হোম > জীবনধারা > ভ্রমণ

গা ছমছমে ও রহস্যময় অনুভূতিতে ঘেরা কানাডার দ্বীপ ব্যাটল হারবার

ফিচার ডেস্ক

ভূতের গল্প কিংবা রহস্যময় স্থানে যাওয়ার রোমাঞ্চ ভালোবাসেন, এমন অনেক মানুষই আছেন। নির্জন কোনো দ্বীপে হেঁটে যাওয়ার সময় যদি মনে হয়, অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি কি সত্যি জীবিত। আবার এটাও মনে হতে পারে, এটা বহু বছর আগের কোনো স্মৃতি। ঠিক এমনই এক গা ছমছমে ও রহস্যময় অনুভূতির জন্ম দেয় কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডরের প্রত্যন্ত দ্বীপ ব্যাটল হারবার। কানাডার পূর্ব উপকূলের এই ঐতিহাসিক স্থানকে বলা হয় অফিশিয়াল ভূতের গ্রাম। তবে এখানে কোনো অলৌকিক আতঙ্কের ভূত নেই। এখানে শত বছরের পুরোনো জীবনের ভুতুড়ে নীরবতা ও আভা থমকে আছে। আর সেই অনুভূতিতেই মোড়ানো পুরো দ্বীপ।

কেন একে ভূতের গ্রাম বলা হয়

১৮শ শতকে এটি ছিল বিশ্বের অন্যতম প্রধান সামুদ্রিক মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র। ব্যস্ত এই দ্বীপে তখন ছিল হাসপাতাল, স্কুল, গির্জা, বেতারে সংযোগব্যবস্থা এবং শত শত জেলের কোলাহল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আগুনে পুড়ে যাওয়া, মাছের ঘাটতি এবং ১৯৬০-এর দশকে সরকারের পুনর্বাসন কর্মসূচির কারণে ধীরে ধীরে দ্বীপটি খালি হতে থাকে। সর্বশেষ ১৯৭০-এর দশকে স্থায়ী বাসিন্দারাও এটি ছেড়ে চলে যান। বর্তমানে ব্যাটেল হারবারে স্থায়ীভাবে কোনো মানুষ বসবাস করেন না। সবচেয়ে গা ছমছমে বিষয় হলো, অতীতের সেই প্রাণবন্ত দিনগুলোকে ধরে রাখতে কাঠের তৈরি পুরোনো ঘরবাড়ি ও মাছ শোধনাগারের সামনে বসানো হয়েছে আগের আমলের জেলে ও বণিকদের জীবনমুখী ফোটো-কাটআউট বা কাটআউটের মূর্তি। দূর থেকে কুয়াশার মধ্যে মনে হবে যেন ধূসর জামাকাপড় পরা জেলের দল হয়তো আজও দাঁড়িয়ে মাছ কাটছে। কিংবা মনে হতেও পারে, তারা আপনার দিকে তাকিয়ে আছে। স্থায়ী মানুষহীন এই দ্বীপে এই কাটআউটগুলোই তৈরি করে এক অদ্ভুত ভৌতিক আবহ।

যেখানে সময় থমকে আছে

ব্যাটেল হারবারে গাড়ি বা প্রযুক্তির কোনো কোলাহল নেই। এখানে শুধু একটি ওয়াই-ফাই স্পট রয়েছে এবং কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক কাজ করে না। আপৎকালীন যোগাযোগের জন্য ঘরে রাখা থাকে ওয়াকি-টকি। এখানে স্মৃতির সাক্ষী ‘দ্য রুমস’। কাঠে মোড়ানো পুরোনো ঘরগুলোতে পা রাখলেই মনে হবে আপনি ১৯০০ সালের কোনো যুগে ফিরে গেছেন। এখানে রয়েছে তৎকালীন লবণ ও খাবার রাখার পুরোনো আড়ত, যার গন্ধ আজও ঐতিহাসিক আমেজ বহন করে। এই দ্বীপের ‘সল্ট স্টোর’-এর একটি ঘরে বসেই বিখ্যাত মেরু অভিযাত্রী রবার্ট পিয়ারি ১৯০৯ সালে নিউইয়র্ক টাইমসে উত্তর মেরু জয়ের খবর পাঠিয়েছিলেন। এমনকি উত্তর আমেরিকার অন্যতম প্রাচীন গুগলিয়েলমো মার্কনির রেডিও তরঙ্গভিত্তিক ওয়্যারলেস টেলিগ্রাফ টাওয়ার এখনো দাঁড়িয়ে আছে এই দ্বীপে।

এখানে আছে পুরোনো কবরস্থান ও মেরু শিয়াল। পাথুরে পাহাড়ের ওপর রয়েছে শত বছরের পুরোনো এক কবরস্থান। সেখানেই এখন আর্কটিক বা মেরু শিয়ালের পরিবার বাস করে। ভোরের আলোয় এদের ঘুরে বেড়ানো দ্বীপটিতে আলাদা এক রহস্য যোগ করে।

কীভাবে এবং কখন যেতে পারেন

কানাডার পূর্বতম প্রদেশ নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডরের হ্যাপি ভ্যালি-গুজ বে থেকে গাড়িতে ৫ ঘণ্টা বনাঞ্চলের পথ পাড়ি দিয়ে ম্যারিস হারবারে পৌঁছাতে হয়। সেখান থেকে প্রতিদিন সকালে নির্দিষ্ট প্যাসেঞ্জার ফেরিতে চড়ে প্রায় ১ ঘণ্টার জলপথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছানো যায় এই দ্বীপে। বছরের শুধু জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথমভাগ পর্যন্ত এই নির্জন স্থান পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। পর্যটকেরা এখানে শতবর্ষী কাঠ দিয়ে সংস্কার করা কটেজে রাত কাটাতে পারেন।

কেন সেখানে যেতে পারেন

অটল আটলান্টিকের বুকে ঘুরে বেড়ানো বিশাল আইসবার্গ বা বরফখণ্ড, তিমি মাছের আনাগোনা, পাখির কোলাহল আর রাতে মাথার ওপর জ্বলে ওঠা মেরুজ্যোতি; সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক স্বর্গরাজ্য এটি। তবে সবকিছুর ওপরে, আধুনিক জীবনের কোলাহল থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে অতীতের রহস্যময় শান্ত স্নিগ্ধতায় ডুব দিতে এর চেয়ে আদর্শ স্থান আর হতে পারে না। ব্যাটেল হারবার কোনো ভৌতিক গল্পের জায়গা নয়, কিন্তু এর গা ছমছমে নীরবতা ও থমকে থাকা সময় আপনাকে দেবে এক অবিস্মরণীয় রোমাঞ্চের ছোঁয়া।

সূত্র: বিবিসি, ন্যাচারাল হ্যাবিটেড অ্যাডভেঞ্চার্স

রূপসী মেঘনার ওপারে কবির গ্রাম

কৃত্রিম হলেও আকৃষ্ট করেছে যেসব ভ্রমণের স্থান

এশিয়ার সেরা উদীয়মান গন্তব্য ভিয়েতনামের তা শুয়া

চাকরি ছেড়ে জার্মান তরুণীর একা বিশ্বভ্রমণ নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে

ভ্রমণের জন্য চাকরি ছেড়ে অনুতপ্ত তরুণীকে কিছু পরামর্শ

মাটির দেয়ালে সাঁওতাল জীবনের গল্প

ঘুরে আসুন সিলেট

পূজার ছুটিতে ঝরনার কাছে

বিশ্বসেরা শহর ব্যাংকক

মালভিনাস ও সাউথ জর্জিয়া থেকে সাদা মহাদেশের দিকে যাত্রা