চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে ২ হাজার ৪৪২ কোটি ৪০ লাখ ৩২ হাজার ১০২ টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।
আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
দুদকের তথ্যমতে, জানুয়ারি মাসেই সবচেয়ে বেশি সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়। এ মাসে দেশ-বিদেশে থাকা ২ হাজার ২১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৬০ হাজার ৬৪৩ টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়। এ ক্ষেত্রে আদালতের ৩৩টি আদেশের ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি মাসে ৩৫টি আদালতের আদেশের বিপরীতে ১৪২ কোটি ৭৭ লাখ ২৬ হাজার ৪১০ টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়। এর মধ্যে ৭২ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার ৬০১ টাকার স্থাবর এবং ৭০ কোটি ২৯ লাখ ২৬ হাজার ৮০৯ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।
অন্যদিকে মার্চ মাসে কমিশন শূন্যতার মধ্যেও কার্যক্রম অব্যাহত রাখে দুদক। এ সময়ে ১২টি আদালতের আদেশে ২৮ কোটি ৫১ লাখ ৮০ হাজার ১১৩ টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ১৫ কোটি ৬৪ লাখ ৯২ হাজার ৬০৫ টাকার স্থাবর এবং ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৮৭ হাজার ৫০৮ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, দেশীয় পর্যায়ে ১৪২ দশমিক ৮৪৮ একর জমি, ১৯টি ভবন, ৩৭টি ফ্ল্যাট, ১২টি প্লট, ২টি বহুতল বাড়ি, ৩টি টিনশেড ঘর, ১২টি গাড়ি, ৫টি বাণিজ্যিক স্পেস, ৪টি দোকান এমনকি খেলার মাঠ ও একটি স্কুলও ক্রোক করা হয়েছে।
এ সময় ৩১০টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৭৩ কোটি ৭৩ লাখ ৯৫ হাজার ৪০৩ টাকা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৯টি ক্রেডিট কার্ড, প্রাইজবন্ড, ১৩টি এফডিআর, পাঁচটি বিমা পলিসি এবং বিভিন্ন শেয়ার ও বিনিয়োগ জব্দ করা হয়েছে।
শুধু দেশে নয়, বিদেশেও বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রোক করেছে দুদক। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৪টি, ফিলিপাইনে ২টি, ভারতে ৯টি ফ্ল্যাট ক্রোক করা হয়েছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় ৪৭টি, কম্বোডিয়ায় ১১৭টি, থাইল্যান্ডে ২৩টি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫৯টি বাণিজ্যিক স্পেস জব্দ করা হয়েছে। সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনামে আরও ৩৩টি অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোক করেছে সংস্থাটি।
দুদক বলছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।