রোজা শুরু হয়ে গেছে। প্রথম রোজা থেকেই অনেকে ইফতারের দাওয়াত পেতে শুরু করেছেন। বিশেষ এই দাওয়াতে কী পরবেন, কীভাবে সাজবেন, তা নিয়ে ভাবছেন তো? আগে থেকে একটু ঠিকঠাক করে নিলে রোজার দিনের নানান কাজের ঝামেলার মধ্য়েও সুন্দরভাবে নিজেকে সাজিয়ে নেওয়া সহজ হবে।
উজ্জ্বলতা ধরে রাখুন
রোজার দিনগুলো নানা কাজের মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়। আবার যে বাড়িতে দাওয়াত, সেখানে গিয়েও ইফতারি তৈরিতে সাহায্য করার ব্যাপার থাকে। তাই আরামদায়ক এবং কাজ করতে সুবিধা হয়, এমন পোশাক বেছে নেওয়া ভালো। এ ক্ষেত্রে সালোয়ার-কামিজ হতে পারে ভালো পছন্দ। একটু রংচঙে সালোয়ার-কামিজ পরুন। উজ্জ্বল রঙের পোশাকের সঙ্গে পরিমিত সাজ দেখতে ভালো লাগবে। এ ছাড়া আরামদায়ক কুর্তিও বেছে নিতে পারেন পোশাক হিসেবে। এ সময় গুছিয়ে চুল বেঁধে নিন। চাইলে চুল খোলা রাখতে পারেন। সে ক্ষেত্রে স্ট্রেইট করে আয়রন করে নিলে ভালো দেখাবে। ওয়াটার প্রুফ হালকা বেজের সঙ্গে চোখে ন্যুড লুক দিতে পারেন। তবে ইফতারের দাওয়াতের সাজে চোখে কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করতে যাবেন না। কারণ এতে রান্নাঘরে রান্নার সময় অসুবিধা হতে পারে। এর বদলে চোখে কাজল টেনে দিতে পারেন। ঠোঁটের সাজে যেকোনো শেড সকালে বেশ মানানসই।
সবার চোখের আরামের জন্য
স্নিগ্ধ ও অভিজাত এই দুটির মাঝামাঝি লুক ইফতারের দাওয়াতের সাজে বেশি মানানসই। যে পোশাকই পরুন না কেন, তার সঙ্গে মিলিয়ে মেকআপ করুন। নিজের বাড়িতে অতিথি ডাকলে শুধু ফেস পাউডার দিয়ে বেজ মেকআপ করে নিন। মুখের দাগ ঢাকতে কনসিলার ব্যবহার করতে পারেন। কনট্যুরিং করতে চাইলে পাউডার কনট্যুরিং কিট ব্যবহার করুন। চোখে পাউডার আইশ্যাডোর বাদামি শেড ব্যবহার করতে পারেন। চোখের কোলে হালকা কাজল এবং চোখের ওপরে চিকন করে আইলাইনারের রেখা এঁকে দিন। মাসকারার কথা কিন্তু ভুলবেন না।
এবারের রোজায় অত গরম না থাকলেও ঠান্ডা তো নেই। তাই গ্লসি বা শিমারিং লিপস্টিক এড়িয়ে ম্যাট বা ক্রিম বেজড লিপকালার ব্যবহার করুন। হালকা সাজের সঙ্গে লাল, মেরুনসহ যেকোনো গাঢ় রঙের লিপস্টিক হলেও মানাবে বেশ। ন্যুড লিপস্টিক যেকোনো মেকআপ লুকের সঙ্গে মানানসই। এ জন্য সিম্পল টু গর্জিয়াস যেকোনো লুকের ক্ষেত্রে ঠোঁটে ন্যুড লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারেন। পিচ, ন্যুড পিংক, মভ, টেরাকোটা ইত্যাদি রং দারুণ মানাবে ঈদের দিনের সাজেও। চুলের সাজে টুইস্ট, সাইড বান, ফ্রেঞ্চ বেণি বা চুল কার্ল করে বাঁধলে ভালো দেখাবে।
কখন একটু জমকালো সাজবেন?
ইফতারের সঙ্গে যদি নৈশভোজের দাওয়াত থাকে, তাহলে চোখে স্মোকি টোন, কার্ল করা চুল আর ভারী গয়নার সাজে তুলে আনুন নিজের ভেতরকার অভিজাত লুক। চোখের নিচের পাশ দিয়ে কালো, বাদামি ও গাঢ় রঙের আইশ্যাডো দিতে পারেন। চোখের নিচে পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কাজল দিন। ওপর দিয়ে টেনে আইলাইনার লাগিয়ে দিন। এটাই হোক রমজানের ইফতারের দাওয়াতের সাজ।
মেকআপের আগে ও পরে জরুরি যে কাজগুলো করতে হবে
মেকআপ করার আগে মুখের ত্বক ভালোভাবে ক্লিনজার দিয়ে ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার মেখে নিতে হবে। ময়েশ্চারাইজার লাগানোর ২-৩ মিনিট পর ত্বকে প্রাইমার লাগাতে হবে। তার কিছুক্ষণ পর হালকা করে ফাউন্ডেশন লাগানো যেতে পারে। আর কেউ যদি ফাউন্ডেশন লাগাতে না চান, তাহলে সরাসরি ফেস পাউডার লাগাতে পারেন প্রাইমারের ওপর। এরপর ব্লাশন, হাইলাইটার ও অন্যান্য প্রসাধনী ব্যবহার করা যাবে।
একটি কথা মনে রাখা জরুরি, মেকআপ হালকা হোক বা ভারী অবশ্যই সেটিং স্প্রে দিয়ে মেকআপ সেট করে নিতে হবে। আর দিন শেষে ভালো মানের ক্লিনজার দিয়ে ভালো করে মেকআপ তুলে তারপরই ঘুমাতে যাবেন।
লেখক: রূপ বিশেষজ্ঞ ও স্বত্বাধিকারী, বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ কেয়ার