হোম > জীবনধারা > ভ্রমণ

ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কায় দেখা মেলে নীল তিমির

ফিচার ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসে এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হলো শ্রীলঙ্কা। প্রাচীন সিলন কিংবা আজকের শ্রীলঙ্কা একদিকে যেমন প্রাচীন শহর এবং ঐতিহাসিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ, অন্যদিকে এর নীল জলরাশি আর সবুজে ঘেরা পাহাড় পর্যটকদের মুগ্ধ করে। শ্রীলঙ্কার উপকূলে ফিন, হাম্পব্যাক বা স্পার্ম হোয়েলের মতো প্রায় ১০ প্রজাতির তিমি দেখা যায়। তবে সাগরের রাজা ‘নীল তিমি’ দেখার সবচেয়ে মোক্ষম সময় হলো ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মাঝামাঝি। এই সময়ে সাগরের তলদেশে ‘ক্রিল’ নামক একধরনের ক্ষুদ্র চিংড়ি-জাতীয় প্রাণীর আধিক্য থাকে, যা নীল তিমির প্রধান খাবার। এই খাবারের টানেই পরিযায়ী নীল তিমিরা শ্রীলঙ্কার উপকূলে ভিড় জমায়।

নীল তিমির স্বর্গরাজ্য মিরিসা

তিমি দেখার জন্য সেরা জায়গা দক্ষিণ উপকূলের মিরিসা। এখানকার মহীসোপান কিংবা সমুদ্রের তলদেশ বেশ সরু হওয়ায় খুব দ্রুত গভীর সমুদ্রে পৌঁছানো যায়। যেখানে নীল তিমির সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। কলম্বো থেকে বিখ্যাত উপকূলীয় ট্রেনে চড়ে সহজে মিরিসা অথবা গালেতে পৌঁছানো যায়। মিরিসা হারবার থেকে সাধারণত ভোর ৭টার দিকে বোটগুলো সমুদ্রের উদ্দেশে রওনা দেয়। এই ভ্রমণে বোটের ওপরের ডেকে বসে ভারত মহাসাগরের শান্ত নীল জলরাশির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এ ছাড়া বোটে বসেই চা, কফি, টুনা স্যান্ডউইচ, এগ বার্গার কিংবা চকলেট কেক দিয়ে নাশতা সেরে নিতে পারেন। ফেরার পথে পরিবেশন করা হয় তাজা আনারস, তরমুজ কিংবা ফলের রস। প্রতিটি বোটে লাইফ জ্যাকেট, ফার্স্ট এইড কিট, জিপিএস ও কম্পাস থাকে। এমনকি মাথাপিছু ২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারের লাইফ ইনস্যুরেন্স কাভারেজও এই ট্যুরের অন্তর্ভুক্ত থাকে।

ফেব্রুয়ারি ও শ্রীলঙ্কার আবহাওয়া

ফেব্রুয়ারি মাসে শ্রীলঙ্কার আবহাওয়া থাকে খুব মনোরম। পশ্চিম ও দক্ষিণ উপকূলে এ সময় বৃষ্টি খুব কম হয়। এ ছাড়া আকাশ থাকে পরিষ্কার এবং রৌদ্রোজ্জ্বল। তাপমাত্রা সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। পাহাড় কিংবা হাইল্যান্ডের দিকে আবহাওয়া থাকে কিছুটা শীতল ও আরামদায়ক। শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ইয়েলো ন্যাশনাল পার্কে সাফারি করার জন্যও এটি উপযুক্ত সময়। কারণ, পানির খোঁজে পশুরা এ সময় লেকের ধারে বেরিয়ে আসে।

কিছু জরুরি তথ্য

  • ভিড় ও খরচ: ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার পর্যটনের ‘পিক সিজন’। তাই প্রধান আকর্ষণগুলোতে পর্যটকদের ভিড় বেশি থাকে এবং হোটেল কিংবা রিসোর্টের দাম স্বাভাবিকের চেয়ে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। সে কারণে আগেভাগে বুকিং দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
  • দায়িত্বশীল পর্যটন: তিমি দেখার জন্য বোট বুক করার আগে যাচাই করতে হবে, তিমির ক্ষতি না করে তারা দায়িত্বশীলভাবে ট্যুর পরিচালনা করছে কি না।
  • সঙ্গে যা রাখবেন: আরামদায়ক পোশাক, টুপি, সানস্ক্রিন এবং অবশ্যই ভালো মানের একটি ক্যামেরা।
  • সতর্কতা: সাগরে ধূমপান করা কিংবা ময়লা ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

নীল তিমির সেই বিশাল লেজ পানির ওপর আছড়ে পড়ার দৃশ্য আপনার জীবনের অন্যতম সেরা স্মৃতি হয়ে থাকবে। তাই দেরি না করে এই ফেব্রুয়ারিতেই বেরিয়ে পড়ুন শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে।

সূত্র: স্টেপস ট্রাভেল, রেসপনসিবল ট্রাভেল, কিম কিম

ঝিটকায় এক রাত

ক্যাথলিক ক্যাথেড্রালে

প্রথম বিদেশ ভ্রমণের আগে জেনে নিন

একলা ভ্রমণে অন্তর্মুখী স্বভাবের মানুষের জন্য আড্ডা জমানোর কৌশল

শ্রীলঙ্কা ভ্রমণে জনপ্রিয় ১০ সমুদ্রসৈকত

ভুটানে প্রথমবার? এই ১২ অভিজ্ঞতা তালিকায় রাখুন

দেবতাখুমের নীরবতায়

এক দিনের ভ্রমণে ঘুরে আসুন মানিকগঞ্জ

দুবাইয়ে চালু হলো বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু হোটেল ‘সিয়েল টাওয়ার’

বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে পাসপোর্ট শক্তির উত্থান-পতন