হোম > জীবনধারা > ফিচার

শরীর ও মন ভালো রাখে যোগব্যায়াম

সানজিদা সামরিন

বৃতি দেব। ছবি: হাসান রাজা

গত কয়েক বছরে ‘ওয়েলবিয়িং’ শব্দটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে এর সঙ্গে যোগব্যায়ামের সম্পর্ক কতটা গভীর? প্রশিক্ষকদের মতে, যোগব্যায়াম শুধু কিছু আসন নয়, এটি শরীর ও মনের ভারসাম্য রক্ষার একটি বিজ্ঞানও। এ বিষয়ে ইয়োগা উইদ দেবের স্বত্বাধিকারী ও প্রধান যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক বৃতি দেবের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন সানজিদা সামরিন

ওয়েলবিয়িং ও যোগব্যায়ামের সম্পর্ক

বৃতি দেব বলেন, ‘ভালো থাকা মানে শরীর ও মন—দুটো নিয়েই ভালো থাকা। যোগব্যায়াম শরীর, মন ও আত্মাকে একটি সমান্তরাল স্তরে নিয়ে আসতে সহায়ক।’ প্রতিদিন যোগব্যায়াম করলে মানুষের মনের মধ্য়ে থাকা চাপ, ভয় ও অস্থিরতা ধীরে ধীরে কেটে যায়। শরীর ভেতর ও বাইরে থেকে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। নিজের সঙ্গে একটা ভালো বন্ডিং তৈরি হয়। ওয়েলবিয়িং মানেই ভালো ফিগার নয়, এটি নিজেকে ভালোবাসা, ভালো রাখা এবং নিজের ভেতরের কথাটি শোনা। যোগব্যায়ামের কয়েকটি আসন ওয়েলবিয়িংকে খুব ভালোভাবে স্পর্শ করতে পারে। এগুলোর মধ্য়ে রয়েছে তদাসন, বলাসন, সুখাসন, ভুজঙ্গাসন, শবাসন। এর সঙ্গে অবশ্যই গভীর শ্বাসপ্রশ্বাসের অনুশীলন করতে হবে বলে জানান তিনি।

যোগব্যায়াম যে কারণে জরুরি

ব্যস্ততম ও মানসিক চাপপূর্ণ যে জীবন আমরা যাপন করছি, সেখানে যোগব্যায়াম মূলত তিনটি কারণে জরুরি ভূমিকা রাখে—বলেন বৃতি। সেগুলো হলো—

  • শরীর সচল রাখা: কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ ডেস্কে বসে থেকে কাজ করার কারণে শক্ত হয়ে যাওয়া পেশি শিথিল করতে যোগব্যায়াম খুব কাজে দেয়। শরীরের ব্যথা কমে, ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়ে এবং শরীর হালকা লাগে।
  • মন শান্ত এবং নার্ভাস সিস্টেম রিসেট করে: স্ট্রেস, অ্যাংজাইটি, অফিসের কাজ ইত্যাদির কারণে আমরা যে ওভার অ্যাকটিভ মুডে থাকি, যোগব্যায়াম সেটাকে শান্ত রাখতে সহায়তা করে। ডিপ ব্রিদিং ও অন্যান্য আসন করার ফলে নার্ভাস সিস্টেম খুব দ্রুত শান্ত হয়। এতে ঘুম ভালো হয়, মনোযোগ বাড়ে ও ইমোশনাল ব্যালান্স তৈরি হয়।
  • নিজের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে: নিজের সঙ্গে আত্মিক যোগাযোগ তৈরিতে যোগব্যায়ামের তুলনা হয় না। এতে আত্মসচেতনতা বাড়ে, নিজের প্রতি ভালোবাসা বাড়ে।

যে কারণে যোগব্যায়ামের সুফল পাওয়া যায় না

বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণে যোগব্যায়াম করলেও এর ফল পাওয়া যায় না। বৃতি দেব বলেন, ‘নিয়মিত অনুশীলনের অভাবে যোগব্যায়ামের সুফল থেকে আমরা বঞ্চিত হই। টানা কিছুদিন করার পর যদি চার থেকে পাঁচ দিনের বিরতি পড়ে, তখন

শরীর, মন ও আত্মার মধ্য়ে যে রিদম আমরা আনার চেষ্টা করেছিলাম, সেটা আর থাকে না। এই কনসিসট্যান্সিটাই আসলে মূল জাদু। আপনি প্রতিদিন কত সময় ধরে যোগব্যায়াম করছেন, সেটির চেয়ে প্রতিদিন করছেন কি না, তা হয়ে ওঠে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

এ ছাড়া শ্বাসপ্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ না দিলেও উপকারিতা পাওয়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। যোগব্যায়াম করার সময় যদি শ্বাসপ্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ দেওয়া না হয়, তাহলে ৫০ শতাংশ উপকারিতা পাওয়া যাবে না।

বৃতি দেব। ছবি: হাসান রাজা

এ ছাড়া ভুলভাল আসন এবং খুব কঠিন কোনো আসন করতে চাওয়ার কারণেও হিতে বিপরীত ঘটতে পারে। অন্যকে চমকে দেওয়ার জন্য যোগব্যায়াম করতে আসা ভুল কনসেপ্ট। এতে করে শারীরিকভাবে ব্যথা বা চোট পাওয়ার আশঙ্কা আছে।

বৃতি দেব আরও জানান, যোগব্যায়াম হলো সেলফ লিসেনিং। এটা করতে গেলে নিজের শরীরের কথা শুনতে হবে। আপনি কতটা চাপ নিতে পারবেন, কতক্ষণ ও কত দূর করতে পারবেন, তা বুঝতে হবে। নয়তো কোনো উপকারই পাওয়া যাবে না।

ভরা পেটে যোগব্যায়াম করলেও তার সুফল পাওয়া যাবে না। বৃতি দেব জানান, যোগব্যায়ামের জন্য খুব ভোর বা সন্ধ্যার সময়টি বেছে নেওয়া হয় মূলত পেট হালকা থাকার কারণে। সাধারণত খাবার খাওয়ার ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর বা খালি পেটে অথবা হালকা স্ন্যাকস খাওয়ার বেশ কিছুক্ষণ পর যোগব্যায়াম করা উচিত। এর পূর্ণ ফল পেতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রয়োজন।

ফিটনেস এবং সুন্দর ত্বকের জন্য যোগব্যায়াম

যোগব্যায়াম শরীরে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সহায়তা করে। এতে ত্বকের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌঁছায়। হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে যোগব্যায়াম। ফলে ফিটনেসের পাশাপাশি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে, ত্বক টানটান হয়, হজম ভালো হয় বলে ত্বকের ব্রণ ও র‍্যাশ হওয়ার প্রবণতা কমে। তাই সূর্য নমস্কার, ভুজঙ্গাসন, সর্বাঙ্গাসন, অর্ধ মৎস্যেন্দ্রাসন, বলাসন, নৌকাসন, সেতুবন্ধাসন ইত্য়াদির সঙ্গে সঙ্গে গভীর শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম বা প্রাণায়ামের পরামর্শ দেন তিনি।

বৃতি দেব। ছবি: হাসান রাজা

কত দিনের মধ্য়ে পরিবর্তন আসে

যোগব্যায়াম শুরু করার ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্য়ে শরীর অনেকটা হালকা কিংবা লাইট মনে হয়। ঘুম খুব ভালো হয়। দুই থেকে তিন সপ্তাহ টানা অনুশীলন করলে শরীরের স্থিতিস্থাপকতা চলে আসবে এবং দেহভঙ্গি ঠিক হওয়া শুরু করবে। এ ছাড়া চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্য়ে মানসিক চাপ কমে যায়, মন শান্ত হওয়া শুরু করে। টানা ১০ থেকে ১২ সপ্তাহ অনুশীলন করলে ধীরে ধীরে স্থায়ী পরিবর্তন দেখা দেওয়া শুরু করে। তবে প্রতিদিন ২০ মিনিট কিংবা সপ্তাহে তিন দিন ৬০ মিনিট করলে খুব সুন্দরভাবে পরিবর্তন চোখে পড়বে।

ট্রেন্ডে কোন ধরনের যোগব্যায়াম

বৃতি দেবের কাছ থেকে জানা যায়, বর্তমানে তিন ধরনের যোগব্যায়াম ট্রেন্ডে রয়েছে। প্রথম হচ্ছে ফাংকশনাল ইয়োগা, যাকে লাইফস্টাইল অ্যালাইনমেন্ট ইয়োগা বলা হয়। কর্মজীবীদের দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করতে হয় বলে তাঁদের মেরুদণ্ড, হিপ ও কাঁধ—এই তিন জায়গায় নির্ধারিতভাবে কিছু সমস্যা তৈরি হয়। ফাংকশনাল ইয়োগা এসব জায়গা সারিয়ে তুলতে সহায়তা করে। ব্রিজ, বোট পোজ, পিজন পোজ, থ্রেড দ্য নিডল—এই আসনগুলো খুব ভালো কাজ করে এসব ক্ষেত্রে। এরপর রয়েছে ডেস্ক বা করপোরেট ইয়োগা। এগুলো অফিসের ডেস্কে বসেই ১০ থেকে ১৫ মিনিটে করা যেতে পারে। বিভিন্ন ধরনের টুইস্ট, স্ট্যান্ডিং সাইড বেন্ড, শোল্ডার স্ট্রেচিং ইত্যাদি। তা ছাড়া বর্তমানে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমায় এমন ইয়োগা আসনগুলো খুব ট্রেন্ডে রয়েছে। চাইল্ড পোজ, বাটারফ্লাই পোজ, সর্বাঙ্গাসন ইত্যাদির সঙ্গে ডিপ ব্রিদিং যুক্ত করে অনুশীলন করতে পারলে অনেকটা সেরে ওঠা যাবে বলে মনে করেন তিনি।

যেসব অভ্যাস যুক্ত করা জরুরি

বৃতি দেব জানান, শুধু যোগব্যায়াম প্রতিদিন করলেই ফল পাওয়া যায় না। এর ফল পরিপূর্ণভাবে পেতে জীবনযাপনের অনেক জায়গায় বদল আনতে হবে। এ জন্য প্রতিদিন নিয়মমাফিক সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম না হলে যোগব্যায়ামের অর্ধেক গুরুত্ব কমে যায়। এ ছাড়া সঠিকভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে হবে। প্রতিদিন কাজের ফাঁকে ফাঁকে কয়েক মিনিট ডিপ ব্রিদিং অনুশীলন করা জরুরি। তাজা ও সহজপাচ্য খাবার অল্প তেল-মসলায় অল্প আঁচে রান্না করে খেতে হবে। তবে খাবারের মধ্যে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন বেশি থাকতে হবে। এ ছাড়া প্রতিদিন ১৫ মিনিট হাঁটার অভ্যাস থাকা চাই। এতে যোগব্যায়ামের ফল খুব কার্যকরী হয়। সবশেষে দিনে কাজ বাদে যতটা সম্ভব, যেকোনো ডিভাইসের স্ক্রিন থেকে দূরে থাকতে হবে। এতে শরীর, মন ও চেহারায় যোগব্যায়ামের ভালো ফল চোখে পড়বে।

ডিজিটাল যুগেও টিকে আছে ৪৭৫ বছরের পুরোনো বইয়ের বাজার

নতুন বছরে নিজেকে ফিরিয়ে আনুন ডায়েরির পাতায়

জীবনচাকার গতি ধীর করে ফেলছেন না তো?

মধুতে বিষ! শত শত বছর ধরে খেয়ে চলেছে মানুষ এই বিশেষ মধু

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে শুধু প্রসাধনী নয়, খাদ্যতালিকার দিকেও নজর দিন

এক তরুণের হাত ধরে ভাগ্য ফিরল পুরো গ্রামের

এই ডিসেম্বরে যা কিছু করতে পারেন

ফুলে ফুলে রঙিন হোক বারান্দা

জেনে নিন, স্থায়ীভাবে কোন জায়গাগুলোর ওপর দিয়ে বিমান চলে না

ডিজনির রাজকুমারীরা: রূপকথার হাত ধরে প্রজন্মের শিক্ষা