শারদীয় দুর্গোৎসবের অষ্টমী তিথিতে দেবী দুর্গার প্রতীক হিসেবে কুমারী শিশুকে পূজা করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। আজ সোমবার সকালে রাজধানীর গোপীবাগে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে ছয় বছরের ইর্যা চক্রবর্তীকে কুমারীরূপে পূজা করা হয়। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, তাঁর নাম রাখা হয় ‘উমা’।
সকাল পৌনে ১০টায় কুমারী পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পূজা শেষে উমা আশীর্বাদ করে বলে, ‘সবার মঙ্গল হোক’। রাজধানীর পাশাপাশি সারাদেশের অন্যান্য রামকৃষ্ণ মঠেও এ আয়োজন হয়। দুর্গোৎসবে সাধারণত রামকৃষ্ণ মিশনগুলোই কুমারী পূজার আয়োজন করে।
শাস্ত্রমতে, কুমারীপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় ১৬টি উপকরণ দিয়ে। এরপর অগ্নি, জল, বস্ত্র, পুষ্প ও বাতাস—এই পাঁচ উপকরণে কুমারীকে দেবীরূপে পূজা করা হয়। শাস্ত্রমতে, মানববন্দনা, নারীর সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং ঈশ্বরের আরাধনাই কুমারীপূজার মূল শিক্ষা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, যে ত্রিশক্তির মাধ্যমে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়ের চক্রে আবর্তিত হচ্ছে, সেই শক্তি কুমারীর মধ্যে বীজরূপে বিরাজমান। এ বিশ্বাস থেকেই মহাষ্টমীতে কুমারীকে দেবী দুর্গারূপে আরাধনা করা হয়।
জানা যায়, ১৯০১ সালে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব স্বামী বিবেকানন্দ কলকাতার বেলুড় মঠে কুমারীপূজার প্রচলন করেন। এর পর থেকে প্রতিবছর দুর্গাপূজার অষ্টমী তিথিতে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
দেবীপুরাণে কুমারীপূজার উল্লেখ রয়েছে। শাস্ত্রমতে, ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী সুলক্ষণা কন্যাকে কুমারী হিসেবে পূজা করার বিধান রয়েছে। ব্রাহ্মণ অবিবাহিত কন্যার পাশাপাশি অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকেও পূজা করার বিধান রয়েছে।
এদিকে, সোমবার সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দেবীর চরণে ১০৮টি পদ্মফুল ও ১০৮টি বেলপাতা নিবেদন করা হয় এবং ১০৮টি প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়।
মহানগর কেন্দ্রীয় পূজা মণ্ডপের পুরোহিত বরুণ চক্রবর্তী বলেন, অষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট ও নবমীর শুরুর ২৪ মিনিট—মোট ৪৮ মিনিটে সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ পূজায় অশুভ শক্তির বিনাশ, শুভ শক্তির জয় এবং দেশ ও জাতির শান্তি ও মঙ্গল কামনা করা হয়।
হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতি শরতে হিমালয়ের কৈলাস পর্বত ছেড়ে কন্যারূপে পৃথিবীতে নেমে আসেন দেবী দুর্গা। সন্তানদের নিয়ে কয়েকটি দিন মর্ত্যে কাটিয়ে তিনি আবার কৈলাসে ফিরে যান।
তাঁর আগমন ও প্রস্থানের মধ্যবর্তী সময়ে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত পাঁচ দিন দুর্গোৎসব উদ্যাপিত হয়। তবে এবার মহাসপ্তমী তিথি শনি ও রোববার দুই দিন বিস্তৃত হওয়ায় এবারের এই আনন্দোৎসব চলবে ছয় দিন। আগামী বুধবার দশমীর সন্ধ্যায় বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে এ বছরের দুর্গাপূজার। পঞ্জিকামতে, এবার দেবীর আগমন ঘোটকে বা ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের তথ্যমতে, এবার সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে মণ্ডপের সংখ্যা ২৫৮টি।