দুর্গাপূজার আনন্দ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। পূজার আনন্দ নতুন পোশাক ছাড়া একেবারেই অসম্পূর্ণ। ষষ্ঠী থেকে দশমী—প্রতিটি দিনের জন্য নিখুঁত এবং আরামদায়ক পোশাক বেছে নিতে কেনাকাটার সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরি। পূজার পোশাক কেনার সময় কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখলে পূজায় স্টাইলিশ লুকে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি আরামেও থাকা যাবে।
অক্টোবর মাসে দুর্গাপূজা। এই সময়ে কখনো ভ্যাপসা গরম, আবার কখনো হালকা বৃষ্টির হতে পারে। তাই ফ্যাশনের পাশাপাশি আরামের বিষয়টি সবার আগে ভাবা উচিত। এ সময় সুতি, লিনেন, খাদি বা সিল্কের মতো আরামদায়ক ও প্রিমিয়াম কাপড়ের পোশাক বেছে নেওয়া ভালো, যা দীর্ঘক্ষণ পরে থাকলেও অস্বস্তি হবে না।
পূজার সকাল আর রাতের সাজ সম্পূর্ণ আলাদা হয়। ষষ্ঠী বা অষ্টমীর অঞ্জলির মতো সকালের অনুষ্ঠানগুলোর জন্য হালকা রঙের ঐতিহ্যবাহী সুতি বা লিনেনের পোশাক মানানসই। অন্যদিকে, রাতের প্যান্ডেল হুপিং বা আরতির জন্য জর্জেট, সিল্ক, কাতান বা ভারী কাজের জমকালো পোশাক বেছে নেওয়া যেতে পারে।
পূজার ফ্যাশনে ঐতিহ্যবাহী লাল-সাদা শাড়ি, ধুতি-পাঞ্জাবি বা কুর্তির চল চিরন্তন। এর পাশাপাশি সমসাময়িক ফ্যাশন ট্রেন্ডের দিকেও নজর রাখতে পারেন। ইন্দো-ওয়েস্টার্ন ফিউশন, ফ্লেয়ার্ড শ্রাগ, কিংবা ক্রপ টপের সঙ্গে স্কার্ট বা পালাজ্জো এখন বেশ জনপ্রিয়।
উৎসবের দিনগুলোতে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত রং দারুণ দেখায়। সকালে প্যাস্টেল শেড, হালকা হলুদ, আকাশি বা প্যাস্টেল গ্রিন ভালো লাগে। আর রাতের আলোয় নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে রয়্যাল ব্লু, মেরুন, রানি গোলাপি, বটল গ্রিন বা গোল্ডেন রঙের পোশাক বেছে নিতে পারেন। অষ্টমীর সকালে লাল-সাদা কম্বিনেশন আর দশমীর সিঁদুর খেলার জন্য লাল পেড়ে সাদা শাড়ি সব সময় সেরা।
পোশাকের সাইজ এবং ফিটিং নিখুঁত হওয়া জরুরি। অতিরিক্ত টাইট পোশাক পরে ভিড়ের মধ্যে প্যান্ডেলে ঘোরাঘুরি করা বেশ কষ্টকর হতে পারে। তাই এমন পোশাক কিনুন, যা আপনার শরীরের গড়নের সঙ্গে মানানসই এবং যেটিতে আপনি সহজে চলাফেরা করতে পারবেন।
পূজার কেনাকাটায় অনেক সময় আবেগের বশে অতিরিক্ত খরচ হয়ে যায়। তাই কেনাকাটা শুরু করার আগে একটি নির্দিষ্ট বাজেট ঠিক করে নিন। কোন দিনের জন্য কেমন পোশাক কিনবেন, তার একটি তালিকা তৈরি করলে বাজেটের মধ্যে সেরা পোশাকটি বেছে নেওয়া সহজ হবে।
এমন পোশাক কেনার চেষ্টা করুন, যা পূজার পরেও অন্য কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান বা দাওয়াতে পরা যায়। আলাদা করে সিঙ্গেল কুর্তি, স্কার্ট, পালাজ্জো বা ব্লাউজ কিনলে সেগুলো অন্য পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে একদম নতুন লুক তৈরি করা সম্ভব।
পোশাক কেনার সময় আপনার সংগ্রহে থাকা বা নতুন কিনতে যাওয়া জুতা এবং গয়নার কথা বিবেচনায় রাখুন। প্যান্ডেল হপিংয়ের জন্য ফ্ল্যাট বা আরামদায়ক জুতা সবচেয়ে ভালো। পোশাকের নকশা অনুযায়ী অক্সিডাইজড, মেটাল বা ট্র্যাডিশনাল সোনার গয়না মানাবে কি না, তা আগেই ভেবে নিন।
পূজার পোশাক কেনার সময় যেমন কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখতে হয়, ঠিক তেমনই কিছু ভুল এড়িয়ে চলতে হবে। তা না হলে উৎসবের আনন্দ মাটি হয়ে যেতে পারে। কেনাকাটার সময় যে বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে—
অতিরিক্ত ভারী ও অস্বস্তিকর কাপড়
উৎসবের আমেজে অনেকে ভারী জড়ি, ভেলভেট বা সিনথেটিক কাপড়ের জাঁকালো পোশাক কেনেন। কিন্তু পূজার সময় অতিরিক্ত গরম বা ভ্যাপসা আবহাওয়া থাকলে এই ধরনের কাপড় পরে বেশিক্ষণ প্যান্ডেলে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই ত্বকের ক্ষতি করে বা অতিরিক্ত গরম লাগায় এমন কাপড় এড়িয়ে চলুন।
ট্রেন্ডে আছে বলেই অনুকরণ করা
সোশ্যাল মিডিয়া বা কোনো তারকাকে দেখে অন্ধভাবে ট্রেন্ড অনুসরণ করবেন না। যে পোশাকটি অন্যের গায়ে ভালো লাগছে, তা আপনার শরীরের গঠন বা ব্যক্তিত্বের সঙ্গে না-ও মিলতে পারে। ট্রায়াল না দিয়ে বা নিজেকে মানাবে কি না, তা না ভেবে শুধু ট্রেন্ডের পেছনে ছুটবেন না।
অতিরিক্ত টাইট বা ভুল মাপের পোশাক
পূজার আগে ডায়েট করে ওজন কমিয়ে নেব; এই ভেবে অনেকে এক সাইজ ছোট পোশাক কেনেন। কিংবা একদম গায়ের সঙ্গে সেঁটে থাকা টাইট পোশাক বেছে নেন। ভিড়ের মধ্যে এমন পোশাকে হাঁটাচলা করা, অঞ্জলি দেওয়া বা বসা কষ্টকর। তাই সঠিক মাপের চেয়ে ছোট বা অতিরিক্ত টাইট পোশাক এড়িয়ে চলুন।
শেষ মুহূর্তের জন্য কেনাকাটা জমিয়ে রাখা
পূজার ঠিক আগমুহূর্তে কেনাকাটা করলে ভালো পোশাক বা কাঙ্ক্ষিত সাইজ পাওয়া যায় না। এ ছাড়া দরজিবাড়িতে পোশাক বানাতে দিলে শেষ সময়ে ফিটিংসে গরমিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই তাড়াহুড়ো এড়াতে একদম শেষ দিন পর্যন্ত কেনাকাটা জমিয়ে রাখবেন না।
সূত্র: দ্য ভয়েস অব ফ্যাশন ও অন্যান্য