পার্বত্য চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ সরকার ও সেনাবাহিনী সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগে রাঙামাটির চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের স্ত্রী ইয়েন ইয়েনকে সতর্ক করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার ভিত্তিতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ থেকে ২২ এপ্রিল কানাডায় অনুষ্ঠিত ‘The 25 th Session of the United Nations Permanent Forum on Indigenous Issues (UNPFII) ’-এ ৬ থেকে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। ওই দলে নেতৃত্ব দেন ইয়েন ইয়েন।
অভিযোগ রয়েছে, আন্তর্জাতিক এই ফোরামে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি, পার্বত্য শান্তিচুক্তি, সীমান্ত সড়ক নির্মাণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালানো হয় বলেও দাবি সংশ্লিষ্টদের।
এ ঘটনার পর গত ৬ মে রাঙামাটির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী ইয়েন ইয়েনকে একটি সতর্কতামূলক চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সরকার ও সেনাবাহিনী সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের কার্যক্রম পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে এবং স্থানীয়ভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার ও সেনাবাহিনী সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ইয়েন ইয়েনকে সতর্ক করা হয়েছে। বিষয়টি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।’
এ বিষয়ে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব জিয়া আহসান হাবিব বলেন, জেলা প্রশাসনের এ পদক্ষেপ কেবল ব্যক্তি পর্যায়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়টির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা শুধু মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন নয়; বরং রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার ও কৌশলগত তথ্যযুদ্ধের অংশ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক ফোরামে উপস্থাপিত তথ্য বিদেশি রাষ্ট্র, মানবাধিকার সংস্থা ও নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রভাবিত করে।’
পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ভূ-রাজনৈতিক অঞ্চল উল্লেখ করে জিয়া আহসান বলেন, ‘সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভূমি বিরোধ, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তার কারণে পরিস্থিতি এমনিতেই জটিল। এ অবস্থায় বাস্তবতাবিবর্জিত বা একপক্ষীয় তথ্য আন্তর্জাতিক মহলে উপস্থাপন করা হলে তা স্থানীয় পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।’
পার্বত্য নাগরিক পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল মজিদ বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। এমন সময়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা নেতিবাচক তথ্য আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রচার করা হলে তা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।’
এ বিষয়ে রাঙামাটির চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তাঁর মোবাইল নম্বরে কল করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।