হোম > জীবনধারা > ফিচার

আমেরিকান সমাজে একাকিত্বের নতুন বাস্তবতা

ফিচার ডেস্ক

একসময় আমেরিকার পারিবারিক উৎসব মানেই ছিল কোলাহল। ছুটির দিনে বাড়িভর্তি থাকত চাচাতো-ফুফাতো ভাই-বোনে। শিশুরা দৌড়াদৌড়ি করত, বড়রা গল্পে মেতে উঠত। কিন্তু সময় বদলেছে। আজ অনেক আমেরিকানের জীবনে সেই চেনা দৃশ্য আর নেই। পরিবারের আকার ছোট হয়ে আসছে, আর তার সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে শৈশবের সবচেয়ে কাছের সম্পর্কগুলো।

পরিবার বড় থেকে ছোট

টিনা ডনভিটোর শৈশবের স্মৃতিতে এখনো ভাসে বড় বড় পারিবারিক আড্ডার ছবি। তাঁর বাবার কাজিন ছিল ২৫ জন, মায়ের ছিল ১৯ জন। টিনার প্রজন্মে সেই সংখ্যা নেমে আসে ৯ জনে। আর এখন তাঁর সন্তানদের কাজিন মাত্র ৬ জন। টিনা বলেন, ‘আগের দিনের বড় পরিবারগুলো এখন শুধু স্মৃতি। এমন পরিবার এখন আর খুব একটা দেখা যায় না।’ এই পরিবারের গল্প আসলে নতুন কিছু নয়। এটি পুরো যুক্তরাষ্ট্রেরই বাস্তব চিত্র। জনসংখ্যাবিদেরা বলছেন, প্রজন্মের পর প্রজন্মে আমেরিকান পরিবারে কাজিনের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমে যাচ্ছে। অনেক শিশুর এখন হয়তো মাত্র একজন কাজিন আছে, অনেকের আবার একজনও নেই।

গবেষণার ভাষায়

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যাবিদ ড. পামেলা জে. স্মক জানান, এই পরিবর্তন ক্ষণস্থায়ী নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রবণতা। তাঁর মতে, পরিবারের গঠন এখন মৌলিকভাবে বদলে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেসে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৯৫ সালে ৬৫ বছর বয়সী একজন নারীর গড় আত্মীয়ের সংখ্যা হবে মাত্র ২৫ জন। তুলনায়, ১৯৫০ সালে একই বয়সী নারীদের আত্মীয়সংখ্যা ছিল ৪১ জন। অর্থাৎ প্রায় ৩৮ শতাংশ কম। গবেষকদের মতে, দেরিতে বিয়ে ও জন্মহার কমে যাওয়ার প্রবণতার ফল হিসেবে এই পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠছে।

দেরিতে বিয়ে, কম সন্তান

পঞ্চাশের দশকে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত ১৯-২০ বছর বয়সে বিয়ে হতো। ফলে পরিবার বড় হওয়ার সুযোগ ছিল। বর্তমানে চিত্র ভিন্ন। আমেরিকান পুরুষেরা গড়ে ৩০ বছরের পর এবং নারীরা প্রায় ২৯ বছর বয়সে বিয়ে করছেন। দেরিতে বিয়ে মানে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যাওয়া। অনেক ক্ষেত্রে একেবারেই না নেওয়া। বাড়ির উচ্চমূল্য, খাদ্যপণ্যের বাড়তি খরচ, স্বাস্থ্য ব্যয় এবং ছাত্রজীবনের ঋণের চাপ—সব মিলিয়ে অনেক তরুণ দম্পতি বড় পরিবার গড়তে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

বদলে যাচ্ছে পারিবারিক কাঠামো

এখন আর একান্নবর্তী পরিবার দেখা যায় না। যেখানে বাবা-মা, ভাই-বোন এবং তাদের সন্তানেরা একসঙ্গে থাকত। কিন্তু এখন এই চিত্র বদলেছে। একক পরিবার এখন পুরো বিশ্বে দেখা যায়। সেই জায়গায় যুক্তরাষ্ট্র আরও এগিয়ে। এর অন্যতম কারণ শহরকেন্দ্রিক জীবন এবং জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি। ড. স্মক সতর্ক করে বলেন, এতে একদিকে যেমন বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে তাঁদের দেখাশোনার জন্য তরুণদের ওপর চাপ বাড়ছে। এটি ভবিষ্যতে বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

‘প্রথম বন্ধু’ হারানোর বেদনা

এই পরিবর্তনের একটি গভীর আবেগপ্রবণ দিকও রয়েছে। আমেরিকান সংস্কৃতিতে কাজিনদের বলা হয় ‘প্রথম বন্ধু’। তারা একই রক্তের, একই পারিবারিক অংশ। কিন্তু ভাইবোনের মতো প্রতিদিনের দ্বন্দ্ব বা প্রতিযোগিতায় জড়াতে হয় না। শৈশবে এই সম্পর্ক শিশুদের সামাজিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কাজিন না থাকা মানে সেই স্বাভাবিক বন্ধুত্ব ও পারিবারিক সংযোগের অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হওয়া।

পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন নয় সমাজ

তবে ভবিষ্যৎ পুরোপুরি অন্ধকার নয়। পিও রিসার্চ সেন্টারের ২০২২ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, এখনো ৫৫ শতাংশ আমেরিকান অন্তত কয়েকজন আত্মীয়ের কাছাকাছি বসবাস করেন। আর কাজিনের অভাব পূরণ করতে গিয়ে অনেক আমেরিকান পরিবার ধারণাটিকেই নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছেন। রক্তের সম্পর্ক নেই এমন ঘনিষ্ঠ বন্ধু কিংবা প্রতিবেশীরাও সামাজিক জীবনে হয়ে উঠছেন কাজিনের মতো।

পরিবার হয়তো ছোট হচ্ছে, কিন্তু মানুষের কাছাকাছি থাকার চাহিদা কমেনি। সম্পর্কের রূপ বদলাচ্ছে।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

রমজান থেকেই গড়ে তুলুন দারুণ কিছু অভ্যাস

এবারের ঈদে যেসব রঙের পোশাক কিনতে পারেন

রমজান মাসে কফি পান করুন নিয়ম মেনে

মিসিং ডে: কেন ও কীভাবে পালন করবেন

একুশের পোশাকে বর্ণমালার নকশা ও আধুনিকতা

৫৪ বছর পর আবার কেন চাঁদে যাচ্ছে মানুষ

রমজান মাসে বাজার করুন পরিকল্পনা অনুযায়ী

জানা-অজানার ভ্যালেন্টাইনস ডে

ভালোবাসা দিবসে সিঙ্গেলরা যা করতে পারেন

কাছে থাকুন বা দূরে, প্রিয় মানুষটির সঙ্গে ভালোবাসা দিবস যেভাবে কাটাতে পারেন