চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে আমরা কত কিছুই না করি। ভেষজ তেল, দামি শ্যাম্পু থেকে শুরু করে নিয়মিত হেয়ার স্পা—কোনো কিছুতেই কমতি থাকে না। কিন্তু যে জিনিসটি প্রতিদিন আমাদের চুলের সংস্পর্শে সবচেয়ে বেশি আসে, সেই চিরুনির খবর আমরা কতজন রাখি? অনেকে বছরের পর বছর একই চিরুনি ব্যবহার করে যান। অথচ টুথব্রাশের মতোই চিরুনিও একটি নির্দিষ্ট সময় পর বদলে ফেলা জরুরি।
হেয়ার এক্সপার্ট এবং চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাইবার বা প্লাস্টিকের একটি চিরুনি বা হেয়ার ব্রাশ সর্বোচ্চ ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত ব্যবহারের উপযোগী থাকে। এরপর এটি চুলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে।
প্রতিবার চুল আঁচড়ানোর সময় চিরুনিতে মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল, মৃত কোষ, ধুলোবালি এবং বিভিন্ন হেয়ার প্রোডাক্ট; যেমন জেল, সেরাম বা হেয়ার স্প্রের অবশিষ্টাংশ জমা হয়। নিয়মিত পরিষ্কার করার পরেও চিরুনির ব্রিসলস বা দাঁতের গোড়ায় শক্ত ময়লার আস্তরণ জমে যায়, যা খালি চোখে সব সময় ধরা পড়ে না। দীর্ঘদিন একই চিরুনি ব্যবহার করলে এই ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকযুক্ত ময়লা পুনরায় আমাদের পরিষ্কার চুলে এবং মাথার ত্বকে ফিরে যায়। ফলে চুল দ্রুত তৈলাক্ত হয়ে পড়ে, খুশকি বা মাথার ত্বকে সংক্রমণের সমস্যা দেখা দেয়।
আপনার চিরুনিটি বদলে ফেলার সময় হয়েছে কি না, তা বুঝতে খেয়াল করুন কয়েকটি দিক।
ভেঙে যাওয়া বা বেঁকে যাওয়া দাঁত
চিরুনির দাঁত বা ব্রিসলস যদি ভেঙে যায় বা একদিকে বেঁকে যায়, তাহলে তা চুলে জট পাকানোর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অসমান দাঁতের চিরুনি চুল পড়ার হার বাড়িয়ে দেয়।
ব্রিসলসের মাথার বল বা ক্যাপ ক্ষয়ে যাওয়া
হেয়ার ব্রাশের ব্রিসলসের মাথায় ছোট গোল ক্যাপ থাকে, যা মাথার ত্বক স্ক্র্যাচ থেকে বাঁচায়। এগুলো ক্ষয়ে গেলে সোজা ব্রিসলস মাথার ত্বকে আঘাত করে এবং হেয়ার ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অনড় ময়লা ও দুর্গন্ধ
সাবান বা শ্যাম্পু দিয়ে ধোয়ার পরেও যদি চিরুনির গোড়ার ময়লা পরিষ্কার না হয় কিংবা চিরুনি থেকে কোনো ধরনের ভ্যাপসা গন্ধ বের হয়, তবে বুঝবেন সেখানে ছত্রাক বাসা বেঁধেছে।
অতিরিক্ত চুল পড়া ও ফ্রিজি ভাব
যদি চুল আঁচড়ানোর সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চুল ছেঁড়ে বা চুলে অতিরিক্ত স্ট্যাটিক অর্থাৎ স্থির তড়িৎ ও ফ্রিজি ভাব তৈরি হয়, তবে চিরুনিটি পাল্টে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে একটি ভালো মানের চিরুনি এক বছর পর্যন্ত নিখুঁত রাখা সম্ভব। সে জন্য যা করতে হবে—
চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখতে চিরুনিকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। তাই আজই আপনার ড্রেসিং টেবিলের চিরুনিটি পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজনে সেটি বদলে নতুন চিরুনি বেছে নিন।
সূত্র: শপ সিল্কি ও অন্যান্য