পূজার আমেজ ইতিমধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। পোশাক-আশাকের বিজ্ঞাপন ও ছাড়ের বার্তা বলে দিচ্ছে আনন্দের কথা। আর উৎসবের প্রস্তুতিতে ঘরদোর একদম ঝকঝকে-তকতকে রাখা চাই। পূজার ঠিক আগের দিনগুলোতে রান্নাবান্না, নতুন পোশাক আর মণ্ডপে ঘোরার ব্যস্ততা থাকে। তাই শেষ মুহূর্তের ধকল এড়াতে এখন থেকেই একটু একটু করে ঘর ডিপ ক্লিন বা গভীর পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সহজ পরিকল্পনায় কীভাবে এখন থেকেই পূজার ঘর গোছানোর প্রস্তুতি শুরু করবেন, তা জেনে নিতে পারেন এখান থেকে।
পুরো বাড়ি এক দিনে পরিষ্কার করতে গেলে হাঁপিয়ে উঠবেন। তাই আজই একটি রুটিন বানিয়ে নিন। প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট ঘরের বা একটা নির্দিষ্ট অংশের দায়িত্ব নিন। যেমন: একদিন শুধু শোবার ঘর, অন্যদিন বসার ঘর কিংবা রান্নাঘর।
পরিষ্কার করার মূল শর্ত হলো ঘরের অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলা। যে জামাকাপড়, পুরনো ম্যাগাজিন, ভাঙা তৈজসপত্র বা কসমেটিকস বছরের পর বছর ব্যবহার করা হয়নি, সেগুলো জমিয়ে না রেখে ফেলে দিন বা কাউকে দান করে দিন। ঘর যত হালকা হবে, উৎসবের আলো তত বেশি ছড়াবে।
ঘর পরিষ্কারের চিরন্তন নিয়ম হলো ওপর থেকে শুরু করে নিচের দিকে আসা। প্রথমে সিলিং ফ্যান, ঝাড়বাতি এবং দেয়ালের ঝুল ঝেড়ে নিন। এরপর জানালার গ্রিল, কাচ এবং দরজার ওপরের অংশ পরিষ্কার করুন। সবশেষে ফার্নিচার মুছে মেঝে ঝাড়ু ও মুছে নিন। এর ফলে ওপরের ধুলো নিচে পড়ে মেঝে আবার নোংরা হবে না।
পূজার দুই সপ্তাহ বাকি থাকতেই ঘরের সব পর্দা, কুশন কভার, সোফার কভার, বিছানার চাদর ও পাপশ ধুয়ে ফেলুন। ড্রাই ক্লিনিংয়ের কিছু থাকলে তা এখনই দোকানে দিয়ে আসুন, যাতে উৎসবের ঠিক আগে আগে ডেলিভারি পেয়ে যান।
উৎসবে নানা পদের রান্নাবান্না হবে রান্নাঘরেই। তাই এই অংশটি সবচেয়ে বেশি পরিষ্কার থাকা চাই। রান্নাঘরের ঝুল ঝেড়ে টাইলসের দেয়াল সাবান-পানি দিয়ে মুছে নিন। এরপর মশলার কৌটো, তেল-ঘিয়ের বোতল সব নামিয়ে ক্যাবিনেট ভালো করে মুছুন। এরপর ফ্রিজ খালি করে বরফ গলিয়ে ভেতরের তাকগুলো তরল সাবান দিয়ে পরিষ্কার করুন। মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার ফেলে দিন। ওভেন, মিক্সার ও চিমনির তেলচিটে ভাব দূর করতে কুসুম গরম পানি ও বেকিং সোডার মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন।
বাথরুমের দেয়াল ও মেঝের টাইলসের কোণে কড়া দাগ বসে যায়। এখন থেকেই ভালো মানের বাথরুম ক্লিনার বা ভিনেগার-বেকিং সোডার পেস্ট দিয়ে স্ক্রাব করে রাখুন। আয়না, কল এবং শাওয়ারের পানির দাগ তোলার জন্য লেবুর রস দারুণ কাজ করে।
পূজার ঠিক দুই-তিন দিন আগে ঘরদোর একবার হালকা মুছে নিন। পিতল বা তামার পূজার বাসনকোসন ও প্রদীপ তেঁতুল বা পীতাম্বরী পাউডার দিয়ে চকচকে করে রাখুন। প্রতিদিন মাত্র ১ থেকে ২ ঘণ্টা সময় দিলেই পূজার আগের দিনগুলোতে আপনার ওপর কোনো বাড়তি চাপ পড়বে না।
সূত্র: ম্যাজিক ব্রিকস ও বিউটিফুল হোমস