হোম > জীবনধারা

নেতিবাচক মন্তব্য থেকে সন্তানকে দূরে রাখতে চান জনপ্রিয় ব্যতিক্রমী দম্পতি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

হান্না ও শেন বারকো দম্পতি। ছবি: দ্য পিপল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘স্কুইরমি অ্যান্ড গ্রাবস’ নামে পরিচিত হান্না ও শেন বারকো দম্পতি। মূলত হান্নার স্বামী শেন একজন প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাঁদের দাম্পত্য অনেকের কাছেই কৌতূহলের বিষয়। ব্যতিক্রমী এই দম্পতি এবার তাঁদের প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় আছেন। তবে জন্মের পর নিজেদের জনপ্রিয় কনটেন্টে সন্তানকে কতটা এবং কীভাবে তুলে ধরবেন, তা নিয়ে এখন থেকেই সতর্ক পরিকল্পনা করছেন তাঁরা। তাঁদের প্রধান লক্ষ্য—সন্তানের গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং অনলাইনের নেতিবাচক মন্তব্য থেকে তাঁকে দূরে রাখা।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মার্কিন ম্যাগাজিন ‘দ্য পিপল’ জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রথম সন্তানের আগমনের খবর প্রকাশ করেন হান্না ও শেন। তবে তার আগে প্রায় পাঁচ মাস তাঁরা গর্ভধারণের খবরটি গোপন রেখেছিলেন। ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভিডিওতে শেন জানান, ব্যক্তিগত এই আনন্দটি তাঁরা কিছুদিন নিজেদের মধ্যেই রাখতে চেয়েছিলেন।

শেন বলেন, অনাগত সন্তান নিজের গোপনীয়তা সম্পর্কে এখন কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারে না। তাই বাবা-মা হিসেবে সেই দায়িত্ব তাঁদেরই। সন্তানকে ঘিরে কী তথ্য বিশ্বের সঙ্গে ভাগ করবেন, সে বিষয়ে তাঁরা সচেতন ও উদ্দেশ্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে চান।

স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফিতে আক্রান্ত শেন আরও জানান, গর্ভধারণের খবর প্রকাশে দেরি করার আরেকটি কারণ ছিল অনলাইনে সম্ভাব্য বিদ্বেষপূর্ণ প্রতিক্রিয়া। তাঁর আশঙ্কা ছিল, কেউ কেউ তাঁকে প্রতিবন্ধিতার কারণে বাবা হওয়ার অযোগ্য বলে মন্তব্য করতে পারেন এবং তাঁদের সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল’ হিসেবে আখ্যা দিতে পারেন।

হান্নাও একই উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। দ্য পিপল-কে তিনি বলেন, তাঁদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো সন্তানের গোপনীয়তা রক্ষা করা। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবসময় ইতিবাচক জায়গা নয়।

তিনি বলেন, তাঁরা নিজেরা অনলাইনে নানা ধরনের মন্তব্যের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত এবং নিজেদের জীবনের গল্প ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্তও তাঁদের। কিন্তু যে শিশু এখনো অনলাইনে থাকার বিষয়ে সম্মতি জানানোর অবস্থায় নেই, তাকে সেই ধরনের মন্তব্যের মুখোমুখি করতে চান না তাঁরা।

ইতিমধ্যে সামাজিকমাধ্যমে তাঁদের জীবনযাপন নিয়ে নানা মন্তব্য এসেছে। সম্প্রতি একটি আর্ট ফেয়ারে তোলা ছবি প্রকাশের পর হান্না কী ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবার খাচ্ছেন, তা নিয়েও সমালোচনা করেন কেউ কেউ।

তবে এসব মন্তব্যকে এখন আর খুব গুরুত্ব দেন না দম্পতি। শেনের ভাষায়, মানুষের মতামত বিরক্তিকর হতে পারে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলো তাঁদের জীবনে বাস্তব কোনো গুরুত্ব বহন করে না।

হান্নাও জানান, সময়ের সঙ্গে অনলাইনের নেতিবাচক মন্তব্যের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। সন্তান আসার আনন্দের মধ্যেও তাঁরা নিজেদের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক থাকতে চান। একই সঙ্গে বাবা-মা হিসেবে সন্তানের ব্যক্তিগত পরিসরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।