জনপ্রিয় ট্রাভেল ভ্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের পুরস্কৃত করেছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। এ বছর পুরস্কার পেয়েছেন সালাহউদ্দীন সুমন নামে পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আবু মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন। ‘বর্ষসেরা ট্যুরিজম কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
আজ ৩ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অ্যান্টার্কটিকা, আমাজন ও আর্কটিক থেকে শুরু করে বিশ্বের দুর্গম সব গন্তব্যে ভিডিও ধারণের পাশাপাশি সালাহউদ্দীন সুমন বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহাসিক স্থাপনা, অপরিচিত ভূপ্রকৃতি এবং গ্রামবাংলার জীবন-জীবিকা তুলে ধরে দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি। তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি এগিয়ে আসেন, আমাদের মন্ত্রণালয় রেডি আছে। আপনারা যেখানে পিপিপি মডেল অথবা লিজিং চান, সেটা যদি আপনারা বিকাশ ঘটাতে পারেন, আমরা প্রস্তুত রয়েছি। যেকোনো অবস্থাতেই আপনারা আসেন, আমরা আলোচনা করে এগুলো লিজ আউট করব। যাতে করে আপনারাও এই পর্যটন বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারেন। সেই সঙ্গে সরকারও লাভবান হতে পারে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, এমপি। তিনি বলেন, ‘পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। আমরা স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে এই খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সেবার মানোন্নয়নে তদারকি জোরদার করেছি।’
স্বাগত বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং দেশীয় সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’ আয়োজনের মূল লক্ষ্য এই খাতের উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের স্বীকৃতি দিয়ে উৎসাহিত করা। টেকসই পর্যটন বিকাশ, গুণগত সেবার মানোন্নয়ন এবং ডিজিটাল প্রচারণায় তরুণদের সম্পৃক্ততা দেশীয় পর্যটনে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ইউএন ট্যুরিজমের মহাসচিব শাইখা নাসের আল নোয়াইস এবং প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর আহমেদ হামিদ।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধানসহ ট্রাভেল ও ট্যুরিজম সেক্টরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আক্তার।
পুরস্কার পেয়ে সালাহউদ্দীন সুমন বলেন, ‘দেশের পর্যটন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হচ্ছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। এমন একটি সরকারি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মাননা পাওয়া একজন ক্রিয়েটরের জন্য অবশ্যই আনন্দের ও গর্বের। একটি রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে এই স্বীকৃতি সত্যিই ভালো লেগেছে।’
দেশের পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়ে সুমন বলেন, ‘আমাদের জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট স্পট বলতে চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেন্ট মার্টিন, কক্সবাজার, সাজেক ভ্যালিসহ হাতে গোনা কয়েকটি জায়গার নাম। কিন্তু নানান অব্যবস্থাপনার কারণে এই স্পটগুলো নিয়ে বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ কমছে। অথচ বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে আমাদের গ্রামবাংলা। তবে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই রূপসৌন্দর্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত—একেক ঋতুতে একেক রূপ নিয়ে হাজির হয় আমাদের গ্রাম। পৃথিবীর কোথাও এমন ঋতুবৈচিত্র্য আর অনন্য গ্রামবাংলা নেই। তাই আশা করি, ট্যুরিজম বোর্ডের এই আয়োজন শুধু পুরস্কার বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেশের পর্যটনশিল্পে টেকসই উন্নয়ন, সেবার মানোন্নয়ন, উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। সরকারি-বেসরকারি অংশীজনের সমন্বয়ে গঠিত জুরিবোর্ডের যাচাই-বাছাই শেষে মোট ১৬টি ক্যাটাগরিতে বর্ষসেরা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং উদ্যোগকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
বর্ষসেরা ট্যুরিজম কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে সালাহউদ্দীন সুমন ছাড়াও বর্ষসেরা টেকসই পর্যটন উদ্যোগ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে শাকাওয়াথ’স সিক্স কন্ট্রোল পয়েন্ট ফর ফুড কস্ট, বর্ষসেরা পাঁচ তারকা হোটেল হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা এবং পর্যটনবিষয়ক সাংবাদিকতায় পুরস্কার পেয়েছেন নাঈম উল ইসলাম।