আজ গিফট গিভিং ডে বা উপহার দেওয়ার দিন। উপহার মানেই আনন্দ। কিন্তু বিশ্বের সব প্রান্তে এই আনন্দের নিয়ম এক নয়। কোথাও ঘড়ি উপহার দেওয়া যেমন মৃত্যুর বার্তা, আবার কোথাও কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যাকে অশুভ বলে মনে করা হয়। দেশভেদে উপহার আদান-প্রদানের কিছু বিচিত্র রীতি ও মানা-বারণ আছে, যা আমরা হয়তো অনেকে জানি না। তবে উপহার যেটাই হোক, তার পেছনের উদ্দেশ্য হলো ভালোবাসা বিনিময়।
উপস্থাপনাই যেখানে আসল
জাপানে উপহারের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় এর মোড়ক বা প্রেজেন্টেশনের ওপর। খুব যত্ন করে উপহার প্যাক করা সে দেশে বাধ্যতামূলক। এমনকি মোড়কের ভাঁজও সেখানে অর্থ বহন করে। বিজোড়সংখ্যক ভাঁজকে মনে করা হয় সুখ ও উৎসবের প্রতীক। মিসরেও উপহার প্যাকিং নিয়ে চমৎকার নিয়ম আছে। সেখানে দুই স্তরের ভিন্ন রঙের কাগজ দিয়ে উপহার মোড়াতে হয়, যা অনুষ্ঠানে বাড়তি জাঁকজমক যোগ করে।
অদ্ভুত ও মজার সব প্রথা
কেনিয়া: মাসাই উপজাতির মধ্যে থুতু দেওয়া হলো আশীর্বাদের চিহ্ন। তারা উপহার দেওয়ার আগে বা নবজাতককে আশীর্বাদ করতে তার গায়ে থুতু ছিটিয়ে দেয়।
আয়ারল্যান্ড ও জার্মানি: আয়ারল্যান্ডে কেউ উপহার দিলে ভদ্রতা দেখাতে একবার বা দুবার বিনয়ের সঙ্গে ফিরিয়ে দেওয়ার নিয়ম আছে। আর জার্মানিতে যার জন্মদিন, আয়োজন ও পানীয়র খরচ তাকেই বহন করতে হয়!
তুরস্ক: বিয়ের অনুষ্ঠানে কনেকে সোনার কয়েন উপহার দেওয়া হয়, যা দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের প্রতীক।
ফিজি: বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার সময় কনের পরিবারকে তিমির দাঁত উপহার দেওয়ার রীতি আছে!
সংখ্যার শুভ-অশুভ খেলা
উপহারের ক্ষেত্রে সংখ্যার গুরুত্ব অনেক দেশে অপরিসীম।
রাশিয়া: দেশটিতে আনন্দ উৎসবে সব সময় বিজোড়সংখ্যক ফুল দিতে হয়। জোড় সংখ্যার ফুল কেবল শেষকৃত্যে ব্যবহার করা হয়।
ভারত: নগদ অর্থ উপহার দেওয়ার সময় শেষে ১টি মুদ্রা বাড়তি যোগ করা শুভ বলে বিবেচিত হয়। যেমন ১০১ বা ৫০১ রুপি। বিজোড় এই সংখ্যা বৃদ্ধি ও নতুন শুরুর প্রতীক।
আর্জেন্টিনা ও থাইল্যান্ড: আর্জেন্টিনায় ১৩ সংখ্যাটি চরম অশুভ। অন্যদিকে থাইল্যান্ডে ৯ সংখ্যাটি সবচেয়ে লাকি। কারণ, থাই ভাষায় ৯-এর উচ্চারণ হলো ‘এগিয়ে যাওয়া’ বা ‘সমৃদ্ধি’।
যা উপহার দেবেন না বা এড়িয়ে চলবেন
কিছু সাধারণ জিনিস অন্য দেশে উপহার হিসেবে দিলে আপনার সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে।
চীন ও সিঙ্গাপুর: চীনে ঘড়ি উপহার দেওয়া মানে কারও আয়ু ফুরিয়ে আসার ইঙ্গিত দেওয়া। আর সিঙ্গাপুরে রুমাল উপহার দেওয়া মানে শোক বা বিদায়ের বিষাদ ছড়িয়ে দেওয়া। বিষয়গুলো মনে রাখুন।
জাপান ও ভিয়েতনাম: জাপানে ক্যাকটাস বা টবে রাখা গাছ অসুস্থতার প্রতীক। ভিয়েতনামে জুতা উপহার দেওয়া মানে সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি করা বা দুর্ভাগ্য ডেকে আনা।
বলিভিয়া: দেশটিতে থাকলে ধারালো কিছু; যেমন ছুরি বা কাঁচি ইত্যাদি কাউকে উপহার দেবেন না। কারণ, এগুলো সম্পর্কের সুতা কেটে যাওয়ার প্রতীক।
রাশিয়া: হলুদ টিউলিপ বা হলুদ ফুল মানেই বিশ্বাসঘাতকতা! এটি রোমান্টিক বা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে এড়িয়ে চলাই ভালো।
ধর্মীয় ও সামাজিক বিধি-নিষেধ
সৌদি আরব: ইসলামি রীতি অনুযায়ী পুরুষদের জন্য সোনা এবং সিল্কের তৈরি যেকোনো জিনিস উপহার দেওয়া নিষিদ্ধ। তবে রুপার জিনিস চমৎকার উপহার হতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়া: কারও নাম লাল কালিতে লিখবেন না। লাল কালিতে নাম লেখা মানে সেই ব্যক্তি বিপদে আছেন বা মারা গেছেন!
দক্ষিণ আফ্রিকা: এ দেশে উপহার খুব সাধারণ ও ব্যবহারিক হতে হয়, যেমন বই বা সাবান। কারণ, দক্ষিণ আফ্রিকায় উৎসবের মূল আকর্ষণ হলো ধর্মীয় চেতনা।
উপহার নেওয়ার ধরন
উপহার গ্রহণ করার ক্ষেত্রেও আছে ভিন্নতা। থাইল্যান্ডে দাতার সামনে উপহার খোলা অভদ্রতা। কিন্তু তুরস্কে ঠিক তার উল্টো। সেখানে তৎক্ষণাৎ উপহার খুলে আনন্দ প্রকাশ করতে হয়। ঘানায় উপহার সব সময় ডান হাতে দিতে হয়। কারণ, বাঁ হাতকে সেখানে অপরিচ্ছন্ন মনে করা হয়। গ্রিসে আবার জন্মদিনের চেয়ে নাম দিবস পালন বেশি জনপ্রিয়। সেখানে মেহমানেরা না জানিয়ে মিষ্টি বা ফুল নিয়ে হাজির হতে পারেন। জাপানে ভ্রমণ শেষে সহকর্মীদের জন্য ওমিয়াগে বা স্যুভেনির আনা বাধ্যতামূলক। আর নিউজিল্যান্ডে মাওরিদের মধ্যে ‘উতু’ নামক প্রথা চালু আছে; যা সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য উপহার আদান-প্রদানকে গুরুত্ব দেয়। যুক্তরাজ্যে লটারি টিকিট উপহার দেওয়া একটি বড় ট্রেন্ড। আর জার্মানিতে ৫ ডিসেম্বর রাতে সেন্ট নিকোলাস শিশুদের জুতার ভেতর ছোট ছোট উপহার ও মিষ্টি রেখে যান।
সূত্র: স্টার্স ইনসাইডার