রুচিশীল ও শৌখিন মানুষের ঘর সাজানো নিয়ে চিন্তার অন্ত থাকে না। যেখানেই ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর উপকরণ চোখে পড়ে, কিনতে যেন তর সয় না। এমন মানুষের ঘর সাজানোর জন্য দারুণ উপকরণ রংপুরের শতরঞ্জি।
পণ্য হিসেবে শতরঞ্জির রয়েছে গৌরবময় ঐতিহ্য। এটি রংপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী বয়নশিল্প। জটিল যন্ত্রের এ যুগেও এটি তৈরি হয় পুরোনো কালের টানা তাঁতে। শতরঞ্জি একধরনের কার্পেট। এ ছাড়া ওয়ালম্যাট, জায়নামাজ এমনকি পাপোশ হিসেবেও ব্যবহার করা যায় শতরঞ্জি।
ওয়ালম্যাট হিসেবে ব্যবহার করা শতরঞ্জিতে ফুটিয়ে তোলা হয় গ্রামীণ দৃশ্য, কলস কাঁখে নারী, পশুপাখি, ফুল, লতাপাতাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দৃশ্য। এ ছাড়া ক্রেতা চাইলে নিজের পছন্দ অনুযায়ী নকশা করে নিতে পারেন।
শতরঞ্জির ইতিহাস
তেরো শতকে রংপুর শহরের উপকণ্ঠে পীরপুর গ্রামে শতরঞ্জি বুননের কাজ শুরু হয় বলে জানা যায় বিভিন্ন সূত্র থেকে। ১৮৮০ সালে রংপুরের জেলা কালেক্টর মি. নিসবেত শতরঞ্জির নির্মাণশৈলী দেখে মুগ্ধ হন এবং এই শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতায় আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এর ফলে শতরঞ্জি দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। নিসবেতের পৃষ্ঠপোষকতার কথা স্মরণ রাখতে পীরপুর গ্রামের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় নিসবেতগঞ্জ। পরে এখানকার তৈরি শতরঞ্জি ভারতবর্ষসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতো।
এই শতরঞ্জি এখন শুধু নিসবেতগঞ্জেই সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন গ্রামে তৈরি হয়েছে শতরঞ্জি তাঁতের কারখানা। এসব কারখানায় প্রায় চার হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। রংপুরের শতরঞ্জি বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
কোথায় পাবেন
রংপুর নগরীর পশ্চিম দিকে নিসবেতগঞ্জে শতরঞ্জিপল্লি। শহর থেকে রিকশা বা বাসে যাওয়া যায়। সেখানে গিয়ে পছন্দ করে শতরঞ্জি কিনতে পারেন। এ ছাড়া রংপুর ও ঢাকা শহরের অনেক দোকানেও পাওয়া যায় এটি। এখন অনলাইন মাধ্যমে অনেকেই শতরঞ্জি বিক্রি করছেন।
কেমন দাম
পণ্যের ধরন ও আকারের ওপর নির্ভর করছে শতরঞ্জির দাম। বর্গফুট হিসাবে বিক্রি হয় এটি। নকশাভেদে ৪০-৫০ টাকা বর্গফুট হিসাবে কিনতে পারবেন পছন্দের শতরঞ্জি।