হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

সুগন্ধি দীর্ঘদিন ভালো রাখার সহজ উপায়

ফিচার ডেস্ক

ছবি: পেক্সেলস

প্রিয় পারফিউমটি প্রতিদিন ব্যবহার করতে করতে হঠাৎ একদিন খেয়াল করলেন, আগের মতো ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে না। পরিচিত সেই সতেজতা নেই। এর জন্য সব সময় পারফিউম দায়ী নয়। ভুলভাবে সংরক্ষণ করার কারণেও বদলে যেতে পারে প্রিয় সুগন্ধির ঘ্রাণ। পারফিউম বেশ সংবেদনশীল একটি জিনিস। তাপ, আলো, আর্দ্রতা ও বাতাসের সংস্পর্শে এর সুগন্ধি উপাদান ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। তবে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে দীর্ঘদিন পারফিউমের ঘ্রাণ ভালো রাখা সম্ভব।

কোথায় রাখবেন পারফিউম

পারফিউম রাখার জন্য ভালো জায়গা হলো ঠান্ডা, অন্ধকার ও শুকনো জায়গা। শোয়ার ঘরের ড্রয়ার এ ক্ষেত্রে বেশ উপযোগী জায়গা। এখানে সরাসরি আলো পড়ে না এবং তাপমাত্রার ওঠানামাও কম। আলমারি বা ওয়ার্ডরোবেও পারফিউম রাখা যায়। পারফিউমের সঙ্গে থাকা বাক্সটি ফেলে না দিয়ে সেটির ভেতরেই পারফিউমের বোতলটি রাখলে ভালো। বাক্সটি আলো থেকে বোতলের সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। অনেকে পারফিউম ফ্রিজেও রাখেন। ঠান্ডা ও স্থির তাপমাত্রার কারণে এতে কিছুটা যুক্তি থাকলেও প্রতিদিন ব্যবহারের পারফিউমের ক্ষেত্রে এটি খুব প্রয়োজনীয় নয়।

ছবি: পেক্সেলস

বাথরুমে রাখা কি ঠিক

অনেকেই ব্যবহারের সুবিধার জন্য পারফিউম বাথরুমে রাখেন। কিন্তু এটি আসলে ভালো অভ্যাস নয়। গোসলের সময় তৈরি হওয়া তাপ ও আর্দ্রতার কারণে বাথরুমের পরিবেশে তাপমাত্রা বারবার পরিবর্তন হয়। এতে পারফিউমের সুগন্ধি উপাদান দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। একই কারণে জানালার পাশে বা যেখানে দিনের বেশির ভাগ সময় সরাসরি রোদ পড়ে, সেখানেও পারফিউম রাখা উচিত নয়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি পারফিউমের সুগন্ধি তেলের রাসায়নিক গঠনে প্রভাব ফেলে।

বোতল খোলার পর সতর্কতা

পারফিউমের বোতল খোলার সঙ্গে সঙ্গে ভেতরে বাতাস ঢোকার সুযোগ তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে অক্সিজেনের সংস্পর্শে সুগন্ধির কিছু উপাদান পরিবর্তিত হয়। তাই স্প্রে বোতল ব্যবহার করা সুবিধাজনক। আর যদি পারফিউমের বোতলে আলাদা করে ঢেলে ব্যবহারের ব্যবস্থা থাকে, তাহলে ব্যবহারের পর ঢাকনা ভালোভাবে বন্ধ করে রাখুন।

ছবি: পেক্সেলস

ত্বকে ঘ্রাণ দীর্ঘস্থায়ী করবেন যেভাবে

পারফিউম ত্বকে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছু বিষয় খেয়াল রাখা দরকার। শুষ্ক ত্বকের তুলনায় আর্দ্র ত্বকে সুগন্ধি ভালোভাবে আটকে থাকে। তাই পারফিউম ব্যবহারের আগে সুগন্ধিহীন ময়শ্চারাইজার বা বডি লোশন লাগাতে পারেন। পারফিউম স্প্রে করার পর কবজি ঘষে নেওয়ার অভ্যাসও বাদ দিন। ঘর্ষণ ও তাপের কারণে সুগন্ধির ওপরের স্তরের নোড দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। স্প্রে করে স্বাভাবিকভাবে ত্বক শুকাতে দিন। কবজি, ঘাড়, কানের পেছনে ও কনুইয়ের ভাঁজের মতো পালস পয়েন্টে পারফিউম ব্যবহার করলে শরীরের উষ্ণতায় ঘ্রাণ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে। চাইলে হাঁটুর পেছনেও হালকা করে ব্যবহার করা যায়। একই ধরনের সুগন্ধির বডি ওয়াশ, লোশন বা তেল ব্যবহার করে পারফিউমের সঙ্গে লেয়ারিং করলেও ঘ্রাণ কিছুটা বেশি সময় ধরে রাখা যায়।

ছবি: পেক্সেলস

বুঝবেন কীভাবে পারফিউম নষ্ট হয়েছে

পুরোনো পারফিউমের রং সামান্য গাঢ় হওয়া স্বাভাবিক। রং যদি পুরোপুরি বদলে যায়, বিশেষ করে বাদামি হয়ে যায়, তাহলে তা অক্সিডেশনের লক্ষণ হতে পারে। ঘ্রাণেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। পরিচিত সুগন্ধির বদলে যদি টক, স্যাঁতসেঁতে বা ভিনেগারের মতো গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে বুঝতে হবে পারফিউমটি আর আগের অবস্থায় নেই। একইভাবে তরল যদি অস্বাভাবিকভাবে ঘন বা সিরাপের মতো হয়ে যায়, সেটিও পারফিউমের গুণমান নষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত।

সূত্র: রিজেন্সি ফ্রেগ্রেন্সেস