প্রায় সবারই চুলে কোনো না কোনো সমস্যা লেগেই থাকে। চুল পড়া, অসময়ে পেকে যাওয়া, খুশকি, রুক্ষভাব আরও কত কী! এসব সমস্যার সমাধান হিসেবে প্রতিদিন চুলের ওপর চলতে থাকে নানান নিরীক্ষা। এসব সমস্যা সমাধানে নারকেল তেল, আমলকী, পেঁয়াজের রস, অলিভ অয়েল ইত্যাদি উপকরণের নাম তো সবারই জানা। তবে চুলের নানান সমস্যা সমাধানে আরও কিছু ঘরোয়া উপকরণ খুব ভালো ফল দেয়, যেগুলোর উপকারিতার কথা আমরা অনেকেই জানি না। জেনে নেওয়া যাক সেই উপাদানগুলো সম্পর্কে–
হ্যাঁ, কালোজিরার তেল আমরা অনেকেই ব্যবহার করি চুলে। তবে এটি আরও নানাভাবে চুলে ব্যবহার করা যায়। কালোজিরা গুঁড়ো করে বা বেটে যেকোনো হেয়ার মাস্কে মিশিয়ে চুলে এবং স্ক্যাল্পে লাগাতে পারেন। নিয়মিত ব্যবহার করলে এটি চুল পড়া কমাবে, চুলে উজ্জ্বলতা আনবে। চুল কালোও হবে।
খুসকি তাড়াতে তুলসী পাতার জুড়ি মেলা ভার। এতে অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল, দুধরনের গুণাগুণই রয়েছে। তাই খুসকি নির্মূল করতে তুলসী খুব ভালো কাজ করে। এ ছাড়া এটি স্ক্যাল্পের চুলকানি দূর করতেও খুব ভালো ভূমিকা রাখে।
অল্প দুধে কাঁচা হলুদবাটা মিশিয়ে সামান্য গরম করে নিন। এরপর মিশ্রণটি একটু ঠান্ডা করে তাতে মধু মিশিয়ে চুলে লাগান। যাঁরা নির্জীব এবং রুক্ষ চুলের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা চটজলদি সমাধান হিসেবে এই মাস্ক ব্যবহার করে দেখতে পারেন। ভালো ফল পাবেন।
চুলের প্রাকৃতিক রং ধরে রাখতে এবং চুল পড়া কমাতে কারি পাতা খুব ভালো কাজ করে। নিয়মিত এটি ব্যবহার করতে পারলে স্বাস্থ্য়োজ্জ্বল থাকবে। কারি পাতা সরাসরি বেটে চুলে লাগাতে পারেন। তেলে ফুটিয়েও ব্যবহার করতে পারেন। কারি পাতা জলে ফুটিয়ে সেই জল ছেঁকে চুল ধুতে পারেন। আবার গুঁড়ো করে হেয়ার মাস্কে মিশিয়ে নিতে পারেন। সবগুলোই উপকারী।
চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে বা চুল কালো করতে রসুন ভীষণ কার্যকরী। রসুনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে যা স্ক্যাল্প পরিচ্ছন্ন রাখতে সহায়তা করে। মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে বাড়তি পুষ্টি সরবরাহ করতে খুব ভালো কাজ করে রসুন। রসুনকুচি অলিভ অয়েল বা নারকেল তেলে মিশিয়ে গরম করে চুলে লাগাতে পারেন। অথবা খোসা ছাড়িয়ে আগুনো ভালো করে পুড়িয়ে তা তেলে মিশিয়ে লাগাতে পারেন। মধুর সঙ্গে বেটে চুলে লাগালেও ভালো ফল পাবেন। চুল অনেক বেশি প্রাণবন্ত এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়ে উঠবে এতে।
স্ক্যাল্পের এক্সফোলিয়েশনের জন্য খুবই ভালো। দুধ ব্যবহারে স্ক্যাল্প অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়বে না, বরং শুধু ওপরের শুষ্ক, মৃত কোষ সরে গিয়ে নতুন সজীব কোষ বেরিয়ে আসবে। ফলে স্ক্যাল্প আরও বেশি স্বাস্থ্যকর হয়ে উঠবে। সপ্তাহে ২-৩ বার দুধে তুলো ভিজিয়ে মাথার ত্বকে লাগান। এরপর চাইলে পুরো চুলেই দুধ মেখে নিতে পারেন। আধাঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। কয়েকদিনেই পার্থক্যটা বুঝতে পারবেন।
লেখক: কসমেটোলজিস্ট ও স্বত্বাধিকারী, শোভন মেকওভার