এমন সমস্যায় কি আপনিও রয়েছেন? উৎসব এলেই গালে, কপালে, চিবুকে ব্রণের আনাগোনা দেখা দেয়? ব্রণ তাড়ানোর দুশ্চিন্তায় আবার পড়ে চোখের কোণে কালি। বিশেষ দিনে মেকআপ বসবে এই মুখের ত্বকেই। আর সেই ত্বকেই যদি সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে সাজগোজের কোনো মানেই হয় না। পূজার আগ দিয়েই যাঁরা ব্রণের সমস্যায় ভুগছেন; তাঁদের জন্য কিছু সমাধান দেওয়া হলো। জেনে নিতে পারেন।
ব্রণ দ্রুত দূর করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো স্পট ট্রিটমেন্ট। পুরো মুখে কিছু না লাগিয়ে শুধু ব্রণের ওপর নির্দিষ্ট উপাদান ব্যবহার করতে হবে। স্যালিসিলিক অ্যাসিডযুক্ত জেল বা ক্রিম রাতে ঘুমানোর আগে শুধু ব্রণের ওপর লাগিয়ে রাখুন। এটি দ্রুত ব্রণের ভেতরের ব্যাকটেরিয়া ও পুঁজ শুকাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া একটি তুলার বলে এক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল নিয়ে ব্রণের ওপর লাগান। এর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ব্রণের আকার দ্রুত কমিয়ে আনে।
যদি ব্রণ লাল হয়ে ফুলে থাকে এবং ব্যথা করে, তবে একটি পরিষ্কার সুতি কাপড়ে কয়েক টুকরো বরফ পেঁচিয়ে নিন। এবার ব্রণের ওপর আলতো করে ২-৩ মিনিট চেপে ধরুন। এটি ব্রণের চারপাশের রক্তসঞ্চালন কমিয়ে দেয়, ফলে লালচে ভাব এবং ফোলা ভাব দ্রুত কমে আসে। দিনে কয়েকবার এটি করতে পারেন।
পূজার যেহেতু বেশি দেরি নেই, তাই কয়েকটি প্যাক ব্যবহার করলে উপকার পাবেন। এক চামচ মধুর সঙ্গে সামান্য দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। ব্রণের ওপর ১০-১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। মধু ত্বককে ময়শ্চারাইজ করে এবং দারুচিনি ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। এ ছাড়া কাঁচা হলুদ এবং নিমের পাতা একসঙ্গে বেটে ব্রণে লাগাতে পারেন। এটি ত্বকের ইনফেকশন কমাতে জাদুর মতো কাজ করে।
ব্রণ ঢাকতে গিয়ে পূজার দিনগুলোতে অতিরিক্ত মেকআপ বা ভারী ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন না। এতে ব্রণের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। মেকআপ করার আগে নন-কমেডোজেনিক প্রাইমার ব্যবহার করুন। ব্রণ ঢাকতে গ্রিন কারেক্টর এবং ত্বকের রঙের সঙ্গে মেলানো কনসিলার ব্যবহার করে আলতো করে ব্লেন্ড করে নিন। দিন শেষে বাড়ি ফিরে অবশ্যই ডাবল ক্লিনজিং করে মেকআপ পুরোপুরি তুলে ফেলতে হবে।
বাহ্যিক রূপচর্চার পাশাপাশি ভেতর থেকেও ত্বকের যত্ন নেওয়া জরুরি। প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। এটি শরীর থেকে টক্সিন বের করে ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখবে। পূজার শপিং বা আড্ডায় ফাস্ট ফুড, কোল্ড ড্রিংকস বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এই খাবারগুলো ব্রণের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া উৎসবের উত্তেজনায় ঘুম নষ্ট করবেন না। দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে এবং ব্রণের নিরাময় দ্রুত করে।
এটি সবচেয়ে বড় ভুল। ব্রণ খুঁটলে তার ভেতরের ব্যাকটেরিয়া ত্বকের অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে নতুন ব্রণের জন্ম দেয়। এ ছাড়া এর ফলে মুখে স্থায়ী কালো দাগ বসে যেতে পারে।
পূজার ঠিক আগে আগে হুট করে নতুন কোনো ফেসওয়াশ বা সিরাম ব্যবহার শুরু করবেন না। এতে অ্যালার্জি বা রিঅ্যাকশন হয়ে ব্রণের সমস্যা আরও বাড়তে পারে। পূজার ঠিক আগে ব্রণ উঠলে প্যানিক বা দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। কারণ, মানসিক চাপ বা স্ট্রেসও কিন্তু ব্রণ বাড়ার অন্যতম কারণ।
সূত্র: স্টাইলক্রেজ ও অন্যান্য