হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

সুখী হতে ঝুঁকি নিন: সুন্দর জীবনের নতুন মন্ত্র

ফিচার ডেস্ক

সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অর্থ কেবল বেঁচে থাকা নয়; বরং আনন্দ ও সার্থকতা নিয়ে বেঁচে থাকা। ছবি: পেক্সেলস

দুই হাজার বছরেরও বেশি আগে দার্শনিক অ্যারিস্টটল বলেছিলেন, ‘সুখই জীবনের অর্থ ও উদ্দেশ্য, মানব অস্তিত্বের সমগ্র লক্ষ্য ও সমাপ্তি।’ আজও এ কথাটি সমানভাবে সত্য। সুখ কেবল একটি মানসিক অনুভূতি নয়। এটি আনন্দ, তৃপ্তি এবং সন্তুষ্টির একটি অভিজ্ঞতা। এটি আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো দেখাচ্ছে, সুখী হওয়া মানে কেবল ভালো বোধ করা নয়। সুখ মানুষের জীবনে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের গ্যারান্টি। এটি আপনার জীবনধারা উন্নত করে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং হৃৎপিণ্ডকে সুরক্ষা দেয়। তাই আজ থেকেই আপনার সুখকে অগ্রাধিকার দিন। কারণ সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অর্থ কেবল বেঁচে থাকা নয়; বরং আনন্দ ও সার্থকতা নিয়ে বেঁচে থাকা।

সুখী জীবন ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা

সুখী মানুষেরা প্রাকৃতিকভাবেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত হন। সাত হাজারেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইতিবাচক মানসিকতাসম্পন্ন মানুষের তাজা ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার প্রবণতা অন্যদের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বেশি। এ ধরনের খাবার ডায়াবেটিস, স্ট্রোক এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর। এ ছাড়া, সুখী ব্যক্তিরা শারীরিক কর্মকাণ্ডেও বেশি সক্রিয় থাকেন। গবেষণায় দেখা গেছে, তাঁরা সপ্তাহে ১০ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমে ব্যয় করেন, যা হাড় মজবুত করতে, রক্তচাপ কমাতে এবং শরীরের বাড়তি মেদ ঝরাতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, সুখের সঙ্গে উন্নত ঘুমের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যাঁরা মানসিকভাবে সুখী নন, তাঁদের মধ্যে অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যার হার ৪৬ শতাংশ বেশি দেখা যায়।

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ

সুখ আপনার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা তুলনামূলক কম সুখী, তাঁদের সাধারণ সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তিন গুণ বেশি। এ ছাড়া হেপাটাইটিস ‘বি’ ভ্যাকসিনের প্রতিক্রিয়ায় সুখী শিক্ষার্থীদের শরীরে দ্বিগুণ অ্যান্টিবডি তৈরি হতে দেখা গেছে। এটি শক্তিশালী ইমিউন সিস্টেমের লক্ষণ। মানসিক প্রশান্তি বা সুখ শরীরের স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসোল’-এর মাত্রা কমিয়ে দেয়। অতিরিক্ত কর্টিসোল ওজন বৃদ্ধি, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, সুখী ব্যক্তিদের কর্টিসোলের মাত্রা অসুখী ব্যক্তিদের তুলনায় ৩২ শতাংশ কম থাকে।

হৃৎপিণ্ডের সুরক্ষা ও দীর্ঘায়ু

সুখ হৃদ্রোগের প্রধান ঝুঁকি। এটি উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ৬৫ হাজার মানুষের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইতিবাচক মনোভাব উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি ৯ শতাংশ কমিয়ে দেয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সুখী মানুষের হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ১৩-২৬ শতাংশ পর্যন্ত কম থাকে। এমনকি যাঁদের ইতিমধ্যে হৃদ্রোগ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক মানসিকতা মৃত্যুর ঝুঁকি ১১ শতাংশ কমিয়ে দেয়। অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সুখী না হওয়া মৃত্যুর ঝুঁকি ১৪ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়।

সুখী মানুষেরা কেবল নিয়ম মেনে চলেন না, তাঁরা জীবনের পূর্ণ স্বাদ নিতে প্রতিদিন কিছু ছোট ছোট ঝুঁকি নেন। ছবি: পেক্সেলস

ব্যথা নিরাময় ও অন্যান্য সুবিধা

আর্থ্রাইটিস বা বাতের ব্যথায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সুখ ও ইতিবাচকতা ব্যথা এবং হাড়ের শক্ত ভাব কমাতে সাহায্য করে। সুখী রোগীরা অন্যদের তুলনায় প্রতিদিন গড়ে ৭১১ কদম বেশি হাঁটতে পারেন। স্ট্রোক-পরবর্তী পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও সুখী ব্যক্তিদের ব্যথার তীব্রতা ১৩ শতাংশ কম থাকে। গবেষকদের মতে, ইতিবাচক আবেগ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করে, যা ব্যথার অনুভূতি মোকাবিলায় কার্যকর কৌশল তৈরিতে সাহায্য করে। এ ছাড়া সুখ বার্ধক্যের দুর্বলতা (Frailty) এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়।

সুখী ও সুন্দরভাবে বাঁচার কিছু উপায়

সুস্থ ও সুন্দরভাবে বাঁচার জন্য আপনার সুখকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। আর এ বিষয়টিই আমরা ভুলে যাই। এর জন্য কিছু বিষয় চর্চায় রাখতে পারেন।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: প্রতিদিন শেষে অন্তত তিনটি জিনিসের কথা লিখুন, যার জন্য আপনি কৃতজ্ঞ।

সক্রিয় থাকা: অ্যারোবিক ব্যায়াম বা কার্ডিও আপনার মেজাজ দ্রুত ভালো করতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুম: ঘুমের অভাব সুখের অনুভূতি কমিয়ে দেয়। তাই সময়মতো ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস করুন, আর জীবনে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।

প্রকৃতির সান্নিধ্য: বাগান করা বা পার্কে মাত্র ৫ মিনিট হাঁটলে আপনার মানসিক অবস্থার উন্নতি ঘটে।

ধ্যান বা মেডিটেশন: এটি মানসিক চাপ কমিয়ে সুখের মাত্রা বাড়ায়।

স্বাস্থ্যকর খাবার: প্রচুর ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার সঙ্গে সুখের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

সুখী হতে ঝুঁকি নিন

সুখী মানুষেরা কেবল নিয়ম মেনে চলেন না। তাঁরা জীবনের পূর্ণ স্বাদ নিতে প্রতিদিন কিছু ছোট ছোট ঝুঁকি নেন।

—তাঁরা মন খুলে ভালোবাসেন, যদিও জানেন এতে কষ্ট পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

—অন্যের মন রাখার চেয়ে নিজের কাছে সৎ থাকাকে তাঁরা বেশি গুরুত্ব দেন।

—নতুন কিছুর পেছনে না ছুটে নিজের যা আছে তার কদর করা।

—কোনো প্রতিদান ছাড়াই অন্যকে সাহায্য করার আনন্দ উপভোগ করা।

—অন্য কেউ তাঁকে সুখী করবে, এই আশায় তাঁরা বসে থাকেন না।

—আলস্য ত্যাগ করে আজকের কাজ আজই করা।

—নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য সাময়িক কষ্ট সহ্য করা।

—ব্যর্থ হওয়ার ভয়ে তাঁরা নতুন কিছু করা থেকে বিরত থাকেন না।

—কঠিন সত্যকে মেনে নিয়ে সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়া।

—যা চলে গেছে তা আঁকড়ে না ধরে নতুনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

সূত্র: হেলথ লাইন

ফেলে আসা ভালোবাসা: দুবাইয়ের রাজপথে অসহায় পোষা প্রাণীরা

ব্যর্থ প্রেমের দুঃখ ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর দিন আজ

স্বামীর কথামতো স্ত্রীর চলা উচিত—এক–তৃতীয়াংশ জেন–জির মত

ঈদে সালোয়ার কামিজ কেনার আগে জেনে নিন

চোখের পাপড়ি ঝরা রুখে দিতে মাসকারা তোলার সঠিক উপায়

ঘরেই করে ফেলুন সুন্দর হেয়ারস্টাইল

টেবিল রানারের যত্নআত্তি

বয়সভেদে নারীর মেকআপ

ইফতারিতে থাকুক স্বাস্থ্যকর ফ্রুটস সালাদ

এবার নিজের জন্য বাঁচুন