শীত জেঁকে বসেছে। সঙ্গে ত্বক ও শরীরেও দেখা দিচ্ছে নানান সমস্যা। যদি বলা হয়, শীতের প্রকোপে এসব সমস্যার সমাধান মিলবে গোসলের পানিতে, তাহলে খুব রেগে যাবেন কি? না, শুনুন, বলছি কুসুম গরম পানিতে কয়েকটি উপকরণ যোগ করে কিন্তু ত্বক ও শরীরের বেশ কিছু সমস্যার সমাধান সম্ভব। আর সেসব উপকরণ রয়েছে আপনার রসুইঘরে।
লবণ
ঠান্ডায় অনেকের হাত-পা ব্যথা করে। পেশিতে টান অনুভূত হয়। এ ছাড়া এই ভরা শীতে মনটাও ভার হয়ে থাকে অনেকের। তাই কাজ শেষে বাড়ি ফিরে কুসুম গরম পানিতে এক চা-চামচ লবণ ফেলে গোসল সেরে নিন। সারা দিনের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি দূর হবে নিমেষে। শরীরটা হয়ে উঠবে ঝরঝরে।
এই শীতে যাঁদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক ও নির্জীব হয়ে উঠেছে, তাঁরা লবণপানিতে গোসল করলে ত্বকের উজ্জ্বল ভাব ফিরে পাবেন। তা ছাড়া ত্বকে যাঁদের প্রায়ই র্যাশ ওঠে, তাঁরা নিয়মিত লবণপানিতে গোসল করলে উপকার পাবেন।
শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থাকলে হাড় ক্ষয় ও বাতের ব্যথা হতে পারে। এই সমস্যা থেকে খানিকটা আরাম মিলবে গোসলের পানিতে লবণ ফেলে গা ধুয়ে নিলে। পেশির ব্যথা কমাতেও কুসুম গরম পানিতে লবণ ফেলে গা ভিজিয়ে রাখতে পারেন। শরীর হালকা অনুভূত হবে।
রোজকার নানান অভ্যাস ও যত্নের অভাবে সময়ের আগেই অনেকের ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে শুরু করে। ত্বকে বলিরেখাসহ অন্যান্য সমস্যা দেখা দেয়। প্রতিদিন লবণপানিতে গোসল করলে ত্বকের জেল্লা ফেরে এবং ত্বক টানটান হয়। ত্বকের আর্দ্রতাও থাকে অটুট। তা ছাড়া যাঁরা নির্ঘুম রাত কাটান, তাঁরা রাতে ঘুমানোর আগে লবণ মেশানো পানিতে গোসল করলে উপকার পাবেন।
হলুদ
হলুদ ত্বকের জন্য খুব উপকারী ভেষজ উপাদান। এটি ত্বকের ব্যথা কমায়, চর্মরোগ সারাতে সহায়তা ও প্রতিরোধ করে, রং উন্নত করে এবং ত্বকের ব্রণ সারাতে সহায়তা করে। গোসলের পানিতে কাঁচা হলুদ সেদ্ধ পানি মিশিয়ে অথবা খাঁটি হলুদগুঁড়া মিশিয়ে গোসল করলে উপকার মিলবে।
পানিতে আধা চা-চামচ হলুদগুঁড়া মিশিয়ে স্নান করলে ত্বক বিশুদ্ধ ও শরীর শান্ত থাকে। অতিরিক্ত রাগ ও উদ্বেগ কমাতেও গোসলের পানিতে হলুদ যোগ করতে পারেন।
প্রতিদিন পানিতে হলুদ মিশিয়ে গোসল করলে ত্বকে সহজে বলিরেখা পড়ে না। এ ছাড়া এতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে, কালচে দাগ ও পিগমেন্টেশন কমে এবং ব্রণ দূর হয়।
হলুদ কোলাজেন উৎপাদনে সহায়ক। এ ছাড়া ত্বকে অতিরিক্ত সিবাম উৎপাদন নিয়ন্ত্রণেও হলুদ কার্যকর ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়া আরও যেসব প্রাকৃতিক উপাদান এ ঋতুতে গোসলের পানিতে মেশাতে পারেন, সেগুলো হলো—
আদা
এক টেবিল চামচ আদাকুচি পানিতে সেদ্ধ করে তা গোসলের পানিতে যোগ করুন। এই পানিতে গোসল করলে পেশির ব্যথা নিরাময় হবে, সর্দি-কাশির সমস্যাও কমবে। মনও ফুরফুরে থাকবে।
অ্যাপল সিডার ভিনেগার
অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য থাকায় গোসলে অল্প পরিমাণে অ্যাপল সিডার ভিনেগার যোগ করলে ত্বকের বিষক্রিয়া দূর হয়, ব্রণ নিরাময় হয় এবং প্রদাহ প্রশমিত হয়। এটি ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রেখে ত্বক সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
প্রাকৃতিক বিভিন্ন তেল
শীতে গোসলের পানিতে এক টেবিল চামচ যেকোনো প্রাকৃতিক তেল যোগ করলে ত্বক আর্দ্র থাকে এবং শুষ্কতা প্রতিরোধ করে। এই তেলগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সমৃদ্ধ ও ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। গোসলের পানিতে এসব তেল ব্যবহার করলে শীতে ত্বক ফাটা থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এসব তেলের মধ্যে আছে অলিভ অয়েল, জোজোবা অয়েল, টি-ট্রি অয়েল, আমন্ড অয়েল ইত্যাদি।
ওটমিল
ওটমিল মিহি গুঁড়া করে গোসলের পানিতে যোগ করলে ত্বকের চুলকানি ও জ্বালাপোড়া দূর হয়। রোদে পুড়ে যাওয়া ত্বকে আরাম দিতেও এই পানিতে গোসল সেরে নিতে পারেন। শীতে গোসলের পানিতে ওটমিল যোগ করলে ত্বকের আর্দ্রতা নিয়ে ভাবতে হবে না।
সূত্র: হেলথশট, ইভালেকট্রিক ও অন্যান্য