হোম > জীবনধারা > ভ্রমণ

নেপালে ভ্রমণে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য সতর্কতা জারি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

গত ২৬ আগস্ট নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। ছবি: এএফপি

নেপালে চলমান ভারী বৃষ্টিপাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রাণঘাতী বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসের কারণে দেশটির বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এবং পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে কাঠমান্ডুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।

গতকাল রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দূতাবাসের অফিশিয়াল পেজে প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নেপালে অবস্থানরত ও ভ্রমণকামী সব বাংলাদেশি পর্যটক এবং ট্রেকারদের চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে চলাচলে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। আবহাওয়া ও সার্বিক পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে যাত্রা করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, পিসাং, চামে, মানাং ও এর আশপাশের পর্যটন এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট ভূমিধস ও আকস্মিক তুষারপাতের কারণে দেশটির বহু স্থানে সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে এসব স্থানে উদ্ধার তৎপরতা চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় নেপাল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে মানাং অঞ্চলের বেশ কয়েকটি বিখ্যাত ট্রেকিং গন্তব্যে যাতায়াত ও কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে তিলিচো লেক, থরং লা পাস, আইস লেক, কাংলা ও ভীমথাং অঞ্চল অন্যতম।

এ ছাড়া পাহাড়ধসে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ও পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় পোখারা এবং এর আশপাশের এলাকায় ভ্রমণেও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মুস্তাং, জমসমসহ অপরাপর পার্বত্য এলাকায় যাত্রা শুরুর আগে গণ্ডকী প্রদেশের সড়ক যোগাযোগের সাম্প্রতিক হালনাগাদ তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ, এসব পার্বত্যপথ যেকোনো মুহূর্তে অবরুদ্ধ হয়ে পড়তে পারে।

এমতাবস্থায়, অন্নপূর্ণা, মানাং, মুস্তাং ও মানাসলু অঞ্চলসহ সব ধরনের পাহাড়ি ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় ট্রেকিং, পর্বতারোহণ বা ভ্রমণের যেকোনো রূপরেখা তৈরির আগে সঠিক তথ্য যাচাই করতে এবং নেপাল সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের জারি করা নিরাপত্তা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে অনুরোধ করেছে দূতাবাস।

যেসব বাংলাদেশি পর্যটক ইতিমধ্যে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে অবস্থান করছেন, তাঁদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ে থাকা, নদী-নালার তীর ও ধসপ্রবণ পাহাড় পরিহার করা, যাত্রা শুরুর আগে আবহাওয়া পরখ করা এবং ট্রাভেল এজেন্সির পাশাপাশি বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এই ভ্রমণ সতর্কতাটি সাময়িক এবং রাজধানী কাঠমান্ডু ও এর চারপাশের এলাকাগুলো আপাতত এই সতর্কবার্তার আওতামুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস নেপাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করবে।