বছরের শুরুতেই আমরা আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জনের সংকল্প স্থির করে থাকি; যেমন বাড়তি ওজন কমানো, কোথাও ঘুরতে যাওয়া বা পরিবারকে সময় দেওয়া ইত্যাদি। এসব ব্যক্তিগত সংকল্প স্থির করলেও আমরা অনেক সময় ভুলেই যাই যে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটা বড় অংশ আমাদের কর্মক্ষেত্রে কাটে। তাই নতুন বছরে কাজের জায়গায় নিজেকে কর্মোদ্দীপিত ও ভালো রাখতে কিছু ‘ওয়ার্ক রেজল্য়ুশন’ বা কর্মক্ষেত্রের নতুন কিছু সংকল্প ঠিক করে রাখা দরকার।
কাজের জায়গা সব সময় গুছিয়ে রাখুন
অগোছালো পরিবেশ মানসিক চাপ বাড়ায়। তাই, নতুন বছরের শুরুতেই আপনার ডেস্ক ও কম্পিউটার দুটোই পরিচ্ছন্ন রাখুন। কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থেকে অপ্রয়োজনীয় ফাইল ডিলিট করুন এবং ডেস্ক থেকে পুরোনো কাগজপত্র সরিয়ে ফেলুন। কাজের জায়গা পরিষ্কার রাখলে কাজেকর্মে মনোযোগ বাড়বে ও নতুন নতুন ভাবনাও মাথায় আসবে। প্রতি সপ্তাহের শেষে ডেস্ক সুন্দর করে গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করুন, তাহলে সপ্তাহের শুরুতে ভালোভাবে কাজ শুরু করা যায়।
কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য ঠিক রাখুন
সব সময় কাজ নিয়ে পড়ে থাকলে ব্যক্তিগত জীবন চাপের মুখে পড়ে যায়। বাড়িতে অফিসের কাজ বয়ে নিয়ে এলে ব্যক্তিগত জীবনে অশান্তি তৈরি হয়। তাই নতুন বছরে অবশ্যই এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখুন। অফিস থেকে ফিরে মেইল বা মেসেজের রিপ্লাই না দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। আবার যাঁরা রিমোট জব করেন, তাঁরা কাজের জন্য বাসার একটা নির্দিষ্ট স্থান ঠিক করুন, এতে করে কাজ শেষে সেই জায়গা থেকে সরে আসলে মানসিকভাবে শান্ত হতে পারবেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে পরিবার নিয়ে কোথাও ঘুরতে যেতে পারেন। ছুটির দিনে অফিসের কাজ নিয়ে বাড়িতে ব্যস্ত থাকার অভ্যাসকে না বলুন এ বছর থেকেই।
লাঞ্চ ব্রেক জরুরি, বাদ দেবেন না
অনেক সময় কাজের চাপে দেখা যায় যে আমরা প্রায়ই দুপুরের খাবার খাই না বা লাঞ্চ ব্রেক নিই না। কিন্তু ডেস্ক ছেড়ে অন্তত ২০ মিনিটের বিরতি নিলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ডেস্কে বসে কাজ করতে করতে না খেয়ে বরং সহকর্মীদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে খান। খাওয়ার পর একটু হাঁটাহাঁটি করুন দেখবেন মানসিকভাবে ভালো লাগবে এবং ক্লান্তি আসবে না। এতে পরে পুনরায় যখন ডেস্কে কাজে বসবেন, তখন অনেক ভালোভাবে কাজ সেরে ফেলতে পারবেন।
গতানুগতিক কাজের বাইরে কিছু করুন
নিজের নিত্যদিনের কাজের বাইরেও কিছু চ্যালেঞ্জ নিন। হতে পারে সেটি অন্য কোনো বিভাগের প্রজেক্টে সাহায্য করা বা নতুন সহকর্মীকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া। দেখবেন এসব ছোট ছোট উদ্যোগ আপনাকে দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তুলবে এবং কর্মক্ষেত্রে আপনার গুরুত্ব বাড়াবে।
নতুন দক্ষতা অর্জন করুন
শেখার কোনো শেষ নেই। তাই নতুন বছরে নিজের দক্ষতা বাড়াতে নতুন কিছু শেখার সংকল্প করুন। সেটা হতে পারে নতুন কোনো সফটওয়্যার শেখা কিংবা মানুষের সঙ্গে কথা বলার দক্ষতা বাড়ানো। যা-ই শিখুন না কেন, সেটি আপনাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখবে এবং আপনার ক্যারিয়ারে নতুন পথ দেখাবে।
সময়ের সঠিক ব্যবহার করার চেষ্টা করুন
দিনশেষে কি প্রায়ই মনে হয়, আজকে অনেক সময় নষ্ট হলো? এটি কাটাতে প্রতিদিনের শুরুতেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি কাজ করুন। তারপর বড় কাজগুলোকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে করুন। স্মার্টফোনে অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রেখে গভীর মনোযোগ দিয়ে কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখুন
অফিসে সহকর্মীরা পরিবারের মতোই। কাজের বাইরেও তাঁদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলুন। সহকর্মীদের মধ্যে বিশ্বাস ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলে কাজের চাপ অনেক কম মনে হয় এবং অফিসের পরিবেশও ভালো থাকে।
নিজের টিমের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ুন
পুরো বছরই মাঝেমধ্যে টিমের সবাই মিলে মজার কিছু আয়োজন করুন। হতে পারে সেটা পিকনিক বা কোনো খেলাধুলা। এই ধরনের ছোট আয়োজনগুলো টিমের সদস্যদের মধ্যে একতা বাড়ায় এবং কাজ করার আগ্রহ দ্বিগুণ করে দেয়।
ইতিবাচক থাকুন
ইতিবাচকতা হলো বড় শক্তি। অফিসে কোনো সমস্যা হলে দুশ্চিন্তা না করে সমাধানের দিকে মনোযোগ দিন। অন্যের কাজের প্রশংসা করতে শিখুন। আপনার ছোট একটি ধন্যবাদ বা উৎসাহমূলক কথা একজন সহকর্মীর পুরো দিনটি সুন্দর করে তুলতে পারে।
সূত্র: টিম বন্ডিং ও অন্যান্য