হোম > জীবনধারা > ভ্রমণ

জাপানে পর্যটকদের পোশাক কেন ময়লার অস্থায়ী ঝুড়ি

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

জাপানে শহরগুলোতে পাবলিক ডাস্টবিন প্রায় নেই বললেই চলে। ময়লা ফেলা হচ্ছে অভিনব উপায়ে। ছবি: সংগৃহীত

জাপান মানেই পরিচ্ছন্নতা। ঝকঝকে রাস্তা, নিরিবিলি গলি, কোথাও ময়লা নেই। কিন্তু এই পরিচ্ছন্ন দেশে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন বিদেশি পর্যটকেরা। শহরজুড়ে পাবলিক ডাস্টবিন প্রায় নেই। ফলে ময়লা ফেলতে না পেরে অনেক পর্যটক বাধ্য হচ্ছেন নিজেরাই ‘চলমান ডাস্টবিন’ হয়ে উঠতে।

গত বছরের ডিসেম্বরে টোকিও পৌঁছে প্রথম ধাক্কাটা খান মার্কিন পর্যটক মিরান্ডা ক্যাসলবেরি। কফি খাওয়ার পর প্লাস্টিকের কাপ ফেলবেন, কিন্তু চারপাশে কোথাও ডাস্টবিন নেই। আধুনিক রাজধানীর ব্যস্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে তিনি অবাক হয়ে খুঁজতে থাকেন একটি ময়লা ফেলার জায়গা।

শেষ পর্যন্ত উপায় না পেয়ে তিনি ঢুকে পড়েন একটি পোশাকের দোকানে। সেখান থেকে কিনে নেন বহু পকেটওয়ালা একটি জ্যাকেট। পরের তিন সপ্তাহ সেই জ্যাকেটই হয়ে ওঠে তাঁর অস্থায়ী ময়লার ঝুড়ি। নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি জানান, জীবনে কখনো ভাবেননি এভাবে হাঁটতে হাঁটতে তিনি ডাস্টবিন হয়ে যাবেন!

পরিচ্ছন্ন দেশ, কিন্তু ডাস্টবিন নেই কেন

জাপানে ডাস্টবিন কম থাকার পেছনে রয়েছে ইতিহাস। ১৯৯৫ সালে টোকিওর সাবওয়েতে গ্যাস হামলার পর নিরাপত্তার কারণে ধীরে ধীরে পাবলিক ডাস্টবিন তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় মানুষ তখন থেকে নিজের ময়লা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আলাদা করে ফেলতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয়েছে পর্যটকদের জন্য। গত বছর জাপানে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে চার কোটি ছাড়িয়ে যায়। জাপান পর্যটন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভাষাগত সমস্যার চেয়ে ডাস্টবিনের অভাব পর্যটকদের বেশি বিরক্ত করছে।

অনেক পর্যটক মজা করে বলেছেন, জাপানে ডাস্টবিন পাওয়া এক অলৌকিক ঘটনা! এক পর্যটক জানান, চার দিন পর তাঁর স্বামী একটি ডাস্টবিন খুঁজে পেয়ে আনন্দে সেটির ভিডিও করেন। তাঁর মুখে ছিল বিরল কোনো প্রাণী আবিষ্কারের মতো।

পর্যটকের ভিড়ে বদলাতে বাধ্য হচ্ছে জাপান

বিদেশি পর্যটকদের এই ভোগান্তির ফল এখন চোখে পড়তে শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষের। কোথাও কোথাও ঝোপের ভেতর বা দেয়ালের পাশে ময়লা জমতে দেখা যাচ্ছে। ‘ময়লা বাড়িতে নিয়ে যান’ লেখা সাইনবোর্ড আর আগের মতো কাজ করছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাই ধীরে ধীরে বদল আনছে স্থানীয় প্রশাসন।

টোকিওর শিবুয়া এলাকায় নতুন নিয়ম করা হয়েছে, কনভেনিয়েন্স স্টোরগুলোকে ডাস্টবিন রাখতে হবে, না হলে জরিমানা গুনতে হবে। নারা পার্কে প্রায় চল্লিশ বছর পর আবার বসানো হয়েছে সৌরশক্তিচালিত স্মার্ট ডাস্টবিন। সেগুলো ময়লা চাপ দিয়ে ছোট করে এবং বন্য হরিণদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করে। কাওয়াগোয়ে শহরে পর্যটকদের মধ্যে বিনা মূল্যে পানিরোধক ব্যাগ বিতরণ করা হচ্ছে, যাতে তাঁরা নিজের ময়লা সঙ্গে রাখতে পারেন।

পিঠে ডাস্টবিন নিয়ে রাস্তায় শিক্ষার্থীরা

জাপানে সবচেয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি নিয়েছে সেইকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। তাঁরা বড় বড় ডাস্টবিন পিঠে ঝুলিয়ে ব্যাকপ্যাকের মতো করে শিবুয়া এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পর্যটকেরা চাইলে সেখানে ময়লা ফেলতে পারছেন। এই উদ্যোগের উদ্যোক্তা জুনসেই কিদো বলেন, ‘মানুষ বিরক্ত হয়নি, বরং অনেকে প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, ব্যাপারটা বেশ চমৎকার এবং সৃজনশীল।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার

এই অভিজ্ঞতাগুলো এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। জাপানে কীভাবে ময়লা নিয়ে চলতে হয়, তার নানান কৌশল নিয়ে ভিডিও ছড়াচ্ছে। কেউ পকেটে ছোট ব্যাগ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন, কেউ বলছেন রেলস্টেশন বা কনভেনিয়েন্স স্টোরের ডাস্টবিন ব্যবহার করতে।

বিরক্তির মাঝেও প্রশংসা

সব ঝামেলার পরও অনেক পর্যটক জাপানের মানুষের দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেছেন। এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে ডাস্টবিন পাওয়া সহজ, কিন্তু বিনা মূল্যের টয়লেট পাওয়া কঠিন। জাপানে ঠিক উল্টো।’

মিরান্ডা ক্যাসলবেরির কথায়, এত কিছুর পরও জাপানের প্রতি তাঁর ভালোবাসা কমেনি। তিনি জানান, জাপান এখনো তাঁর দেখা সবচেয়ে পরিষ্কার দেশ। নিজের দেশে ফিরে তাকালে তিনি বুঝতে পারেন, অনেক সময় আমেরিকানরা কতটা অসাবধানভাবে ময়লা ফেলেন।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

বসন্তে এশিয়ায় ভ্রমণের ৮ গন্তব্য

বিশ্বের ৫ অসাধারণ ট্রেনযাত্রা

এআইয়ের ফাঁদে পর্যটক, অস্ট্রেলিয়ায় এক অস্তিত্বহীন ঝরনা খুঁজে হয়রান

ঝিটকায় এক রাত

ক্যাথলিক ক্যাথেড্রালে

ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কায় দেখা মেলে নীল তিমির

প্রথম বিদেশ ভ্রমণের আগে জেনে নিন

একলা ভ্রমণে অন্তর্মুখী স্বভাবের মানুষের জন্য আড্ডা জমানোর কৌশল

শ্রীলঙ্কা ভ্রমণে জনপ্রিয় ১০ সমুদ্রসৈকত

ভুটানে প্রথমবার? এই ১২ অভিজ্ঞতা তালিকায় রাখুন