকার অসংগতি পাওয়া গেছে।
দুদকের মতে, এই অর্থের সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার মাধ্যমে নাজিয়া হাসান ডালিয়া দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর নামে থাকা ওই সম্পদ তাঁর স্বামী মো. শাহাবুদ্দিনের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ বলে মনে করছে সংস্থাটি। স্বামীর অবৈধ সম্পদ নিজের দখলে রেখে তাঁকে সহযোগিতার অভিযোগে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায়ও অপরাধের বিষয়টি উল্লেখ করেছে দুদক।
এর আগে মো. শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৪৯ হাজার ৩০৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগে মামলা করে দুদক। ২০২৪ সালের ৯ জুলাই দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলাটি করা হয়। ওই মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। নাজিয়া হাসান ডালিয়া ও মো. শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে নতুন মামলাটি দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।