হোম > জাতীয়

ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দিতে যা বললেন তায়িমের বাবা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

‘সুরতহাল করার সময় পুলিশের গুলিবিদ্ধ হওয়ার চিহ্ন গুলি না লিখে কিছু ছিদ্র ও কালো স্পট থাকার কথা লিপিবদ্ধ করেন এসআই শাহদাত। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, আপনি পুলিশের গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা না লিখে “স্পট” (দাগ) থাকার কথা কেন লিখলেন? এসআই শাহদাত বলেন, এটা উপরের আদেশ। আমি গুলির কথা লিখতে পারব না। ছাত্র-জনতার আঘাতে ও গুলিতে আপনার ছেলে মারা গেছে। এই বলে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে আমাকে স্বাক্ষর করতে বলে। আমি অনেক চিন্তায় পড়ে যাই। আমার ছেলে মারা গেছে এবং আমার চাকরি হারানোর সম্ভাবনা আছে। ছেলের মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে, লাশে প্রায় পচন ধরে গেছে। এই চিন্তা করে আমি সুরতহাল প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হই।’

আজ বুধবার ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় নিহত ইমাম হাসান তায়িমের বাবা এসআই ময়নাল হোসেন ভূঁইয়া। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ তাঁর জবানবন্দি গহণ করা হয়।

এই মামলার ১১ আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান ও সাবেক এসআই শাহাদাত আলী। পলাতক ব্যক্তিরা হলেন ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন ও এসআই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ উজ জামান।

ময়নাল হোসেন তাঁর জবানবন্দিতে বলেন, তাঁর তিন ছেলের মধ্যে ইমাম হাসান তায়িম ভূঁইয়া ছোট। তিনি নারায়ণগঞ্জ আদমজী এমডব্লিউ কলেজে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী এলাকায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই তায়িম তাঁর বন্ধু শাহরিয়ারের কল পেয়ে বাসা থেকে চা খাওয়ার কথা বলে বের হন। কিন্তু তিনি তাঁর বন্ধু শাহরিয়ার এবং রাহাতের সঙ্গে কাজলা এলাকায় অবস্থান নেন। ওই দিন দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে অবস্থানকালে তাঁর (ময়নালের) স্ত্রীর ছোট বোন ফোন করে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে বলেন, তায়িমকে কাজলা ফুটওভার ব্রিজে গুলি করে ফেলে রেখেছে।

ময়নাল হোসেন বলেন, ‘ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ছেলেকে খুঁজতে থাকি। এ সময় একজন সাংবাদিক বলেন, মর্গে কিছু বেওয়ারিশ লাশ পড়ে আছে, সেখানে দেখতে পারেন। মর্গে গিয়ে দেখি ২০-৩০টি লাশ পড়ে আছে। সেখানে খুঁজে না পেয়ে নতুন ভবনের ইমার্জেন্সি মর্গে গিয়ে লাশ পড়ে থাকতে দেখি। সেখানে আরও অনেক লাশ ছিল। ছেলের লাশের ওপরে, বুকে, পেটে এবং পায়ে অসংখ্য গুলির চিহ্ন দেখতে পাই। ওই লাশের সুরতহাল এবং ময়নাতদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল শাহবাগ থানার এসআই শাহদাতকে। পরদিন দুপুর ১২টার দিকে লাশ সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত করার জন্য যান এসআই শাহদাত। বিকেল সাড়ে ৪টার সময় লাশ বুঝে পাই। পরে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে নিয়ে গোসল করানো হয়। ওই সময় লাশের কোমড়ের বাঁ পাশে বড় একটি গর্তের দাগ দেখা যায়। দাগ দেখে বোঝা যায় এটা পিস্তলের গুলির। সেখানে জানাজার পর কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দ্বিতীয় জানাজা শেষে দাফন করা হয়।’

তায়িমের বাবা বলেন, ‘ছেলের বন্ধু রাহাত, শাহরিয়ারসহ অন্যদের কাছে শুনতে পাই ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মামুন ও এসআই সাজ্জাদ গুলি করেছেন। ছেলে মা মা করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ইন্সপেক্টর জাকির খুব কাছ থেকে অনেকবার গুলি করেন। পরে তায়িমের বন্ধু শাহরিয়ার ও চা-দোকানদার লিটন ছেলেকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ইন্সপেক্টর জাকির, ইন্সপেক্টর মামুন ও এসআই সাজ্জাদ বাধা দেন। ছেলে অনেকক্ষণ মাটিতে পড়ে থাকে এবং গড়াগড়ি করতে থাকে।’

মামলার বিষয়ে তায়িমের বাবা বলেন, ‘২৮ জুলাই ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি দেখা করেননি। এরপর ডিসি (ওয়ারী) ইকবালের কছে গিয়ে ঘটনা বললে তিনি রাগের সুরে বলেন, ছেলে কেন আন্দোলনে গিয়েছিল? পরে বড় ছেলে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করতে বলে। তবে ডিসি ইকবাল বলেন, মামলা করতে হবে না, পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে। তখন ছেলে রবিউল বলে, পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করলে মামলা করার দরকার নেই।’ এরপর তাঁরা চলে যান।

তায়িমের বাবা জবানবন্দিতে আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের নির্দেশে যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার, ডিসি ইকবাল, এডিসি শামীম, এডিসি মাসুদ, এসি নাহিদ, ওসি আবুল হাসান যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। ওসি (তদন্ত) জাকির হোসেন, ওসি (অপারেশন) মামুন, এসআই সাজ্জাদ তাঁর ছেলেকে নির্মমভাবে গুলি করলে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেন। সুরতহাল প্রস্তুতকারী এসআই শাহদাত ছেলের মৃত্যুর দায় অন্য কারও ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাই সবার সর্বোচ্চ শাস্তি চান তিনি।

ট্রাইব্যুনালে তায়িমের বাবা: ওপরের নির্দেশে সুরতহালে গুলির কথা লেখেননি পুলিশ কর্মকর্তা

স্মার্ট বাংলাদেশের পথে ব্রডব্যান্ডই প্রধান শক্তি: তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে নতুন ডিসি

সংসদকক্ষে মোবাইলে কথা বলা ও ছবি না তোলার অনুরোধ চিফ হুইপের

সেনাপ্রধানের সঙ্গে তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

তিন মাসে আড়াই হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক-অবরুদ্ধ করেছে দুদক

শাপলা চত্বর-কাণ্ডে আসামি হচ্ছেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন

আন্দামানে ট্রলারডুবিতে নিহতদের চারজন কক্সবাজারের

১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি

সংবিধান সংশোধনে সরকারি-বিরোধী দল মিলে সম্মিলিত প্রস্তাব আনা হবে: চিফ হুইপ