হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

কফি পানের স্বাস্থ্যকর উপায়

ফিচার ডেস্ক  

সকালে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ কফি ছাড়া অনেকেরই দিন শুরু হয় না। ওয়েলনেস ও স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনায় কফি নিয়ে নানা মতামত রয়েছে—কারও মতে এটি মেটাবলিজম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের দারুণ উৎস, আবার কারও মতে এটি পাকস্থলী জ্বালাপোড়া ও মানসিক চাপ বা কর্টিসল হরমোন বাড়ানোর কারণ। তবে কফি ভালো না খারাপ, তা নির্ভর করে আমরা কীভাবে এবং দিনের কোন সময়ে এটি পান করছি তার ওপর। সঠিক উপায়ে কফি পান করলে তা শরীরের বন্ধু হতে পারে, কিন্তু ভুল রুটিন ডেকে আনতে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

কোন কফিটি আপনার শরীরের জন্য সেরা?

আপনি যদি দুধ-চিনি দেওয়া মিষ্টি কফি পছন্দ করেন, তবে পুষ্টিবিদদের পরামর্শ আপনার মন খারাপ করতে পারে।

ব্ল্যাক কফি ভালো: চিনি বা দুধ ছাড়া লিকুইড ব্ল্যাক কফি (যেমন—এসপ্রেসো) শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারী। এটি প্রচুর পলিফেনল বা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এবং কম পরিমাণের হওয়ায় পাকস্থলীর ওপর চাপ কম ফেলে।

যেসব কফি এড়ানো উচিত: ইনস্ট্যান্ট কফি ও ডিক্যাফ কফি এড়িয়ে চলাই ভালো। ইনস্ট্যান্ট কফি অতিরিক্ত রোস্ট করা হয় বলে এতে পলিফেনল কমে যায় এবং অ্যাক্রিলামাইড নামক ক্ষতিকর রাসায়নিক বাড়ে। অন্যদিকে, কেমিক্যাল পদ্ধতিতে তৈরি ডিক্যাফ কফিতে ক্ষতিকর কেমিক্যালের অবশিষ্টাংশ থেকে যায়।

ফ্লেভার্ড কফি এড়ান: সিরাপে ভরা ক্যারামেল ম্যাকিয়াটো বা পাম্পকিন স্পাইস ল্যাটে আসলে এক একটি ‘সুগার বোম্ব’। এগুলো দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে শেষবেলায় শরীরকে প্রচণ্ড ক্লান্ত করে দেয়।

দুধ ও মিষ্টি ব্যবহারে সতর্কতা

কফিতে মিল্ক ও ক্যাফেইনের মিশ্রণ লিভারের প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য বেশ ভারী। আপনি যদি ল্যাটে বা ক্যাপুচিনো ভালোবাসেন, তবে নন-ফ্যাট দুধের চেয়ে ভালো মানের অর্গানিক ফুলক্রিম দুধ ব্যবহার করা ভালো। আর ভেজিটেরিয়ানদের ক্ষেত্রে ওট মিল্কের বদলে আনসুইটেন্ড অ্যালমন্ড বা কোকোনাট মিল্ক বেছে নেওয়া উচিত। কারণ, শস্যজাতীয় দুধে শর্করা বেশি থাকে।

কফিতে মিষ্টি বা চিনি না দেওয়াই সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। চিনি ও ক্যাফেইন একসঙ্গে শরীরে ব্লাড সুগার স্পাইক করে ও কর্টিসল হরমোন বাড়ায়, যা বেলা ১১টার দিকে খিদে বা মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা বাড়িয়ে দেয়।

ছবি: সংগৃহীত

কফি পানের উপযুক্ত সময় ও কাপ নির্বাচন

খালি পেটে কখনো নয়: ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে কফি খাওয়া পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ায় এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা তৈরি করে। তা ছাড়া সকালে শরীরে প্রাকৃতিকভাবে কর্টিসল হরমোন বেশি থাকে; খালি পেটে ক্যাফেইন পড়লে তা মানসিক উদ্বেগ, বুক ধড়ফড় বা দুশ্চিন্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

সঠিক সময়: সকাল ১০:৩০ থেকে ১১:০০টার মধ্যে কফি খাওয়ার সেরা সময়। এই সময়ে শরীরের প্রাকৃতিক কর্টিসলের মাত্রা কমতে থাকে, ফলে কফির ক্যাফেইন শরীরকে সঠিক এনার্জি দিতে পারে।

খাবারের পরপরই নয়: প্রধান খাবার খাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা পর কফি খাওয়া উচিত। কারণ, ক্যাফেইন খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, বিশেষ করে আয়রন ও ভিটামিন সি শোষণে প্রচণ্ড বাধা সৃষ্টি করে (আয়রন শোষণ প্রায় ৪০% পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে)। বিশেষ করে নারী, অ্যাথলেট ও নিরামিষভোজীদের এই বিষয়ে বাড়তি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া কিছু রক্তচাপ ও থাইরয়েডের ওষুধের কার্যকারিতাও কফি কমিয়ে দেয়।

প্লাস্টিক পরিহার: ডিসপোজেবল প্লাস্টিকের কাপ পরিহার করে কাঁচ, সিরামিক বা স্টেইনলেস স্টিলের মগে কফি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। প্লাস্টিকের গরম কাপে থাকা রাসায়নিক পদার্থ হরমোনের ক্ষতি করে, যা শরীরের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ডেকে আনে।

শরীরে ক্লান্তি ঢাকতে যদি বারবার আপনাকে কফি খেতে হয়, তবে বুঝতে হবে আপনার শরীরে শক্তির ভারসাম্য ঠিক নেই। দিনে এক কাপের বেশি কফি না খাওয়াই ভালো। কফিকে শরীরের একমাত্র শক্তির উৎস না বানিয়ে সঠিক সময়ে নিয়ম মেনে পান করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সূত্র: ভোগ