হোম > জীবনধারা > ভ্রমণ

চীন ভ্রমণে তালিকায় রাখুন ১০ গন্তব্য

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

প্রাচীন সাম্রাজ্যের ইতিহাস, আকাশচুম্বী নগরসভ্যতা, কুয়াশায় ঢাকা পাহাড় এবং হাজার বছরের শিল্পকলার ভান্ডার যেন চীন। কোলাজটি ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি।

প্রাচীন সাম্রাজ্যের ইতিহাস, আকাশচুম্বী নগরসভ্যতা, কুয়াশায় ঢাকা পাহাড় এবং হাজার বছরের শিল্পকলার ভান্ডার যে দেশটিতে আছে, তার নাম চীন। ব্যস্ত শহর থেকে নিস্তব্ধ অঞ্চল—সব মিলিয়ে পর্যটকদের জন্য অসাধারণ বৈচিত্র্য অপেক্ষা করছে দেশটিতে।

বেইজিং

চীনের রাজধানী বেইজিং ইতিহাস ও আধুনিকতার সমান উপস্থিতির এক অনন্য উদাহরণ। ফরবিডেন সিটির লাল প্রাচীর এবং সোনালি ছাদ চীনা সাম্রাজ্যের অতীতের সাক্ষী হয়ে আছে শহরটিতে। বিশাল প্রাসাদ কমপ্লেক্সের ভেতর হাঁটতে হাঁটতে বোঝা যায় চীনা সম্রাটদের ক্ষমতার ব্যাপ্তি ছিল কতটা। তিয়েনআনমেন স্কয়ারের বিশাল খোলা প্রান্তর রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের প্রতীক। শহরের পুরোনো হুটং গলিগুলোর চায়ের দোকান, ছোট খাবারের দোকান আর স্থানীয় জীবনযাপনে পাওয়া যায় আসল বেইজিংয়ের স্বাদ।

বেইজিংয়ের একটি দর্শনীয় জায়গা। ছবি: উইকিপিডিয়া

মোগাও গুহামালা, দুনহুয়াং

বৌদ্ধ শিল্পকলার বিস্ময় দেখতে পাবেন এখানে। মরুভূমির কিনারায় দুনহুয়াং শহরের মোগাও গুহাগুলো যেন সময়ের ভেতর আটকে থাকা শিল্পকর্ম। দেয়ালে আঁকা চিত্র, বুদ্ধমূর্তি এবং ধর্মীয় বিভিন্ন কাহিনি একসঙ্গে মিলে এক বিশাল ঐতিহাসিক সংগ্রহশালা। প্রাচীন সিল্ক রোডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল এই এলাকা। সূর্যাস্তের সময় মরুভূমির আলো আর গুহার আবহ অন্য রকম অনুভূতি দেয়।

টাইগার লিপিং গর্জ, ইউনান

পাহাড়প্রেমীদের জন্য স্বর্গ টাইগার লিপিং গর্জ। বরফ ঢাকা পাহাড়ের মাঝ দিয়ে গভীর খাদে নেমে গেছে জিনশা নদী। ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ট্রেকিং রুটে হাঁটার সময় প্রতিটি বাঁকে নতুন দৃশ্য অপেক্ষা করে। দুই দিনের ট্রেকের পথে ছোট ছোট গেস্টহাউস আছে, যেখানে রাত কাটিয়ে সকালে কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

চীনের ইউনান প্রদেশের টাইগার লিপিং গর্জ। ছবি: উইকিপিডিয়া

লেশান, সিচুয়ান

পাহাড় কেটে বানানো বুদ্ধমূর্তি দেখতে পাবেন এখানে। দুই নদীর মিলনস্থলে পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা ৭১ মিটার উঁচু বুদ্ধমূর্তি দাঁড়িয়ে আছে শতকের পর শতক। কাছ থেকে দেখলে এর বিশালতা বোঝা যায়। ওপরে উঠে মাথার কাছে দাঁড়ানো আর নিচে নেমে পুরো মূর্তি দেখা—দুটোই ভিন্ন অভিজ্ঞতা।

সাংহাই

অতীত ও ভবিষ্যতের মিলন এই সাংহাই শহর। বুন্দের পুরোনো ইউরোপীয় স্থাপত্যের উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে আছে পুডংয়ের নিয়ন আলোর স্কাই লাইন। সাংহাই যেন একসঙ্গে দুই সময়ের শহর। ফরাসি কনসেশন এলাকায় গাছ ঘেরা রাস্তা, ক্যাফে এবং আর্ট গ্যালারি শহরটিকে আলাদা মাত্রা দেয়। রাতে ছাদবাগানের রেস্তোরাঁ থেকে শহরের দৃশ্য দেখার অভিজ্ঞতা অনন্য।

গ্রেট ওয়াল

এ যেন এক মানবসৃষ্ট বিস্ময়। পাহাড়ের চূড়ায় সর্পিলভাবে ছুটে যাওয়া প্রাচীর চোখে পড়লেই বোঝা যায়, কেন এটি চীনের প্রতীক। বিভিন্ন অংশে প্রাচীরের ধরন ভিন্ন। কোথাও পুনর্নির্মিত, কোথাও ভাঙাচোরা। সকালে বা বিকেলে গেলে ভিড় কম থাকে এবং পাহাড়ি দৃশ্য উপভোগ করা যায় বেশি।

চেংদু

পান্ডা আর ঝাল খাবারের শহর। চেংদুতে পান্ডা গবেষণাকেন্দ্রে গিয়ে কাছ থেকে পান্ডা দেখার অভিজ্ঞতা অসাধারণ। সকালবেলা গেলে পান্ডারা বেশি সক্রিয় থাকে। এ ছাড়া চেংদুর চায়ের দোকানের জীবন এবং ঝাল সিচুয়ান হটপট খাবার শহরটিকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

ইয়াংশুওর কার্স্ট পাহাড়

প্রকৃতির আঁকা যেন এক বিশাল ক্যানভাস এই পাহাড়গুলো। লি নদীর তীরে দাঁড়িয়ে চুনাপাথরের কার্স্ট শৃঙ্গগুলোর দিকে তাকালে মনে হবে, কুয়াশা আর আলো মিলে জলরঙে আঁকা কোনো প্রাচীন চীনা চিত্রকর্ম জীবন্ত হয়ে উঠেছে। সকালে সূর্যের আলো পাহাড়ের গায়ে নরম ছায়া ফেলে আর বিকেলের কুয়াশা ধীরে ধীরে ঢেকে দেয় চূড়াগুলো। এ দুই সময়ের দৃশ্য বড় রহস্যময়। ছোট ছোট গ্রাম, নদীর ধারে জেলেদের নৌকা আর দূরে দাঁড়িয়ে থাকা শৃঙ্গগুলো মিলিয়ে ইয়াংশুও তরুণ ও রোমাঞ্চপ্রিয় ভ্রমণকারীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের জায়গা হয়ে উঠেছে।

গুয়াংজু

খাবারের রাজধানী বলা হয় গুয়াংজুকে। ক্যান্টনিজ রান্নার জন্মভূমি এই শহরে খাবার একধরনের সংস্কৃতি। সকালবেলার ডিম সাম থেকে শুরু করে গভীর রাতের সি-ফুড, স্বাদের বৈচিত্র্যে গুয়াংজু আলাদা জায়গা করে নিয়েছে পর্যটকদের কাছে। নরম স্টিমড ডাম্পলিং, রসাল রোস্ট গুজ, তাজা সামুদ্রিক মাছ—প্রতিটি পদে পাওয়া যাবে ক্যান্টনিজ স্বাদ।

লংজি ধানখেত

পাহাড়ের ঢালে ধাপে ধাপে সাজানো ধানখেতগুলো দূর থেকে দেখলে মনে হবে বিশাল সবুজ কারুকাজ। প্রকৃতির বুকে মানুষের হাতে আঁকা নিখুঁত নকশার মতো দেখাবে এই সোপানভূমি। পাহাড়ের গা বেয়ে একের পর এক বাঁক নিয়ে উঠে গেছে খেতগুলো। দেখলে সেগুলোকে মনে হয় কোনো মগ্ন শিল্পীর ধৈর্য এবং কল্পনার ফল।

চীন এমন এক দেশ, যেখানে ভ্রমণ মানে নতুন সব অভিজ্ঞতা। ইতিহাস, প্রকৃতি, খাদ্যসংস্কৃতি ও আধুনিকতার সমন্বয়ে এটি এক বহুমাত্রিক গন্তব্য।

সূত্র: লোনলি প্ল্যানেট

চিংড়ি দিয়ে মানকচুর রসা

আজকের রাশিফল: প্রাক্তনের প্রোফাইল স্টক করা বন্ধ করুন, ভাগ্য আজ ছুটিতে

আজ প্রিয়জনকে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিতে পারেন

কর্মীদের সুখ কিসে, টাকায় নাকি ছুটিতে

টেডি ডে-তে সঙ্গীকে সারপ্রাইজ দিন

ডোপামিন স্কিন কেয়ার: মনের আনন্দই ত্বকের উজ্জ্বলতার মূল রহস্য

রোজেলার জুস

আজকের রাশিফল: মেট্রোতে তার সঙ্গে ধাক্কা লেগে পরিচয়, বন্ধু টাকা ধার নিয়ে চিনবে না

আভিজাত্য আর স্বাদের মিশ্রণে চকলেটের ৫ ব্র্যান্ড

রাঙিয়ে দিয়ে যাও