বসন্ত বিদায় নেওয়ার পথে। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী চৈত্র মাস মানেই ঋতু পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এ সময় একদিকে প্রকৃতিতে ধুলাবালুর প্রকোপ অনেক বেড়ে যায়, অন্যদিকে গুমোট গরমে খুব দ্রুত জীবাণুর বিস্তার ঘটে। তাই ঘরবাড়ি শুধু ওপর থেকে পরিষ্কার করলে চলে না, দরকার হয় ডিপ ক্লিনিংয়ের। আজকের আয়োজনে থাকছে চৈত্র মাসে ঘর সতেজ, স্বাস্থ্যকর এবং জীবাণুমুক্ত রাখার কিছু উপায়।
প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম
পরিষ্কার শুরু করার আগে সবকিছু হাতের নাগালে থাকা জরুরি। এতে কাজে গতি আসে এবং বারবার কাজ থামিয়ে জিনিস খুঁজতে হয় না। আপনার যা যা প্রয়োজন হবে—
বসার ঘর
প্রথমে ঘর থেকে অপ্রয়োজনীয় জিনিস; যেমন পুরোনো ম্যাগাজিন ও সংবাদপত্র সরিয়ে ফেলুন। এরপর ওপর থেকে নিচ—এই নিয়মে ধুলো ঝাড়ুন। সিলিং ফ্যান, ঝাড়বাতি, জানালার গ্রিল এবং ছবির ফ্রেমগুলো আগে পরিষ্কার করুন। মাইক্রোফাইবার দিয়ে টিভি ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্য মুছে ফেলুন। সোফার কুশন ভ্যাকিউম করুন এবং কাপড়ের জন্য নিরাপদ এমন ক্লিনার দিয়ে সোফার দাগ তুলে ফেলুন। জানালার পর্দাগুলো খুলে ধুয়ে ফেলুন, এতে ধুলাবালু ও অ্যালার্জির প্রকোপ কম হবে।
রান্নাঘর
শোয়ার ঘর
বিছানার চাদর, বালিশের কভার ও পর্দা ধুয়ে ফেলুন। তোশক বা ম্যাট্রেস রোদে দেওয়ার সুযোগ থাকলে দিন। ম্যাট্রেস উল্টে দিন, যাতে এটি বেশি দিন টেকসই হয়। আলমারির ভেতর থেকে শীতের ভারী পোশাকগুলো সরিয়ে পাতলা সুতি কাপড় সামনে নিয়ে আসুন। অগোছালো ড্রয়ারগুলোয় বিন বা বক্স ব্যবহার করে কাপড় গুছিয়ে রাখুন।
বাথরুম
সবচেয়ে বেশি জীবাণু ছড়ায় বাথরুম থেকে। তাই এখানে শক্তিশালী কিন্তু বিষমুক্ত বা নন-টক্সিক ক্লিনার ব্যবহার করুন। সিঙ্ক, শাওয়ার, বাথটাব ও কমোড ভালোভাবে স্ক্রাব করে জীবাণুমুক্ত করুন। এই সুযোগে মেয়াদোত্তীর্ণ টয়লেট্রিজ এবং ওষুধ ফেলে দিয়ে শেলফগুলো গুছিয়ে নিন।
পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি
রাসায়নিক ক্লিনার অনেক সময় ঘরে দূষণ তৈরি করে, যা শ্বাসকষ্ট বা অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। বিকল্প হিসেবে সাদা ভিনেগার ও বেকিং সোডা ব্যবহার করুন। ঘর মোছার পানিতে সামান্য নিমপাতা সেদ্ধ পানি বা জীবাণুনাশক লিকুইড মিশিয়ে নিলে ঘর দীর্ঘক্ষণ সুরক্ষিত থাকবে। পুরো বাড়ি পরিষ্কার হয়ে গেলে জানালাগুলো খুলে দিয়ে ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ঢুকতে দিন। ঘরে প্রাকৃতিক সুগন্ধ আনতে একগুচ্ছ তাজা ফুল রাখতে পারেন অথবা এসেনশিয়াল অয়েল ডিফিউজার ব্যবহার করতে পারেন। লেমন গ্রাস বা ল্যাভেন্ডারের সুগন্ধ আপনার মানসিক প্রশান্তি বাড়াবে।
চৈত্র মাসের এই বিশেষ পরিচ্ছন্নতা শুধু আগত ঋতুকে স্বাগত জানানো নয়, বরং এটি আপনার পরিবারের সুস্থতা নিশ্চিত করার বড় মাধ্যম। ঘর যদি পরিষ্কার এবং সুশৃঙ্খল থাকে, তবে তা মনে প্রশান্তি আনে এবং কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ধাপে ধাপে পরিকল্পনা করে কাজ করুন, দেখবেন ঘর পরিষ্কার থাকার পাশাপাশি আগত গ্রীষ্মের জন্য থাকবে পুরোপুরি প্রস্তুত ও নিরাপদ।
সূত্র: ক্লিন প্ল্যানেট অবলম্বনে