হোম > জীবনধারা > ফিচার

রমজান থেকেই গড়ে তুলুন দারুণ কিছু অভ্যাস

ফিচার ডেস্ক

ছবি: পেক্সেলস

রমজান শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়, এটি আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার এবং আত্মিক নবায়নের এক অনন্য মাস। বছরের এই ৩০ দিন আমাদের রুটিন বদলে যায়, মন নরম হয় এবং আত্মা পরিশুদ্ধ হয়। যদি আপনি দীর্ঘস্থায়ী কোনো ভালো অভ্যাস গড়তে চান, তবে রমজানই হলো তার শ্রেষ্ঠ সময়। একে বলা যেতে পারে আত্মার জন্য একটি ‘ট্রেনিং ক্যাম্প’। সবাই একসঙ্গে রোজা রাখে বলে একাকিত্ববোধ হয় না এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হয়। সেহরি ও ইফতারের কারণে আমাদের খাওয়া ও ঘুমের একটি নির্দিষ্ট শৃঙ্খলা তৈরি হয়। প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে এমন একটি পবিত্র পরিবেশে কিছু দারুণ অভ্যাস নিজের জীবনের সঙ্গে যুক্ত করা যায়।

রমজানে পালনীয়

কোরআন তিলাওয়াত: রমজান হলো কোরআনের মাস। প্রতিদিন অন্তত এক পারা তিলাওয়াত করলে মাস শেষে পূর্ণ কোরআন খতম করা সম্ভব।

বেশি বেশি দোয়া: তাহাজ্জুদ, ইফতারের আগে এবং শেষ ১০ রাতের সময়গুলো দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সুযোগ।

জিকির: জিকির অন্তরকে পবিত্র করে এবং অনর্থক কথাবার্তা থেকে দূরে রাখে।

নিয়মিত রোজা: সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমদের জন্য রোজা ফরজ। কোনো কারণে রোজা কাজা হলে পরে তা আদায় করতে হয় অথবা ফিতরা দিতে হয়। ইচ্ছাকৃত রোজা ভাঙলে কাফফারার বিধান রয়েছে।

তারাবির নামাজ: এশার নামাজের পর এই বিশেষ নফল নামাজ সওয়াব অর্জনের বড় মাধ্যম।

দান-সদকা: হাসি দেওয়া, কাউকে পানি পান করানো বা সাহায্য করাও সদকা। সাদকায়ে জারিয়া (যেমন গাছ লাগানো বা কুয়া খনন) করলে মৃত্যুর পরও সওয়াব পাওয়া যায়।

ফিতরানা আদায়: ঈদের নামাজের আগেই ফিতরানা দিতে হয়, যা রোজাদারের ত্রুটি-বিচ্যুতি পবিত্র করে এবং অভাবীদের মুখে হাসি ফোটায়।

রোজাদারকে ইফতার করানো: অন্যকে ইফতার করালে সেই রোজাদারের সমান সওয়াব পাওয়া যায়, তবে তার সওয়াব থেকে কিছুই কমানো হয় না।

অনর্থক কথা বর্জন: রোজা শুধু পানাহার ত্যাগ নয়, বরং অশ্লীল ও অসার কথাবার্তা থেকেও বিরত থাকা।

ক্ষমাপ্রার্থনা ও জ্ঞানার্জন: রমজান হলো বিগত দিনের পাপ থেকে ক্ষমা পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ; পাশাপাশি ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করা উচিত।

রমজানে গড়ে তুলুন ৭ অভ্যাস

-শুধু কোরআন খতম নয়, বরং একে নিত্যসঙ্গী বানান। প্রতিদিন অল্প করে হলেও তিলাওয়াত করুন। তিলাওয়াতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিভিন্ন অ্যাপের ‘প্ল্যানার’ বা ‘স্ট্রিক’ ফিচার ব্যবহার করতে পারেন।

-রোজা আমাদের শেখায় আল্লাহ দেখছেন। কথা বলার বা কোনো কাজ করার আগে ভাবুন, ‘আল্লাহ কি এতে খুশি হবেন?’ এই সচেতনতাই হলো প্রকৃত তাকওয়া।

-মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ ও তারাবি আদায়ের মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়ে। এমন সঙ্গীদের সঙ্গে সময় কাটান, যাঁরা আপনাকে আল্লাহর পথে উৎসাহিত করে।

-অনর্থক সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং ইবাদতে বিঘ্ন ঘটায়। এই মাসে অহেতুক ফোন ব্যবহার কমিয়ে আত্মিক উন্নতির দিকে মনোযোগ দিন। প্রয়োজনে ক্ষতিকর কনটেন্ট ফিল্টার করার অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।

-ইফতারে অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে পুষ্টিকর ও হালাল খাবার বেছে নিন। শরীর হালকা থাকলে ইবাদতে বেশি শক্তি পাওয়া যায়। তারাবির পর সামান্য হাঁটাচলা শরীরের জন্য ভালো।

-নতুন নতুন সুরা মুখস্থ করলে নামাজে মনোযোগ বাড়ে। তারাবিতে ইমামের তিলাওয়াত শুনে অনুপ্রাণিত হোন এবং নিজে তিলাওয়াত বিশুদ্ধ করার চেষ্টা করুন।

-কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে নির্জনে আল্লাহর কথা চিন্তা করুন। সকাল-সন্ধ্যার আজকার এবং ইতিকাফ এই অভ্যাসের সেরা উপায়। নিস্তব্ধতায় অন্তর প্রশান্তি খুঁজে পায়।

রমজানের পর অভ্যাসগুলো ধরে রাখার উপায়

রমজানের পরিবর্তন যেন শুধু ৩০ দিনের জন্য না হয়, বরং সারা জীবনের জন্য হয়। এর জন্য—

-ছোট ছোট আমল দিয়ে শুরু করুন।

-পরিমাণের চেয়ে আমলের গুণাগুণ বা একাগ্রতার দিকে গুরুত্ব দিন।

-অন্তত ৩টি প্রিয় অভ্যাস পরবর্তী বছরের জন্য স্থায়ী করুন।

-নেক আমলের ওপর অটল থাকার জন্য (ইস্তিকামাহ) আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।

-আল্লাহ আমাদের এই রমজানে বেশি বেশি নেক আমল করার তৌফিক দিন এবং রমজানের পবিত্র চেতনা সারা বছর ধরে রাখার শক্তি দান করুন। আমিন।

সূত্র: প্রোডাকটিভ মুসলিমস, গ্লোবাল রাহমাহ ফাউন্ডেশন

এবারের ঈদে যেসব রঙের পোশাক কিনতে পারেন

রমজান মাসে কফি পান করুন নিয়ম মেনে

মিসিং ডে: কেন ও কীভাবে পালন করবেন

একুশের পোশাকে বর্ণমালার নকশা ও আধুনিকতা

৫৪ বছর পর আবার কেন চাঁদে যাচ্ছে মানুষ

রমজান মাসে বাজার করুন পরিকল্পনা অনুযায়ী

জানা-অজানার ভ্যালেন্টাইনস ডে

ভালোবাসা দিবসে সিঙ্গেলরা যা করতে পারেন

কাছে থাকুন বা দূরে, প্রিয় মানুষটির সঙ্গে ভালোবাসা দিবস যেভাবে কাটাতে পারেন

ভ্যালেন্টাইন অভিসারে কোন রঙের লিপস্টিক দেবেন, জেনে নিন