হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

কিছু কিছু দেশে দেরিতে রাতের খাবার খাওয়ার কারণ জেনে নিন

ফিচার ডেস্ক 

ছবি: পেক্সেলস

রাত ১০টা পেরিয়ে গেছে। রেস্তোরাঁয় তখনো ভিড় বাড়ছে, টেবিলে সাজানো হচ্ছে খাবার। বাংলাদেশে এই সময় অনেকের রাতের খাবার শেষ হয়ে যায়। অথচ বিশ্বের কিছু দেশে এটাই ডিনারের ব্যস্ত সময়। কোথাও রাত ৯টায় শুরু হয় খাবার, কোথাও আবার ১০টা বা তারও পরে। প্রশ্ন জাগতেই পারে, এত রাতে খাবার খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হলো কীভাবে? এর উত্তর শুধু ক্ষুধা কিংবা দৈনন্দিন রুটিনে লুকিয়ে নেই; একটি দেশের আবহাওয়া, কর্মঘণ্টা, সামাজিকতা, ইতিহাস ও জীবনযাপনের ধরনও ঠিক করে দেয়, কখন মানুষ রাতের খাবারের টেবিলে বসবে।

স্পেনে রাত ১০ টাও স্বাভাবিক

স্পেনে দেরিতে রাতের খাবার খাওয়া বেশ পরিচিত সংস্কৃতি। অনেক শহরে রাত ৮টার আগে ডিনারের রেস্তোরাঁগুলো খোলেও না। বড় শহরগুলোতে রাত ১০টা বা ১১টার দিকেও মানুষকে খাবার টেবিলে দেখা যায়। এর পেছনে দেশটির ঐতিহ্যবাহী দৈনন্দিন রুটিনের ভূমিকা রয়েছে। দুপুরের দীর্ঘ বিরতি বা সিয়েস্তা এবং গরম আবহাওয়ার কারণে দিনের কাজ ও বিশ্রামের সময় অন্যভাবে ভাগ হয়ে এসেছে। সন্ধ্যার পর তাপমাত্রা কিছুটা কমলে তখন বাইরে খাওয়া বা সামাজিকতা করা আরামদায়ক হয়ে ওঠে। স্পেনের ঘড়ি প্রতিবেশী পর্তুগালের তুলনায় এক ঘণ্টা এগিয়ে। ১৯৪২ সালে এই সময় ব্যবস্থা স্থায়ী হয়। ফলে স্থানীয় সময় অনুযায়ী রাতের খাবারও দেরিতে হয়।

ছবি: পেক্সেলস

ফ্রান্সে ডিনার মানেই আড্ডার সময়

ফ্রান্সে সাধারণত রাত ৮টার দিকে ডিনার শুরু হয়, যদিও অনেকে ৯টার দিকে খাবার টেবিলে বসেন। সেখানে রাতের খাবার শুধু ক্ষুধা মেটানোর বিষয় নয়; বরং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বসে দীর্ঘ সময় গল্প করার একটি দারুণ সুযোগ। ডিনারের আগে বিকেলে হালকা খাবার খাওয়ার সংস্কৃতিও রয়েছে। শিশুদের মধ্যে লে গুতের নামে বিকেলের নাশতার চল আছে। বড়দের জন্য আবার অ্যাপেরিটিফ বা হালকা পানীয় ও ছোটখাটো খাবারের আয়োজন দেখা যায়। ফলে রাতের খাবারের সময় একটু পিছিয়ে যাওয়াটাও অস্বাভাবিক নয়।

ইতালিতে সন্ধ্যার হাঁটা শেষ করে ডিনার

ইতালির অনেক অঞ্চলে দিনের কাজ শেষে মানুষ লা পাসেজিয়াতা নামে সন্ধ্যার হাঁটায় বের হন। শহরের রাস্তা কিংবা কেন্দ্রীয় চত্বরে হাঁটা, পরিচিতদের সঙ্গে দেখা করা এবং কিছুক্ষণ সামাজিকতা এই সময়টুকু ইতালীয় জীবনযাপনের পরিচিত অংশ। হাঁটা ও আড্ডা শেষে বাড়ি ফেরা, রান্না করা—সব মিলিয়ে রাতের খাবার ৮টা বা ৯টার দিকে গড়ানো স্বাভাবিক। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের দিকে আবার ডিনারের সময় আরও কিছুটা পিছিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। আবহাওয়া ও আঞ্চলিক ঐতিহ্যও এর সঙ্গে যুক্ত।

ছবি: পেক্সেলস

আর্জেন্টিনায় রাত ৯টার পরও জমজমাট

আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসে রাত ৯টার পর ডিনার শুরু করা খুবই স্বাভাবিক। অনেক রেস্তোরাঁ রাত ৮টার আগে খোলে না, আবার রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে ভিড়ও বাড়তে থাকে। দেশটিতে দিনের প্রধান খাবার সাধারণত দুপুরেই খাওয়া হয়। ফলে রাতের খাবার তুলনামূলক দেরিতে হলেও সেটি দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মানিয়ে গেছে। প্রতিবেশী উরুগুয়েতেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়।

আবার কোথাও ডিনার হয় বিকেলেই

বিশ্বের সব দেশে যে রাতের খাবার দেরিতে খাওয়া হয়, তা নয়। নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের মতো নর্ডিক দেশগুলোতে তুলনামূলক আগে ডিনার করার সংস্কৃতি রয়েছে। নরওয়েতে সাধারণত বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দিনের প্রধান খাবার মিডাগ খাওয়া হয়। রাত ৮টার পর হালকা খাবার কভেলসমাট খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। দেশগুলোর তুলনামূলক আগে শুরু ও শেষ হওয়া কর্মদিবস এবং শীতকালে দ্রুত অন্ধকার নেমে আসার মতো বিষয়ও খাবারের সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।

খাবারের সময়ও একটি সংস্কৃতি

কোন দেশে কখন ডিনার করা হয়, সেটিকে শুধু ঘড়ির কাঁটার হিসাব দিয়ে বোঝা যায় না। কোথাও আবহাওয়া দিনের ছন্দ বদলে দিয়েছে, কোথাও দীর্ঘ কর্মবিরতি বা সামাজিক আড্ডা খাবারের সময় পিছিয়েছে, আবার কোথাও কর্মদিবসের সময়সূচি ডিনারের সময় এগিয়ে এনেছে।

সূত্র: ডেইলি পাসপোর্ট