সকালবেলা উঠে চুলা জ্বালাতে গিয়ে দেখলেন, গ্যাস নেই! গ্যাসের দোকানে ফোন করলে মোবাইল ফোনের ওই প্রান্ত থেকে শোনা যাচ্ছে, এ মুহূর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে যাঁদের লাইনের গ্যাস, তাঁদের চুলায় সারা দিন আগুন জ্বলছে টিমটিম করে। তাতে নেই তাপ। অগত্যা বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে দেশের কম-বেশি সব জেলার মানুষকেই। গ্যাসের সংকটে যখন হাঁড়ি চরানোর উপায় থাকে না, তখন মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকা ছাড়া উপায় কী? কিন্তু বিকল্পও তো খুঁজতেই হবে। কারণ, না খেয়ে তো আর দিন পার করা চলে না। তাই চলুন, জেনে নিন গ্যাসের এই আকালের দিনে রান্নার কিছু বিকল্প উপায়।
গ্যাস নেই বলে মন খারাপ না করে হাতের কাছের ইলেকট্রিক সরঞ্জামগুলোর সঠিক ব্যবহার জানলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। আর রান্নার সময় বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড এড়াতে সব সময় নিরাপদ ও মানসম্মত ইলেকট্রিক পণ্য ব্যবহার করুন। গ্যাসের এই আকালের দিনে বিকল্প পদ্ধতিই হোক আপনার রান্নাঘরের নতুন সঙ্গী!
ইন্ডাকশন বা ইলেকট্রিক চুলা
গ্যাস না থাকলে রান্নার সবচেয়ে আধুনিক এবং দ্রুত সমাধান হলো ইলেকট্রিক বা ইন্ডাকশন কুকার; বিশেষ করে ইন্ডাকশন কুকার ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ দ্রুত রান্না করতে পারে। এটি সরাসরি পাতিলের তলায় তাপ দেয় বলে খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয় এবং শক্তি সাশ্রয় হয়। এ ছাড়া এটি পরিষ্কার করা সহজ এবং ছোট শিশু থাকলে আগুনের ভয়ও থাকে না। শুধু মনে রাখবেন, ইন্ডাকশন চুলার জন্য ম্যাগনেটিক বা ধাতব তলাযুক্ত পাত্র ব্যবহার করতে হয়।
রাইস কুকার
নাম রাইস কুকার হলেও এটি কিন্তু এখনকার দিনের ‘মাল্টি কুকার’। গ্যাস না থাকলে ডিম সেদ্ধ করা, স্যুপ বানানো, ঝটপট নুডলস রান্না কিংবা সবজি ও মাছ ভাপিয়ে নেওয়ার (স্টিম) জন্য এটি সেরা হাতিয়ার। একটু সৃজনশীল হলে রাইস কুকারেই বিরিয়ানি বা খিচুড়ি রান্না করে বাজিমাত করা সম্ভব। তবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিমাপগুলো ঠিক রাখতে হবে। ভর্তি করে উপাদান দিয়ে এক বেলা রান্না করে রাইস কুকার নষ্ট করে ফেললে তারপর পরের বেলা আসলেই না খেয়ে থাকতে হবে।
এয়ার ফ্রায়ার এবং ওভেন
এই দুটি যন্ত্রকে স্বাস্থ্যকর ও ঝামেলাহীন বলা চলে। আপনার যদি একটি এয়ার ফ্রায়ার বা ওভেন থাকে, তবে গ্যাসের চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। এয়ার ফ্রায়ারে তেল ছাড়াই মাছ-মাংস ভাজা বা সবজি রোস্ট করা যায়। আর ওভেনে চিকেন রোস্ট থেকে শুরু করে বিস্কুট বা পাউরুটি—সবই হবে একদম রেস্তোরাঁ স্টাইলে। যাঁরা ডায়েট করেন, তাঁদের জন্য এটি গ্যাসের চুলার চেয়ে ভালো বিকল্প। অভ্যাস না থাকলে গ্যাসের এই সংকটের মুহূর্তে ওভেনে রান্না করা শিখে ফেলুন। গ্যাসের বদলে আপনি ব্যবহার করতে পারেন মাইক্রোওয়েভ ওভেন। এতে সবজি সেদ্ধ, ডিম পোচ বা খাবার গরম করা যায় নিমেষে। এ ছাড়া স্লো-কুকার ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ধরে রান্না করা পদগুলো; যেমন নেহারি বা ডাল অনায়াসে তৈরি করা যায়। আর একদম জরুরি অবস্থায় যদি বিদ্যুৎও না থাকে। তবে ঘরের বাইরে চারকোল গ্রিল বা কাঠ-কয়লার চুলা ব্যবহার করে বারবিকিউ স্টাইলে রান্না সেরে নিতে পারেন।
‘নো-কুক’ বা রান্না ছাড়াই পেটপূজা
যখন কোনো উপায়ই থাকে না, তখন সিরিয়াল, ফলমূল, পাউরুটি-জ্যাম কিংবা সালাদের মতো খাবারগুলো বেছে নিন। এগুলো পুষ্টিকর এবং রান্নার ঝামেলা একদমই নেই।
ব্যবহারে সতর্কতা
১। বিদ্যুৎ-সংযোগ যদি ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ থেকে আগুন বা শকের ঝুঁকি থাকে। তাই ইনস্টলেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।
২। রান্নার সময় অমনোযোগী থাকলে ইলেকট্রিক জিনিস থেকেও আগুন লাগার ঝুঁকি থাকে। তাই ব্যবহারের পর বন্ধ করতে ভুলবেন না।
৩। ইলেকট্রিক কয়েল বা গরম পাত্র স্পর্শ করলে হাত পুড়ে যেতে পারে। মনে রাখবেন, সুইচ বন্ধ করার পরও এগুলো কিছুক্ষণ গরম থাকে।
৪। গ্যাস না থাকলেও রান্নাঘরের বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা ভালো। কারণ, রান্নার ধোঁয়া ও বাষ্প বের হওয়া জরুরি।
৫। আপনার বাড়ির বিদ্যুৎ-সংযোগ ও তারের ক্ষমতার (ওয়াট) সঙ্গে মানানসই ইলেকট্রিক চুলা ও ওভেন কিনুন।
৬। পোশাক বা কাপড়চোপড় থেকে আগুন লাগার ঝুঁকি থাকে, তাই সতর্ক থাকুন।
সূত্র: হোমস অ্যান্ড গার্ডেন্স