প্রতিদিনের ধুলোবালি, মেকআপ ও দূষণের পর রূপচর্চায় চুলের যত্ন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে শ্যাম্পু করার পর চুল সুন্দর, ঝলমলে ও মসৃণ রাখতে গিয়ে অনেকেই বড় রকমের দ্বিধায় পড়েন—ভেজা চুলে হেয়ার সিরাম ব্যবহার করা ভালো, নাকি হেয়ার অয়েল লাগালে বেশি উপকার পাওয়া যাবে? যদিও এই দুই ধরনের প্রসাধনই চুলকে প্রাণবন্ত, আকর্ষণীয় ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করার দাবি করে, তবে কাজের মূল পদ্ধতি ও উপাদানের দিক থেকে এগুলো একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আমাদের প্রচলিত অভ্যাসে বছরের পর বছর ধরে শ্যাম্পু করার পরও চুলে নিয়মিত তেল লাগানোর প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা জানান, চুল ধোয়ার পর ভারী বা ঘন প্রাকৃতিক তেল ব্যবহার করলে তা বাতাসের ভাসমান ধুলোবালি খুব দ্রুত টেনে নেয় এবং স্ক্যাল্প চিটচিটে করে ফেলে। অন্যদিকে সিলিকন বা ওয়াটার-বেসড আধুনিক সিরাম মূলত তৈরিই হয়েছে চুলের কিউটিকেলগুলোতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা লক করতে, জট ছাড়াতে এবং চুলকে মসৃণ রাখতে।
তাই, শ্যাম্পুর পরবর্তী যত্নে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সিরাম ও তেলের কাজের ধরন বোঝা প্রয়োজন:
হেয়ার সিরাম চুলের ওপর একটি হালকা সুরক্ষাকবচ তৈরি করে বাহ্যিক জট, রুক্ষতা ও উস্কোখুস্কো ভাব দূর করে। অপরদিকে প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত হেয়ার অয়েল স্ক্যাল্প ও চুলে গভীর থেকে পুষ্টি জুগিয়ে ভেতরের গঠনকে মজবুত করে।
সিরাম সব সময় শ্যাম্পু করার পর ভেজা বা আধশুকানো চুলে এবং হিটিং টুলস দিয়ে চুল স্টাইল করার ঠিক আগে ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু তেল ব্যবহার করা উচিত শ্যাম্পু করার আগের ট্রিটমেন্ট হিসেবে কিংবা সারা রাত চুলে মেখে রাখার জন্য।
সিরাম কেবল চুলে প্রয়োগের জন্য তৈরি। এটি চুলের মাঝামাঝি অংশ থেকে শুরু করে আগা পর্যন্ত সাবধানে লাগাতে হয়, স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বকে কখনোই নয়। কিন্তু তেল সরাসরি স্ক্যাল্পসহ চুলের পুরো দৈর্ঘ্যে ভালোভাবে ম্যাসাজ করা যায়।
সিরাম অত্যন্ত হালকা, নন-গ্রিজি ও দ্রুত শোষিত হয়। যা রোদ, পরিবেশের ধোঁয়া ও আয়রনের উত্তাপ থেকে চুল রক্ষা করে। বিপরীতে তেল কিছুটা ভারী হওয়ায় চুলকে অভ্যন্তরীণ প্রোটিন ক্ষয় থেকে সুরক্ষা দেয়।
শ্যাম্পুর পর সেরা পছন্দ-হেয়ার সিরাম
শ্যাম্পু করার পর চুল যখন ভেজা থাকে, তখন চুলের উপরের আবরণ অর্থাৎ কিউটিকেলগুলো প্রাকৃতিকভাবেই উন্মুক্ত অবস্থায় থাকে। এ সময় হাতের তালুতে মাত্র কয়েক ফোঁটা হেয়ার সিরাম নিয়ে চুলে মেখে নিলে চুলের ভেতরের প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা আটকে যায়। ফলে চুল শুকানোর পর উস্কোখুস্কো হওয়া বন্ধ হয় এবং চুলে দ্যুতি ফিরে আসে। এ ছাড়া বাইরে বের হলে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি এবং গরম বাতাস থেকেও সিরাম চুলকে রক্ষা করে।
তেল মূলত শ্যাম্পুর পরে লাগানোর জন্য নয়, বরং শ্যাম্পু করার আগের গভীর কন্ডিশনিং বা পুষ্টি ট্রিটমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। পরিষ্কার ও ভেজা চুলে ভারী তেল লাগালে তা মাথার ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করে দেয়, যার ফলে চুল দ্রুত নোংরা দেখায় এবং চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যায়। তাই শ্যাম্পু করার অন্তত আধঘণ্টা বা এক ঘণ্টা আগে চুলে কুসুম গরম তেল ম্যাসাজ করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, শ্যাম্পু করার পর ভেজা চুলে তাৎক্ষণিক সুরক্ষা, উজ্জ্বলতা ও মসৃণ ভাব পেতে হেয়ার সিরামই একমাত্র সঠিক এবং বিজ্ঞানসম্মত সিদ্ধান্ত। আর আপনার প্রিয় হেয়ার অয়েলকে রেখে দিন শ্যাম্পু করার আগের হট অয়েল মাসাজ কিংবা ডিপ কন্ডিশনিংয়ের কাজে।
সূত্র: হার জিন্দেগি