উৎসবের দিনগুলোয় সবার ঘরে অতিথি সমাগম হয়। তাই উৎসব শুরুর আগে বাড়িঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে তুলতে পছন্দ করেন অনেকে। এতে পরে সময় পাওয়া যায় অন্যান্য কাজ করার জন্য। ব্যস্ত শিডিউলের মাঝে এক দিনে পুরো ঘরের কাজ করতে গেলে ঘাম ছুটে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। তাই একটি সঠিক পরিকল্পনা ও গোছানো কৌশল মেনে কাজ করলে কম পরিশ্রমে এবং খুব সহজে ঘর ঝাড়ামোছার কাজ শেষ করা সম্ভব। পূজার আগে ঘর পরিষ্কারের কাজ সহজ করার কিছু কার্যকরী উপায় জেনে রাখতে পারেন।
এক দিনে পুরো বাড়ির ঝুল ঝাড়া বা মোছার সিদ্ধান্ত নেবেন না। পূজা আসার কয়েক দিন আগে থেকে প্রতিদিন একটা করে ঘর বেছে নিন। আজ বসার ঘর তো কাল শোয়ার ঘর; এভাবে ভাগ করে নিলে ক্লান্তি আসবে না এবং কাজ নিখুঁত হবে।
পরিষ্কার করার নিয়ম হলো, সব সময় ওপর থেকে কাজ শুরু করা। প্রথমে লম্বা ঝাড়ু দিয়ে ঘরের সিলিং, ফ্যান এবং দেয়ালের কোণের ঝুল ঝেড়ে নিন। এরপর আলমারি, বুকশেলফ বা জানালার কাচ ও গ্রিল পরিষ্কার করুন। সবার শেষে মেঝে ঝাড়ু দিয়ে ঘর মুছুন। ওপর থেকে কাজ শুরু করলে ঝেড়ে ফেলা ধুলোবালি মেঝেতে পড়বে এবং সব শেষে মেঝে মুছলে একবারে সব সাফ হয়ে যাবে।
কাঠের বা অন্যান্য আসবাবের ধুলা ঝাড়ার জন্য একটি পাতলা সুতি বা মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করুন। যেসব জায়গায় তেলচিটে বা দাগ পুরোনো হয়ে গেছে, সেখানে হালকা তরল সাবান-পানি বা বিশেষ ক্লিনার ব্যবহার করতে পারেন। তবে কাঠের আসবাবে সরাসরি পানি না দিয়ে ধুলো ঝেড়ে শুকনো বা সামান্য আর্দ্র কাপড় দিয়ে মোছা ভালো। টিভির স্ক্রিন, মিউজিক সিস্টেম ইত্যাদি পরিষ্কার করতে শুকনো সুতি কাপড় ব্যবহার করুন।
উৎসবের দিনগুলোয় রান্নাঘরে বেশি কাজ থাকে। অথচ রান্নার তেল-কালির কারণে এই জায়গা বেশি নোংরা হয়। তাই রান্নার চুল্লির চারপাশ, চিমনি এবং মসলার কৌটাগুলো লিকুইড সোপ বা ভিনেগার ও বেকিং সোডার মিশ্রণ দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। অপ্রয়োজনীয় ও ভাঙাচোরা কৌটা বা বাসনপত্র এখনই ফেলে দিন।
বাস্তুশাস্ত্র ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নিয়ম অনুযায়ী, ঘরে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় ও ভাঙা জিনিসপত্র পজিটিভ এনার্জি বা ইতিবাচক শক্তি আসতে বাধা দেয়। তাই বছরের পর বছর জমে থাকা পুরোনো ছেঁড়া কাপড়, অকেজো ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ভাঙা কাচ বা চিরুনি এবং দেব-দেবীর ভাঙা ছবি বা মূর্তি থাকলে তা ঘর থেকে সরিয়ে ফেলুন বা বিসর্জন দিন।
দেব-দেবীর আসন, সিংহাসন এবং ছবি বা বিগ্রহ খুব যত্ন নিয়ে পরিষ্কার করুন। পূজায় পিতল, তামা বা রুপার বাসনপত্র বেশি ব্যবহৃত হয়। লেবু ও লবণ, তেঁতুল অথবা কোলগেট পাউডার দিয়ে ঘষলে এই বাসনগুলো পলকেই নতুনের মতো চকচকে হয়ে উঠবে।
সব কাজ শেষে যখন ঘর মুছবেন, তখন পানির বালতিতে সামান্য লবণ বা লিকুইড ফ্লোর ক্লিনার মিশিয়ে নিতে পারেন। লবণ-পানি ঘরের নেতিবাচক শক্তি দূর করতে সাহায্য করে বলে বাস্তুশাস্ত্রে বিশ্বাস করা হয়। ঘর মোছা হয়ে গেলে একটু সুগন্ধি রুম স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন অথবা প্রতিদিন সন্ধ্যায় ঘরে ধুনো ও ধূপ জ্বালাতে পারেন। এতে উৎসবের আমেজ পুরোপুরি বজায় থাকবে।
সূত্র: ম্যাজিক ব্রিকস, গুড হাউস কিপিং ও অন্যান্য